ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ওহাইওতে ৩৪ বছর পর ধর্ষক শনাক্ত, মামলা করতে পারেনি পুলিশ


ওহাইওতে ৩৪ বছর পর ধর্ষক শনাক্ত, মামলা করতে পারেনি পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ৩৪ বছর পর ধর্ষকের পরিচয় শনাক্ত হলেও, তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করতে পারেনি পুলিশ। কারণ, ঘটনার সময় নির্ধারিত আইনগত সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছিল।

ভুক্তভোগী ডানা বিট্টি ১৯৮৯ সালের ১ আগস্ট ভয়াবহ ধর্ষণের শিকার হন। মুখোশ পরা এক ব্যক্তি তার গলায় ছুরি ধরে মুখ টেপ দিয়ে আটকে দেন। এরপর তাকে বিছানার সঙ্গে বেঁধে কয়েক ঘণ্টা ধরে যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর বিট্টি পুলিশকে বিষয়টি জানান। তদন্তকারীরা বছরের পর বছর ধরে অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে তার পক্ষে শক্ত আলিবি থাকায় তাকে বাদ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

৩৪ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অপরাধীর পরিচয় শনাক্ত হয়। তদন্তকারীরা জিনগত বংশপরিচয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানতে পারেন, ডিএনএটি চিকিৎসক ফ্রেডেরিক ট্যানজারের। ১৯৮৯ সালে তিনি বিট্টির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর স্বামী ছিলেন, অর্থাৎ বিট্টি তাকে চিনতেন।

তদন্তকারীরা ট্যানজারকে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে জজের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ধর্ষণের মামলা করার আইনি সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে।

ঘটনার সময়, অর্থাৎ ১৯৮৯ সালে ওহাইওতে ধর্ষণের মামলার সময়সীমা ছিল মাত্র ছয় বছর। ১৯৯৯ সালে তা ২০ বছর করা হয়। পরে ২০১৫ সালে তা ২৫ বছর করা হয় এবং ডিএনএ প্রমাণ পাওয়া গেলে আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়।

তদন্তকারীরা প্রথমে ভেবেছিলেন, বিট্টির পোশাক থেকে পাওয়া জৈবিক নমুনার কারণে ডিএনএ-ভিত্তিক অতিরিক্ত পাঁচ বছরের সুযোগ কাজে লাগানো যাবে। কিন্তু আইন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মূল ছয় বছরের সময়সীমা আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই অতিরিক্ত সময় কার্যকর হবে না।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সিনসিনাটি পুলিশের গোয়েন্দা জেফ স্মলউডের ভাষ্য, জজের কার্যালয় তাদের জানায়, আইন ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল এবং এই মামলায় ধর্ষণের অভিযোগে ট্যানজারকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব নয়।

তবে তদন্তকারীরা এখানেই থেমে যাননি। তারা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা চান। ট্যানজার ফেলে দেওয়া একটি কফির কাপ সংগ্রহ করে সেটি পরীক্ষা করা হয়। এতে পাওয়া ডিএনএ বিট্টির পোশাকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে মিলে যায়।

তদন্তকারীরা ট্যানজারের বিরুদ্ধে অন্য কোনো অপরাধে মামলা করা যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখেন। তার সাবেক স্ত্রীর ওপর মাদক প্রয়োগ এবং সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্কের অভিযোগও সামনে আসে। কিন্তু ওই ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও সে সময়ের ওহাইও আইনের একটি বিধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় ছিল।

ওহাইও ২০২৪ সালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে ওই আইনি ছাড় বাতিল করে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

শেষ পর্যন্ত ট্যানজারকে ধর্ষণের অভিযোগে নয়, কেন্দ্রীয় কর্মকর্তার কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা করা হয়। তদন্তকারীরা তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে নয়, সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন।

তাকে বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিট্টিকে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত চলছে। ট্যানজারকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন কি না।

জিজ্ঞাসাবাদে ট্যানজার দাবি করেন, ১৯৮৯ সালের ১ আগস্ট তিনি বিট্টির সঙ্গে কথা বলেননি, তার বাসায় যাননি এবং তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কও করেননি। পরে তদন্তকারীরা তার বক্তব্যকে মিথ্যা বলে প্রমাণ করেন।

২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর ট্যানজারকে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তার কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি দোষ স্বীকার করেন। চলতি বছর তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে ট্যানজার বিট্টিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। তবে কেন তিনি এমন করেছিলেন, তা নিয়ে তিনি বলেন, তিনি এখনো এর কারণ বোঝার চেষ্টা করছেন।

ডানা বিট্টির ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণসহ গুরুতর যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি সময়সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটির ৩০টির বেশি অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে গুরুতর যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ক্ষেত্রে এখনো কোনো না কোনো সময়সীমা রয়েছে।

অঙ্গরাজ্যভেদে এই সময়সীমায় বড় পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ১০ বছর বা তার কম সময়ের মধ্যে মামলা করতে হয়, আবার কোথাও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো সময়সীমা নেই।

আইন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের অনেকে গুরুতর যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা তুলে দেওয়ার পক্ষে। তাদের মতে, ডিএনএ প্রমাণের মতো আধুনিক প্রযুক্তি বহু বছর পরও অপরাধী শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

তবে কেউ কেউ মনে করেন, আইনি সময়সীমা পুরোপুরি তুলে দিলে তদন্ত ও মামলা দ্রুত করার জন্য কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ কমে যেতে পারে। দক্ষিণ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাথান রাউস বলেন, যৌন নিপীড়নের মামলায় তদন্ত ও বিচার ঐতিহাসিকভাবে ধীরগতির বা দীর্ঘসূত্রতার শিকার হয়েছে। তবে সময়সীমা পুরোপুরি বাতিল করাও দ্রুত মামলা নিশ্চিত করার উপায় নয়।

ধর্ষণের শিকার ডানা বিট্টির কাছে এই আইনি সময়সীমা শুধু একটি হিসাবের বিষয় নয়। তার মতে, অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হলে সেটি তার জন্য স্বস্তির কারণ হতো।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীর প্রবীণ আইনজীবী গোলাম মাইন উদ্-দীন শুক্রবার রাতে মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


ফেনীর প্রবীণ আইনজীবী গোলাম মাইন উদ্-দীন শুক্রবার রাতে মারা গেছেন

ফেনীর প্রবীণ আয়কর আইনজীবী কাজী গোলাম মাইন উদ্-দীন (৯৪) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪৭ মিনিটে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুর সময় তিনি তিন ছেলে, দুই মেয়ে, দুই ভাই, তিন বোন, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা শনিবার (৩ অক্টোবর) বাদ ফজর ঢাকার আফতাব নগরের এইচ ব্লকের বায়তুস সালাহ্ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা বাদ জোহর ফেনীর মাথিয়ারা কাজী বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে এবং পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

কাজী গোলাম মাইন উদ্-দীন ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর ফেনী সদর থানার মাথিয়ারা কাজী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন তৎকালীন ভারতবর্ষের সুপরিচিত কাজী কেমিক্যাল ওয়ার্কসের সত্বাধিকারী কাজী আলী নোয়াজ এবং মাতা জায়েদা খাতুন। তিনি ৭ ভাই ও ৭ বোনের মধ্যে সবার বড়।

১৯৫০ সালে ফেনী হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং পরে ফেনী কলেজ থেকে যথাক্রমে আই.কম এবং বি.কম পাশ করে পৈত্রিক ব্যবসা পরিচালনা করেন। ১৯৬১ সালে তিনি ব্যবসার পাশাপাশি আয়কর উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেন।

তিনি একাধিকবার ফেনী জেলা কর আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া, তিনি লায়ন্স ক্লাব ফেনীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ফেনী ‘ল’ কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং মাথিয়ারা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি ছিলেন।

১৯৫৯ সালে কুমিল্লার পয়ালগাছা চৌধুরী বাড়ির বিপ্লবী কবি ও প্রখ্যাত সাংবাদিক অধুনালুপ্ত দৈনিক ইনসাফ-এর সম্পাদক মহীউদ্দিন আহমদ-এর বড় মেয়ে সাকিনা আহমেদ চৌধুরাণীর সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তার পাঁচ সন্তান রয়েছে, কাজী নওফেল, কণা, লুবনা, তানভীর আলাদিন (সিনিয়র সাংবাদিক, বাসস) ও অ্যাডভোকেট কাজী ফয়সাল। এক দশক আগে তার স্ত্রী মারা গেছেন।

