শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩৪ পি.এম
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : কিশোরীর স্বেচ্ছায় ঘর ছাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নেই বলে অভিযোগ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে অপপ্রচার শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাফ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীর স্বেচ্ছায় ঘর ছাড়ার ঘটনাকে 'পুজা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ' বলে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পূজা দেখতে গিয়ে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
যদিও বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, এটি আসলে কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়। কিশোরীর পরিবার এবং পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সাথে ধর্মীয় কোনো সম্পর্ক নেই। কিশোরী বর্তমানে সিলেটে তার এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছে। তিনি জানিয়েছেন যে, বাবার সাথে রাগ করে স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছেন।
অনুসন্ধানে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি বাংলাফ্যাক্টকে জানিয়েছেন, ‘বাবার সাথে রাগ করে মেয়েটি স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছে।
মেয়েটির বাবা সবজি বিক্রেতা। মা বেঁচে নেই। মেয়েটি বর্তমানে সিলেটে তার এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছে।’
এছাড়া, স্থানীয় একাধিক সাংবাদিকের সাথে কথা বলেও কিশোরীর স্বেচ্ছায় ঘর ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাফ্যাক্ট সিলেটে অবস্থানকারী ভিক্টিম কিশোরীর বক্তব্যের একটি ভিডিও সংগ্রহ করেছে। ভিডিওতে কিশোরী বলেন, ‘আমি এক আত্মীয়ের বাসায় পালিয়ে আছি। আমি বাবার অত্যাচারের শিকার। বাবাকে বুঝিয়েছি বাবা বোঝেনি। বাধ্য হয়ে বের হয়েছি, আমি আর যাবো না। আমি এখানে ভালো আছি।’
আলোচিত ঘটনাটির সাথে ধর্মীয় কোনো যোগসূত্র নেই বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাফ্যাক্ট।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ ও প্রবাস থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে।
সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও সরকারের বিরুদ্ধে গুজব, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।
'বাংলাফ্যাক্ট' প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবি'র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম, যারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় কলম্বিয়ার ডানপন্থি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে পাঁচ সাংবাদিক পুলিশের হামলার শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার একটি অলাভজনক সংস্থা বা এনজিও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফাউন্ডেশন ফর প্রেস ফ্রিডম (এফএলআইপি) জানায়, ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা এবং তাদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে আটক করার ঘটনা ঘটেছে।
এই সময় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলার সরকারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এফএলআইপি একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে—এটি উদ্বেগজনক।’
কলম্বিয়াভিত্তিক সংস্থাটি জানিয়েছে, মেডেলিন, ইবাগে এবং রাজধানী বোগোতায় এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিক্ষোভের শুরুতে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু রাতে তা সহিংস হয়ে ওঠে। এ সময় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা স্টান গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
কলম্বিয়ার সরকারের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। গত আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট দে লা এস্প্রিয়েলা সরকারি তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ তার নিজস্ব দপ্তরে কেন্দ্রীভূত করেছেন। সরকারের কোনো মন্ত্রীকেই সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৃত্যু এমন একটি বাস্তবতা, যা থেকে কেউ মুক্তি পেতে পারে না। দুনিয়ার জীবন শেষ হলে, মানুষের সামনে পরকালের যাত্রা শুরু হয়। ইসলামে জীবদ্দশায় করা ভালো ও মন্দ কাজের ফলাফল সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কোরআন ও হাদিসে মৃত্যুর সময় মানুষের অনুশোচনা, কবরের জীবন এবং পুনরুত্থানের দিনের বর্ণনা রয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে, মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়কে ‘বরযখ’ বলা হয়। এই জীবন সম্পর্কে কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে।
মৃত্যুর মুখোমুখি হলে অনেক মানুষ দুনিয়ায় ফিরে এসে সৎকাজ করার আকাঙ্ক্ষা করবে। কিন্তু তখন ফিরে যাওয়ার সুযোগ আর থাকবে না। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন—
حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ ٩٩ لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ كَلَّا ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ۖ وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ ١٠٠
অর্থ: অবশেষে যখন তাদের কারও মৃত্যু আসে, তখন সে বলে, হে আমার রব! আমাকে ফিরিয়ে দিন, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি, সেখানে সৎকাজ করতে পারি। কখনোই নয়! এটি তো কেবল তার মুখের কথা। আর তাদের সামনে রয়েছে বরযখ, পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত। (সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত ৯৯-১০০)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, মৃত্যুর পর দুনিয়ায় ফিরে এসে নতুন করে সৎকাজ করার সুযোগ পাওয়া যাবে না। তাই জীবিত থাকতেই নামাজ, ইবাদত, মানুষের হক আদায় এবং ভালো কাজের প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরি।
মৃত্যুর পরও কি শাস্তি হতে পারে?
কোরআনে ফেরাউনের অনুসারীদের শাস্তির উল্লেখ করে বরযখের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
فَوَقَاهُ اللَّهُ سَيِّئَاتِ مَا مَكَرُوا ۖ وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ ٤٥ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا ۖ وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ ٤٦
অর্থ: অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের ষড়যন্ত্রের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করলেন এবং ফেরাউনের অনুসারীদের ঘিরে ধরল কঠিন শাস্তি। আগুন, তাদের সকাল-সন্ধ্যায় তার সামনে উপস্থিত করা হয়। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন বলা হবে, ফেরাউনের অনুসারীদের কঠিনতম শাস্তিতে প্রবেশ করাও। (সুরা গাফির, আয়াত ৪৫-৪৬)
আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী, ফেরাউনের অনুসারীদের কিয়ামতের আগেই সকাল-সন্ধ্যায় আগুনের সামনে উপস্থিত করা হয়। এরপর কিয়ামতের দিন তাদের জন্য আরও কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। ইসলামি ব্যাখ্যায় এই আয়াতকে কবরের শাস্তি ও বরযখের জীবনের অন্যতম প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মুমিনের মৃত্যুর সময় কী ঘটে?
সাহাবি বারা ইবনে আযিব (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিন ও অবিশ্বাসীর মৃত্যুর সময়ের অবস্থা এবং কবরের জীবনের বিভিন্ন বিষয় বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসটি সুনানে আবু দাউদসহ হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মুমিনের মৃত্যুর সময় রহমত ও সুসংবাদের সঙ্গে ফেরেশতারা আসেন। তার আত্মা গ্রহণের পর তাকে সম্মানজনকভাবে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কবরের জীবনে তাকে প্রশ্ন করা হয়—তার রব কে, তার ধর্ম কী এবং তার কাছে প্রেরিত রাসুল কে?
মুমিন আল্লাহকে রব, ইসলামকে ধর্ম এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে আল্লাহর রাসুল হিসেবে স্বীকার করবে। তখন তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ, কবরের প্রশস্ততা এবং জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়ার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
হাদিসে আরও উল্লেখ আছে, তার কাছে সুন্দর চেহারা ও সুগন্ধিযুক্ত একজন ব্যক্তি আসবেন। মুমিন জানতে চাইবে, তিনি কে? উত্তরে বলা হবে, তিনি তার সৎকর্মের প্রতিরূপ।
অবিশ্বাসীর মৃত্যুর অবস্থা কেমন?
একই হাদিসে অবিশ্বাসীর মৃত্যুর সময়ের বিপরীত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, তার আত্মা গ্রহণের সময় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এরপর কবরের প্রশ্নের জবাব দিতে সে ব্যর্থ হবে।
তার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা এবং জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। তার কাছে কুৎসিত চেহারা ও দুর্গন্ধযুক্ত একজন ব্যক্তি আসবেন। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলবেন, তিনি ওই ব্যক্তির অসৎকর্মের প্রতিরূপ।
এ বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, ইসলামি বিশ্বাসে মানুষের কাজের সঙ্গে পরকালের পরিণতির সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির শেষ পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত রায় দেওয়ার অধিকার মানুষের নেই; চূড়ান্ত বিচার আল্লাহর হাতে।
কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাইতে বলেছেন নবীজি।
বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে এসেছে, এক আনসারি সাহাবির দাফনের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলেন। তিনি তাঁদের এ বিষয়ে সতর্ক করেন এবং মৃত্যুর পরের জীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
তাহলে কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং সৎকাজে মনোযোগী হওয়া মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মুখে বিশ্বাসের কথা বলাই যথেষ্ট নয়; জীবনে সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটানোও জরুরি।
কিয়ামতের আগে বরযখ, এরপর পুনরুত্থান
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মাঝের জীবন বরযখ। এই সময়ে মানুষ দুনিয়ায় ফিরে এসে আমল করার সুযোগ পায় না। কিয়ামতের দিন সবাইকে পুনরুত্থিত করা হবে এবং আল্লাহর সামনে নিজেদের কাজের হিসাব দিতে হবে।
সৎকর্মশীল মুমিনদের সঙ্গে তাদের ঈমানদার সন্তানদের মিলনের সুসংবাদও কোরআনে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُم بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُم مِّنْ عَمَلِهِم مِّن شَيْءٍ ۚ كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ ٢١
অর্থ: আর যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানের সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আমরা তাদের সঙ্গে তাদের সন্তান-সন্ততিকে মিলিত করব। আর তাদের কর্মের কোনো অংশই কমাব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জিত কর্মের জন্য দায়বদ্ধ। (সুরা আত-তুর, আয়াত ২১)
মৃত্যুর আগেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি
কোরআন ও হাদিসের এসব বর্ণনা মানুষকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করতে এবং পরকালের জন্য প্রস্তুতি নিতে শিক্ষা দেয়। জীবনের কোনো সময়ই সৎকাজের সুযোগকে অবহেলা করা উচিত নয়। নামাজ আদায়, অন্যের অধিকার রক্ষা, মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ, অন্যায় থেকে বিরত থাকা এবং ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া—এসব কাজের মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের জীবনকে সুন্দর করতে পারেন।
মৃত্যুর পর ফিরে এসে ভালো কাজ করার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং জীবিত থাকতেই সৎকাজে মনোযোগী হওয়াই কোরআন-হাদিসের অন্যতম শিক্ষা।
সূত্র: হাদীস বিডি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) আগামী ২৭ অক্টোবর ‘মাভাবিপ্রবি দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা-গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা, সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা।
মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও কেক কাটার মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ‘মাভাবিপ্রবি ক্যারিয়ার অ্যান্ড জব ফেয়ার-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।
দিবসের দ্বিতীয় পর্বে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সংস্থার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, গবেষণা পুরস্কার প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।
দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের প্রস্তুতি, গবেষণার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবনী উদ্যোগের বিকাশ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিবসটি সফলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিমকে সদস্য-সচিব করে একটি মূল কমিটি ও ১৫টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম মূল কমিটি ও উপকমিটিগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সভা করে আয়োজনের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করছেন।
