প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিজ বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে জিপসি রোজ ব্ল্যানচার্ডের সঙ্গী কেন উরকারকে। উরকারের বয়স ছিল ৩৪ বছর। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার মৃত্যু মাদক অতিরিক্ত গ্রহণের কারণে ঘটেছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে লাফোরশ শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা রেসল্যান্ড এলাকার একটি বাড়িতে যান। সেখানে তারা উরকারকে মৃত অবস্থায় আবিষ্কার করেন।
শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুর সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উরকারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন একজন ব্যক্তি ও উরকারের কর্মস্থলের কর্মকর্তা। তারা একটি খোলা জানালা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং বিছানায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীর স্পর্শ করে ঠান্ডা অনুভূত হয়।
বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কর্মকর্তারা একটি বাথরুমে সিরিঞ্জ ও মাদক ব্যবহারের বিভিন্ন সরঞ্জাম আবিষ্কার করেন। সেখানেই বাদামি রঙের গুঁড়ো জাতীয় একটি পদার্থও পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিছানার পাশে একটি টেবিলে একটি সিরিঞ্জ, খাপসহ একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুটি পানীয়ের গ্লাস ছিল। কর্মকর্তাদের ধারণা, উরকার সেখানে বেশ কিছু সময় ধরে অবস্থান করছিলেন।
যিনি প্রথম উরকারকে দেখেন, তিনি জানান, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি ও তার স্ত্রী উরকারের সঙ্গে গির্জায় গিয়েছিলেন। সেখানে উরকার হতাশা ও মন খারাপের কথা বলেছিলেন।
তিনি আরও জানান, উরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নীরব ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে তাকে গাড়ি চালাতে দেখা যায়। তার আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে এবং তিনি কাজে না আসায় তারা তার খোঁজ নিতে বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
জিপসি রোজ ব্ল্যানচার্ড গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উরকার অতিরিক্ত মাদক গ্রহণ করেছিলেন। তার মৃত্যুতে তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না। তিনি বলেন, "এতটাই ভেঙে পড়েছি যে ঠিকমতো চিন্তাও করতে পারছি না এবং কান্না করতে করতে আমার গলা ব্যথা হয়ে গেছে।"
উরকারের মৃত্যু তার ৩৪তম জন্মদিনেই ঘটেছে বলে জানা গেছে।
জিপসি রোজ ও উরকারের পরিচয় হয়েছিল চিঠির মাধ্যমে পরিচিত হওয়ার একটি কর্মসূচিতে। তখন জিপসি রোজ তার মাকে হত্যার ঘটনায় কারাগারে ছিলেন। ২০১৫ সালে তার মা ক্লডিন ‘ডি ডি’ ব্ল্যানচার্ডকে হত্যার ঘটনায় জিপসি রোজ দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার দায় স্বীকার করেন। তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
জিপসি রোজ জানিয়েছেন, তার মা বছরের পর বছর তাকে নির্যাতন করেছেন এবং গুরুতর অসুস্থতার ভান করতে বাধ্য করেছিলেন। এ ঘটনার পর তার মায়ের হত্যাকাণ্ড ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
হত্যাকাণ্ডে জিপসি রোজের তৎকালীন প্রেমিক নিকোলাস গোডজনও জড়িত ছিলেন। তিনি তার মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন এবং পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান।
এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে ২০১৭ সালে একটি তথ্যচিত্র এবং ২০১৯ সালে একটি ধারাবাহিক নির্মিত হয়। ২০২৩ সালে জিপসি রোজকে আগাম মুক্তি দেওয়া হয়।
জিপসি রোজ ও উরকারের সম্পর্কের মধ্যে একসময় বিচ্ছেদ হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে তারা আবার একসঙ্গে হন। একই বছর তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।
জিপসি রোজ বলেন, তাদের সম্পর্কের সময় উরকারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচনা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উরকারের প্রতি যে মাত্রায় আক্রমণ ও হয়রানি করা হয়েছে, তা কোনো মানুষেরই সহ্য করা উচিত নয়।
তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের এই চাপ ও হয়রানি উরকারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তার মৃত্যু যেন মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—পর্দার আড়ালে থাকা প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি খবর ও প্রতিটি মন্তব্যের পেছনে একজন বাস্তব মানুষ আছেন।
জিপসি রোজ আরও বলেন, তিনি চান তাদের মেয়ে বড় হয়ে জানুক, তার বাবা তাকে কতটা ভালোবাসতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত মানুষের মন্তব্যের বাইরে তিনি আসলে কেমন মানুষ ছিলেন।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন