১০:২৯ এম
রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বন্যার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে আরও। দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থা তৈরি হয়েছে।
রাইংখ্যং নদীর পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। বাজার, বসতঘর এবং সড়ক সম্পূর্ণরূপে তলিয়ে গেছে। শক্তিশালী স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় প্রশাসনের ত্রাণ পৌঁছানো বেশ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল রাইংখ্যং নদীর মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন হতে না পারার ফলে এই মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফারুয়া বাজার এবং আশপাশের এলাকা। পুরো ফারুয়া বাজার এখন পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে বাজারের দেড় শতাধিক দোকানে কোমর পানি জমে গেছে। অর্থাৎ পুরো বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসী মানুষ স্থানীয় ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাইংখ্যং নদীতে তীব্র স্রোত থাকার কারণে উপজেলা প্রশাসন ফারুয়ায় সরকারি ত্রাণ পৌঁছাতে পারছে না।
বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন বলেন, 'পাহাড়ি ঢলের কারণে রাইংখ্যং নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় আমরা ফারুয়াতে পৌঁছাতে পারছি না।' তিনি আরও জানান, 'শনিবার সকাল, দুপুর এবং বিকেল তিন দফায় নৌকা নিয়ে ফারুয়ার উদ্দেশে যাত্রা করলেও ফিরে আসতে হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'স্রোতের তীব্রতা এত বেশি যে কোনো নৌকাচালক যেতে সাহস পাচ্ছেন না। আগে সীমান্ত সড়ক দিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু প্রবল বর্ষণের কারণে সীমান্ত সড়কের ভিউ পয়েন্টে সড়কটি সম্পূর্ণরূপে ধসে গেছে, ফলে সেই পথও ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টিপাত কমে গেলে আশা করছি আগামীকাল স্রোতের তীব্রতা কমবে এবং আমরা ফারুয়া পৌঁছাতে পারব।'
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রুহুল আমিন এ বিষয়ে বলেন, 'আমরা ফারুয়াতে ত্রাণ বিতরণের জন্য গতকাল থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।' তবে তিনি জানিয়েছেন, 'আমরা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি; ফারুয়ার স্থানীয় বাজার থেকেই চাল, ডাল এবং তেল কিনে দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণের চেষ্টা করছি।'
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা দুর্গতদের জন্য বিলাইছড়িতে বর্তমানে মোট ৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। যেখানে গত রাত পর্যন্ত ১৮৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ফারুয়া ইউনিয়নে রয়েছে মাত্র একটি আশ্রয়কেন্দ্র। ফলে সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। ফারুয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে ঠিক কতজন আশ্রয় কেন্দ্রে আছন তা জানা যাচ্ছে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন