১০:১৭ এম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার জবাবে জর্ডান, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনসহ বেশ কিছু দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
রোববার (১২ জুলাই) পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ঘাঁটিটির যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কাতারের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলার ফলে কোন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তারা নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার এবং একটি রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যোগাযোগ সিস্টেম (কমিউনিকেশন সিস্টেম) এবং একটি রাডার স্থাপনায়ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানান, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে তারা একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ঘাঁটির কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোন রাখা হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়ে গেছে।
এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী একটি জাহাজে হামলার পর ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আইআরজিসির দাবি, সংশ্লিষ্ট জাহাজটি নিজের অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা (ট্র্যাকিং সিস্টেম) বন্ধ করে এবং অনুমোদিত নৌপথ ছেড়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছিল। একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায়, জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলার পরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে। সেন্টকমের দাবী অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে যায়। সর্বশেষ হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেটি আর যাত্রা চালিয়ে যেতে পারেনি। এছাড়া, জাহাজের এক বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানিয়েছে তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার জন্য জবাবদিহির পরও সমঝোতা স্মারক মেনে চলার আরেকটি সুযোগ ইরানকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আবারও তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওই বিবৃতি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন তার মূল্য দিতে হবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একযোগে ইরানে বিমান হামলা শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়। যুদ্ধের অবসানে কয়েকটি দেশের সঙ্গে ওমানও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কিন্তু এই নৌপথে ইরানের অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন