শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩৬ পি.এম
ফরিদপুর: এক হাতে চা-কফির ফ্লাস্ক, চোখে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন, আর হৃদয়ে হালাল উপার্জনের দৃঢ় প্রত্যয়। প্রতিদিন জীবনের কঠিন বাস্তবতার কাছে হার না মেনে পথে নামেন হাবিবুল্লাহ নামে এক যুবক। ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তাঁকে দেখা যায়।
কখনো বোয়ালমারী বাজারের হাসপাতালের গলি, কখনো চৌরাস্তা, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, মাছ বাজার, থানা রোডের অলিগলিতে, এছাড়া কখনো দোকানের সামনে, আবার কখনো পথচারীদের কাছে গিয়ে বিক্রি করেন চা-কফি। তবে তাঁর আরেকটি পরিচয় হলো—তিনি একজন মসজিদের ইমাম। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংসারের খরচ জোগাতে চা-কফি বিক্রি করে চলেছেন হাবিবুল্লাহ। তাঁর এই জীবনসংগ্রাম যেন বলে দেয়, কোনো সৎ কাজই ছোট নয়, পরিশ্রম কখনো অসম্মানের নয়।
বাগেরহাট থেকে আসা এই যুবক ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নে বসবাস করেন। স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করেন তিনি। কিন্তু ইমামতির সম্মানী দিয়ে পরিবারের সব খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সংসারের বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে অবসর সময়ে শেখর থেকে প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বোয়ালমারী পৌর সদরে চলে আসেন। এরপর পায়ে হেঁটে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন গরম চা ও কফি।
হাবিবুল্লাহর কাছে এই ফ্লাস্ক কেবল চা-কফি বিক্রির উপকরণ নয়; এটি তাঁর আত্মসম্মান, দায়িত্ববোধ ও পরিবারের জন্য নিরন্তর লড়াইয়ের প্রতীক। একদিকে মসজিদে ইমামতি করে মানুষকে ধর্মের পথে চলার আহ্বান জানান, অন্যদিকে নিজের জীবনেও সততা ও হালাল উপার্জনের আদর্শ ধারণ করে চলেছেন তিনি।
হাবিবুল্লাহ বলেন, “ইমামতির সম্মানী দিয়ে সংসারের সব খরচ চালানো কঠিন। পরিবারের দায়িত্ব তো পালন করতেই হবে। তাই অবসর সময়ে চা-কফি বিক্রি করি। কোনো কাজই ছোট নয়, হালালভাবে উপার্জন করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে নিজের পরিশ্রমে উপার্জন করে পরিবার চালাতে চাই।”
নামাজের সময় হলে ব্যবসা গুটিয়ে ফিরে যান মসজিদে। ইমামতির দায়িত্ব পালনে যেমন অবহেলা করেন না, তেমনি পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকেও পিছিয়ে থাকেন না। জীবনের এই দ্বিমুখী দায়িত্ব পালনে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা স্থানীয় মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল সেখ বলেন, “হাবিবুল্লাহর জীবনসংগ্রাম আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। একজন মসজিদের ইমাম হয়েও সংসার চালানোর জন্য পথে পথে চা-কফি বিক্রি করতে তাঁর কোনো দ্বিধা নেই। তিনি কারও কাছে হাত না পেয়ে নিজের শ্রম দিয়ে উপার্জন করছেন। তাঁর এই সততা, আত্মসম্মান ও পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি মনে করি, তাঁর জীবন থেকে অনেকেই অনুপ্রেরণা নিতে পারেন।”
শাহ আলম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, “সংসারের দায়িত্ব পালনের জন্য হাবিবুল্লাহ যেভাবে পরিশ্রম করছেন, তা আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয়। পেশার মর্যাদা শুধু কাজের পরিচয়ে নয়, কাজটি কতটা সৎভাবে করা হচ্ছে, তার মধ্যেও নিহিত। একজন ইমাম হয়েও তিনি পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন—এটি লজ্জার নয়, বরং সম্মানের। তাঁর মতো মানুষকে সহযোগিতা ও সম্মান জানানো আমাদের সবার দায়িত্ব।”
হাবিবুল্লাহর গল্প কেবল একজন ইমামের চা-কফি বিক্রির গল্প নয়; এটি জীবনের প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। এটি শেখায়, দায়িত্ব এড়িয়ে নয়, বরং দায়িত্বকে আপন করে নিয়েই মানুষ সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে। জীবিকার প্রয়োজনে কাজের ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু সৎ পথে থাকার সংকল্প বদলাতে হয় না।
সমাজে অনেকেই হয়তো কাজের ধরন দেখে মানুষের মর্যাদা নির্ধারণ করেন। কিন্তু হাবিবুল্লাহর জীবন মনে করিয়ে দেয়, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর সততা, শ্রম ও দায়িত্ববোধে। মসজিদে ইমামতি আর পথে পথে চা-কফি বিক্রি—দুটি কাজের মধ্যেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন জীবনের সম্মানজনক পথ।
হাবিবুল্লাহর হাতে থাকা চা-কফির ফ্লাস্ক তাই শুধু জীবিকার পাত্র নয়, এটি আত্মনির্ভরতার প্রতীক। তাঁর জীবনসংগ্রাম আমাদের শেখায়—পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, সৎ পথে পরিশ্রম করে পরিবারকে ভালো রাখার চেষ্টা কখনো ছোট হতে পারে না। বরং এই চেষ্টাই হয়ে উঠতে পারে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা, আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নাম সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে। এই পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং হাসনাত আবদুল্লাহ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে দলের দপ্তর সেল সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্গঠিত কমিটির সদস্যদের নাম এবং পদবি প্রকাশ করা হয়েছে।
মো. সারজিস আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
দলের ১৬ সদস্যের রাজনৈতিক পর্ষদে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের সঙ্গে রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিক মুজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু এবং নুসরাত তাবাসসুম।
যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সামান্তা শারমিন, মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আবদুল হক, মাহবুব আলম, মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, মাওলানা আশরাফ মাহাদী, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল এবং এ কে ফ্লোরাসহ আরও কয়েকজন।
যুগ্ম সদস্যসচিবদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, এসএম সাইফ মুস্তাফিজ, মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক এবং মো. আতাউল্লাহ।
কমিটিতে বিভিন্ন বিষয়ে সম্পাদকীয় পদ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক, দপ্তর, আইন, প্রচার, শিক্ষা, নারী বিষয়ক, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা, পরিবেশ ও জলবায়ু, মুক্তিযুদ্ধ, গণমাধ্যম, ধর্ম, সংস্কৃতি, শ্রম, সাহিত্য ও প্রকাশনা, তথ্যপ্রযুক্তি, মানবাধিকার, সমাজকল্যাণ, তথ্য ও গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অর্থ ও পরিকল্পনা, শিল্প ও বাণিজ্য, ক্রীড়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ত্রাণ ও দুর্যোগ এবং যুব ও কর্মসংস্থান।
বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের উত্তর অংশে সাইফুল্লাহ হায়দার, চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণ অংশে এএসএম সুজাউদ্দীন, রাজশাহী বিভাগে ইমরান ইমন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের উত্তর অংশে নাভিদ নওরোজ শাহ দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া কমিটিতে ১৯ জন সহ-সম্পাদক এবং ৫৮ জন সাধারণ সদস্য রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পূর্বাচল উপশহরের ৩০০ ফিট সড়কের রূপগঞ্জের সুলপিনা ভুঁইয়াবাড়ি ব্রিজ এলাকায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় তাদের এক বন্ধু আহত অবস্থায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে কাঞ্চনগামী একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাকের সাথে বাঘবেরগামী মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জ ইউনিয়নের আলমপুর দীঘিরপাড় গ্রামের আক্তার মিয়ার ছেলে, আব্দুল হক ভুঁইয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র রুদ্র মিয়া (১৬) এবং দক্ষিণবাগ বেইলারটেক গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে, বাঘবেড় আইডিয়াল হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ইয়ামিন (১৫)।
আহত শ্রাবণ মিয়া (১৯) রাজধানীর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমানের ছেলে। সে রূপগঞ্জের বাঘবের সিডিমার্কেট এলাকায় ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে এসে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তিন বন্ধু মিলে পূর্বাচলে বেড়াতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়।
কাঞ্চন হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুর রহমান জানান, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত শ্রাবণ মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে গেছে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, তিন বন্ধু একটি নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলে পূর্বাচল এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছিল। এক পর্যায়ে তারা ভুঁইয়াবাড়ি ব্রিজের পশ্চিম পাশে সার্ভিস লেন দিয়ে উলটো পথে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বন্ধু ইয়ামিন ও রুদ্র মিয়া নিহত হয়। এই সময় তাদের অপর বন্ধু শ্রাবণ মিয়া গুরুতর আহত হয়।
ওসি আরও জানান, এই ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে তরুণরা রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধ, মাদ্রিদে তাঁবু গেড়ে অবস্থান এবং ফ্রান্সের রাজপথে বিক্ষোভের মতো নানা কর্মসূচি গ্রহণ করছেন।
তাদের অভিযোগ, রাজনীতিকেরা তাদের কথা শুনছেন না এবং তাদের চাহিদা ও সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
তরুণদের দাবিগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন হলেও একটি বিষয়ে তাদের মধ্যে ঐক্য রয়েছে। তারা চান, রাজনীতি ও সমাজে প্রায়ই উপেক্ষিত তাদের কণ্ঠস্বর গুরুত্ব পাক। দাবি আদায়ে কখনো কখনো তারা কঠোর কর্মসূচিও ঘোষণা করছেন।
অন্যদিকে, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।