কাজী গোলাম মাইন উদ্-দীনের প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- ডাক্তারের ঘোড়ার ডাক, তাসের ঘরে মাধবীলতা, খাজু উকিলের ডায়েরি ও ইউরেকা আমার আমেরিকা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে’ যোগ দিয়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে’ যোগ দিয়েছেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সংলাপ ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এই আন্তর্জাতিক সংলাপের প্রতিপাদ্য হলো ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স, ফিউচারস : নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন এ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’, যা সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) দ্বারা আয়োজিত হচ্ছে এবং এটি তিন দিনব্যাপী চলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান, বৈশ্বিক পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সম্ভাবনা নিয়ে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করবেন।

সংলাপে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করছেন। এই আয়োজন ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

সংলাপের অধিবেশনগুলোতে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিপসি রোজের সঙ্গী উরকারের মৃত্যুর নতুন তথ্য, ময়নাতদন্তে মাদক গ্রহণের সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


জিপসি রোজের সঙ্গী উরকারের মৃত্যুর নতুন তথ্য, ময়নাতদন্তে মাদক গ্রহণের সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিজ বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে জিপসি রোজ ব্ল্যানচার্ডের সঙ্গী কেন উরকারকে। উরকারের বয়স ছিল ৩৪ বছর। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার মৃত্যু মাদক অতিরিক্ত গ্রহণের কারণে ঘটেছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে লাফোরশ শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা রেসল্যান্ড এলাকার একটি বাড়িতে যান। সেখানে তারা উরকারকে মৃত অবস্থায় আবিষ্কার করেন।

শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুর সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উরকারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন একজন ব্যক্তি ও উরকারের কর্মস্থলের কর্মকর্তা। তারা একটি খোলা জানালা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং বিছানায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীর স্পর্শ করে ঠান্ডা অনুভূত হয়।

বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কর্মকর্তারা একটি বাথরুমে সিরিঞ্জ ও মাদক ব্যবহারের বিভিন্ন সরঞ্জাম আবিষ্কার করেন। সেখানেই বাদামি রঙের গুঁড়ো জাতীয় একটি পদার্থও পাওয়া যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিছানার পাশে একটি টেবিলে একটি সিরিঞ্জ, খাপসহ একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুটি পানীয়ের গ্লাস ছিল। কর্মকর্তাদের ধারণা, উরকার সেখানে বেশ কিছু সময় ধরে অবস্থান করছিলেন।

যিনি প্রথম উরকারকে দেখেন, তিনি জানান, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি ও তার স্ত্রী উরকারের সঙ্গে গির্জায় গিয়েছিলেন। সেখানে উরকার হতাশা ও মন খারাপের কথা বলেছিলেন।

তিনি আরও জানান, উরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নীরব ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে তাকে গাড়ি চালাতে দেখা যায়। তার আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে এবং তিনি কাজে না আসায় তারা তার খোঁজ নিতে বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

জিপসি রোজ ব্ল্যানচার্ড গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উরকার অতিরিক্ত মাদক গ্রহণ করেছিলেন। তার মৃত্যুতে তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না। তিনি বলেন, "এতটাই ভেঙে পড়েছি যে ঠিকমতো চিন্তাও করতে পারছি না এবং কান্না করতে করতে আমার গলা ব্যথা হয়ে গেছে।"

উরকারের মৃত্যু তার ৩৪তম জন্মদিনেই ঘটেছে বলে জানা গেছে।

জিপসি রোজ ও উরকারের পরিচয় হয়েছিল চিঠির মাধ্যমে পরিচিত হওয়ার একটি কর্মসূচিতে। তখন জিপসি রোজ তার মাকে হত্যার ঘটনায় কারাগারে ছিলেন। ২০১৫ সালে তার মা ক্লডিন ‘ডি ডি’ ব্ল্যানচার্ডকে হত্যার ঘটনায় জিপসি রোজ দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার দায় স্বীকার করেন। তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

জিপসি রোজ জানিয়েছেন, তার মা বছরের পর বছর তাকে নির্যাতন করেছেন এবং গুরুতর অসুস্থতার ভান করতে বাধ্য করেছিলেন। এ ঘটনার পর তার মায়ের হত্যাকাণ্ড ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

হত্যাকাণ্ডে জিপসি রোজের তৎকালীন প্রেমিক নিকোলাস গোডজনও জড়িত ছিলেন। তিনি তার মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন এবং পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান।

এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে ২০১৭ সালে একটি তথ্যচিত্র এবং ২০১৯ সালে একটি ধারাবাহিক নির্মিত হয়। ২০২৩ সালে জিপসি রোজকে আগাম মুক্তি দেওয়া হয়।

জিপসি রোজ ও উরকারের সম্পর্কের মধ্যে একসময় বিচ্ছেদ হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে তারা আবার একসঙ্গে হন। একই বছর তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।

জিপসি রোজ বলেন, তাদের সম্পর্কের সময় উরকারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচনা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উরকারের প্রতি যে মাত্রায় আক্রমণ ও হয়রানি করা হয়েছে, তা কোনো মানুষেরই সহ্য করা উচিত নয়।

তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের এই চাপ ও হয়রানি উরকারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তার মৃত্যু যেন মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—পর্দার আড়ালে থাকা প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি খবর ও প্রতিটি মন্তব্যের পেছনে একজন বাস্তব মানুষ আছেন।

জিপসি রোজ আরও বলেন, তিনি চান তাদের মেয়ে বড় হয়ে জানুক, তার বাবা তাকে কতটা ভালোবাসতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত মানুষের মন্তব্যের বাইরে তিনি আসলে কেমন মানুষ ছিলেন।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যালন ডি’অর নিয়ে কুকুরেয়ার সতীর্থদের প্রতি সমর্থন ও মজার মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


ব্যালন ডি’অর নিয়ে কুকুরেয়ার সতীর্থদের প্রতি সমর্থন ও মজার মন্তব্য

স্পেনের সংবাদ সম্মেলনে ব্যালন ডি’অর নিয়ে মজার মন্তব্য করে হাসির খোরাক জুগিয়েছেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া। সম্ভাব্য বিজয়ী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি রসিকতা করে বলেন, "ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে নিজেকেই ভোট দিতেন।" তবে পুরস্কার জয়ের দৌড়ে থাকা সতীর্থদের নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন তিনি।

স্পেনের আসন্ন উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কুকুরেয়া। এ সময় ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "আমাকে যদি ভোট দিতে হতো, আমি নিজেকেই ভোট দিতাম।"

কিন্তু নিজের এই রসিকতার পরই বিষয়টি পরিষ্কার করেন স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডার। মনোনীতদের মধ্যে তার দুই ক্লাব সতীর্থ থাকায় বিজয়ী যে-ই হোন, তাতে তার আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।

কুকুরেয়ার ভাষায়, "সৌভাগ্যবশত, সত্যি বলতে মনোনীতদের মধ্যে দুজন আমার সতীর্থ। যে যোগ্য, সে-ই জিতুক। যেই জিতুক, আমি খুশি হব। যারা ভোট দেন, সিদ্ধান্তটা তাদের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।"

সতীর্থদের প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি পুরস্কার জিতলে তাঁদের কাছ থেকে ছোটখাটো উপহার পাওয়ার আশাও মজার ছলে প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কুকুরেয়ার জনপ্রিয়তার বিষয়টিও উঠে আসে। স্প্যানিশ সমর্থকদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত নন এই ডিফেন্ডার। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাঁর ব্যতিক্রমী চেহারাও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে জাতীয় দলের হয়ে ভালো পারফরম্যান্স করলেও ক্লাব ফুটবলে নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে আরও সময় প্রয়োজন বলে স্বীকার করেছেন কুকুরেয়া। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া এবং সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়ানোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

কুকুরেয়া বলেন, "জাতীয় দলে আমি অনেক ম্যাচ খেলেছি। অন্যদিকে, মাদ্রিদ আমার জন্য নতুন একটি ক্লাব এবং আমরা প্রায় কোনো প্রাক-মৌসুমও পাইনি। আমি ১০টিরও কম ম্যাচ খেলেছি।"

তিনি আরও বলেন, "অবশ্যই এমন কিছু বিষয় আছে, যেগুলো আমাকে উন্নত করতে হবে এবং সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। তবে আমি নিজের সেরাটা দিতে ও কঠোর পরিশ্রম করতে চাই, যাতে জাতীয় দলে যে কুকুরেয়াকে দেখা যায়, রিয়াল মাদ্রিদেও যেন সেই সংস্করণটিই দেখা যায়।"

সূত্র: গোল ডটকম

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%