উল্লেখ্য, মাভাবিপ্রবি দিবস ১৬ অক্টোবর হলেও পূজার ছুটির কারণে ২৭ অক্টোবর দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। এবারের আয়োজনে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর: এক হাতে চা-কফির ফ্লাস্ক, চোখে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন, আর হৃদয়ে হালাল উপার্জনের দৃঢ় প্রত্যয়। প্রতিদিন জীবনের কঠিন বাস্তবতার কাছে হার না মেনে পথে নামেন হাবিবুল্লাহ নামে এক যুবক। ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তাঁকে দেখা যায়।
কখনো বোয়ালমারী বাজারের হাসপাতালের গলি, কখনো চৌরাস্তা, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, মাছ বাজার, থানা রোডের অলিগলিতে, এছাড়া কখনো দোকানের সামনে, আবার কখনো পথচারীদের কাছে গিয়ে বিক্রি করেন চা-কফি। তবে তাঁর আরেকটি পরিচয় হলো—তিনি একজন মসজিদের ইমাম। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংসারের খরচ জোগাতে চা-কফি বিক্রি করে চলেছেন হাবিবুল্লাহ। তাঁর এই জীবনসংগ্রাম যেন বলে দেয়, কোনো সৎ কাজই ছোট নয়, পরিশ্রম কখনো অসম্মানের নয়।
বাগেরহাট থেকে আসা এই যুবক ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নে বসবাস করেন। স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করেন তিনি। কিন্তু ইমামতির সম্মানী দিয়ে পরিবারের সব খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সংসারের বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে অবসর সময়ে শেখর থেকে প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বোয়ালমারী পৌর সদরে চলে আসেন। এরপর পায়ে হেঁটে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন গরম চা ও কফি।
হাবিবুল্লাহর কাছে এই ফ্লাস্ক কেবল চা-কফি বিক্রির উপকরণ নয়; এটি তাঁর আত্মসম্মান, দায়িত্ববোধ ও পরিবারের জন্য নিরন্তর লড়াইয়ের প্রতীক। একদিকে মসজিদে ইমামতি করে মানুষকে ধর্মের পথে চলার আহ্বান জানান, অন্যদিকে নিজের জীবনেও সততা ও হালাল উপার্জনের আদর্শ ধারণ করে চলেছেন তিনি।
হাবিবুল্লাহ বলেন, “ইমামতির সম্মানী দিয়ে সংসারের সব খরচ চালানো কঠিন। পরিবারের দায়িত্ব তো পালন করতেই হবে। তাই অবসর সময়ে চা-কফি বিক্রি করি। কোনো কাজই ছোট নয়, হালালভাবে উপার্জন করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে নিজের পরিশ্রমে উপার্জন করে পরিবার চালাতে চাই।”
নামাজের সময় হলে ব্যবসা গুটিয়ে ফিরে যান মসজিদে। ইমামতির দায়িত্ব পালনে যেমন অবহেলা করেন না, তেমনি পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকেও পিছিয়ে থাকেন না। জীবনের এই দ্বিমুখী দায়িত্ব পালনে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা স্থানীয় মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল সেখ বলেন, “হাবিবুল্লাহর জীবনসংগ্রাম আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। একজন মসজিদের ইমাম হয়েও সংসার চালানোর জন্য পথে পথে চা-কফি বিক্রি করতে তাঁর কোনো দ্বিধা নেই। তিনি কারও কাছে হাত না পেয়ে নিজের শ্রম দিয়ে উপার্জন করছেন। তাঁর এই সততা, আত্মসম্মান ও পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি মনে করি, তাঁর জীবন থেকে অনেকেই অনুপ্রেরণা নিতে পারেন।”
শাহ আলম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, “সংসারের দায়িত্ব পালনের জন্য হাবিবুল্লাহ যেভাবে পরিশ্রম করছেন, তা আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয়। পেশার মর্যাদা শুধু কাজের পরিচয়ে নয়, কাজটি কতটা সৎভাবে করা হচ্ছে, তার মধ্যেও নিহিত। একজন ইমাম হয়েও তিনি পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন—এটি লজ্জার নয়, বরং সম্মানের। তাঁর মতো মানুষকে সহযোগিতা ও সম্মান জানানো আমাদের সবার দায়িত্ব।”
হাবিবুল্লাহর গল্প কেবল একজন ইমামের চা-কফি বিক্রির গল্প নয়; এটি জীবনের প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। এটি শেখায়, দায়িত্ব এড়িয়ে নয়, বরং দায়িত্বকে আপন করে নিয়েই মানুষ সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে। জীবিকার প্রয়োজনে কাজের ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু সৎ পথে থাকার সংকল্প বদলাতে হয় না।
সমাজে অনেকেই হয়তো কাজের ধরন দেখে মানুষের মর্যাদা নির্ধারণ করেন। কিন্তু হাবিবুল্লাহর জীবন মনে করিয়ে দেয়, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর সততা, শ্রম ও দায়িত্ববোধে। মসজিদে ইমামতি আর পথে পথে চা-কফি বিক্রি—দুটি কাজের মধ্যেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন জীবনের সম্মানজনক পথ।
হাবিবুল্লাহর হাতে থাকা চা-কফির ফ্লাস্ক তাই শুধু জীবিকার পাত্র নয়, এটি আত্মনির্ভরতার প্রতীক। তাঁর জীবনসংগ্রাম আমাদের শেখায়—পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, সৎ পথে পরিশ্রম করে পরিবারকে ভালো রাখার চেষ্টা কখনো ছোট হতে পারে না। বরং এই চেষ্টাই হয়ে উঠতে পারে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা, আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