রোমের কাভুর হাইস্কুলের ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী দামিয়ানো ফুসা বলেন, ‘আমরা লড়াই করছি এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছি।’
ইতালির রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল কর্মসূচির মধ্যে কাভুর হাইস্কুলই প্রথম অবরুদ্ধ হয়।
ফুসা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিধিত্ব করার মতো কেউ নেই।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কট্টর ডানপন্থি জোটের পাশাপাশি আগের মধ্য-বামপন্থি সরকারগুলোরও সমালোচনা করেন।
তার অভিযোগ, এসব সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমিয়েছে এবং তরুণদের প্রয়োজন উপেক্ষা করেছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কয়েক লাখ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন। কিছু বিক্ষোভ সহিংসতায়ও রূপ নিয়েছে।
সরকারগুলো মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ফ্রান্সের কিছু এলাকায় আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছে, আর ইতালিতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাসদস্য। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের মূল দাবিগুলোকে আড়াল করছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের ১৯ বছর বয়সী মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী লুইস মার্কেস বলেন, ‘রাজনীতিকেরা বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও একেবারেই অযৌক্তিক উপায়ে পরিস্থিতির জবাব দিচ্ছেন।’
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে লাগামহীন বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরক্ষা খাতের পরিবর্তে শিক্ষায় বেশি অর্থ ব্যয় এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিক্ষোভের পেছনে আরও গভীর সংকট রয়েছে। ইউরোপের বহু তরুণ মনে করছেন, তাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।
আন্তর্জাতিক সমাজতাত্ত্বিক সমিতির সভাপতি জিওফ্রে প্লেয়ার্স বলেন, ‘এই তরুণেরা শুধু মনে করেন না যে রাজনীতিতে তাদের কোনো জায়গা নেই; তারা মনে করেন, তাদের কথা একেবারেই শোনা হচ্ছে না।’
রোমের লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোজারিও ফোরলেনজা এই আন্দোলনকে ‘ইউরোপজুড়ে প্রজন্মগত বিদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এর মূলে রয়েছে এমন এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট, যার কার্যকর সমাধান দিতে রাজনীতিকেরা ব্যর্থ হচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘তরুণেরা জনসংখ্যার এমন একটি অংশ, যাদের অনুপাত ক্রমেই কমছে। ফলে সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বও ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।’
‘অন্যদের অনুপ্রাণিত করছি’
ফ্রান্স ও ইতালিতে তরুণদের ক্ষোভ সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। দেশ দুটিতে শনিবার নতুন করে বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত সপ্তাহান্তে ফ্রান্সের বোর্দো শহরে এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২০ বছর বয়সী এডি নামে এক শিক্ষার্থী এএফপিকে বলেন, ‘মানুষ খুব ক্ষুব্ধ, তারা আর সহ্য করতে পারছে না। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করেও কেনাকাটার ঝুড়ি ভরার মতো সামর্থ্য থাকে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু ভাঙচুর করলে কি কিছু বদলাবে? আমার মনে হয়, এতে রাজনীতিকদের ঘুম ভাঙতে পারে। নিজেদের কথা শোনানোর জন্য আর কী করতে পারি, তা আমরা জানি না। ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন? এখন আর তাতে আমাদের বিশ্বাস নেই।’
ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী আন্দোলন একে অপরের কাছ থেকে ক্রমেই অনুপ্রেরণা নিচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও নেপালের মতো দেশগুলোতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকেও তারা শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইতালিতে গত সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের একটি স্লোগানে বলা হয়, ‘ফ্রান্সের মতো করো’। এছাড়া জলদস্যুদের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘জলি রজার’ পতাকাসহ বিভিন্ন অভিন্ন প্রতীক ইউরোপের তরুণদের সমাবেশে দেখা যাচ্ছে।
মাদ্রিদের ২২ বছর বয়সী পরীক্ষাগারের মাননিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিবিদ মার্কোস নাভারো বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আন্দোলনকারীরা নিজেদের কর্মপদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
নাভারো বলেন, ‘তারা আমাদের কাছে এসে জানতে চেয়েছেন, ‘তোমরা কীভাবে আন্দোলন করেছ? কীভাবে নিজেদের সংগঠিত করো?’ আমরা ইতিমধ্যে নিজেদের মধ্যে নানা আইডিয়া বিনিময় করেছি।’
আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্ছেদের প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বর থেকে নাভারো মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় পুয়ের্তা দেল সল চত্বরে শত শত মানুষের সঙ্গে তাঁবু গেড়ে অবস্থান করছেন।
ওই শিবিরের চিকিৎসাকেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা ২৬ বছর বয়সী নৃবিজ্ঞানী আইলা হেরেরো বলেন, ‘আমরা অন্যদের অনুপ্রাণিত করছি—এটা জানতে পারা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। আমাদের আন্দোলন শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।’
‘এটা গ্রহণযোগ্য নয়’
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতাও তরুণদের বিক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকার ১৭ বছর বয়সী হাইস্কুল শিক্ষার্থী নিকোস মাভরুদিস বলেন, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিবর্তে তার স্কুলের পেছনে অর্থ ব্যয় করা হলে তা বেশি কাজে আসত। স্কুলের ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে বলে তিনি জানান।
মাভরুদিস বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ভবিষ্যতে রাঁধুনি হওয়ার স্বপ্ন দেখা এই শিক্ষার্থী ইউরোপের অন্য কোনো দেশে চলে যেতে চান। তার ভাষায়, তিনি এমন দেশে যেতে চান, ‘যেখানে পরিস্থিতি আরও ভালো’।
রোমের দখল করা মর্গাগনি হাইস্কুলে শিক্ষার্থীরা টেবিল দিয়ে প্রবেশপথ আটকে রেখেছেন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবকাঠামোকে কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, ইতালির সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতিকেরা কিছু বিক্ষোভকারীর লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘এর ফলে এই ব্যবস্থার শিকার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ছে।’
বিক্ষোভে সহিংসতার বিষয়ে ইতালির বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইউনিয়নের সমন্বয়ক ২৪ বছর বয়সী সাবরিনা ব্রিজোলা বলেন, তার সংগঠনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই ‘প্রজন্মের ক্ষোভকে’ সংগঠিত করা এবং গঠনমূলক পথে পরিচালিত করা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগগুলো একই রকম, যদিও প্রতিবাদের পদ্ধতি একেকজনের একেক রকম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী বাজারে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শাখায় ডাকাতির চেষ্টা করার অভিযোগে কাউসার আহম্মেদ (২৪) নামের এক যুবককে স্থানীয় লোকজন গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঋণ না দেওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সোয়া ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে কাউসার ভেতরের স্ট্রং রুমের তালা ভেঙে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
কাউসার আহম্মেদ সোহাগী ইউনিয়নের বৃ-কাঁঠালিয়া গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে।
এই ঘটনার পর ব্যাংকটির সোহাগী বাজার শাখার কর্মকর্তা নাজমুল হক কাউসার আহম্মেদের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ জানায়, কাউসারকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি হাতুড়ি, একটি চাকু, একটি বাটাল, দুটি স্ক্রু-ড্রাইভার ও একটি হেক্সো ব্লেড জব্দ করা হয়েছে।
ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী মাজহারুল ইসলাম (২২) বলেন, বুধবার রাতে ব্যাংকের সব গেট বন্ধ করে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় মূল ফটক ভেঙে কাউসার ভেতরে ঢুকে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পরে তিনি এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মেরে গলায় চাকু ধরে রশি দিয়ে তার হাত-পা বাঁধেন এবং গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে আটকে রাখেন। এরপর স্ট্রং রুমের দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন।
মাজহারুল জানান, একপর্যায়ে তিনি বাঁধন খুলে ব্যাংক থেকে দৌড়ে বের হয়ে চিৎকার শুরু করেন। এ সময় বাজারের নৈশপ্রহরী ও স্থানীয় লোকজন এসে কাউসারকে আটক করে পুলিশে দেন।
কৃষি ব্যাংকের সোহাগী বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল হাসান জানান, ঘটনার সময় নিরাপত্তাকর্মী মাজহারুলের হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, কাউসার তাদের কাছে ঋণ নিতে আসার বিষয়টি সঠিক নয়। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় একটি ব্যাংকে এমন ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, কাউসার পুলিশকে জানিয়েছেন, ব্যাংক থেকে ঋণ না দেওয়ায় তিনি এমন পরিকল্পনা করেন। এ ঘটনায় দস্যুতা আইনে কাউসারসহ অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে ওই ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমানকে গৌরীপুরের ভবানীপুর এলাকায় পথরোধ করে সোহাগীর বৃ-কাঁঠালিয়া গ্রামের অন্য এক যুবক ব্যাংকের ভল্টের চাবি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। ঋণ না দেওয়ার অজুহাতে এ ঘটনা ঘটেছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