০৭:১৪ পি.এম
ঢাকা, ২২ জুলাই, ২০২৬ : দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, ও পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম উপস্থিত রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক তথ্য অফিস এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিসসমূহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মহড়া কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিস এবং জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
জেলা তথ্য অফিস বন্যাবিষয়ক জরুরি বার্তা প্রচার করছে, রাস্তার পাশেই পথসভা আয়োজন করছেন এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না থাকতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনেও চলতে, সাপের কামড় থেকে সতর্ক থাকার, শিশু, মহিলা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার, ত্রাণ গ্রহণের সময় যে কোনো আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার, বিদ্যুতের সংস্পর্শে না আসার জন্য বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকার এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি জেলায় ২১ জুলাই বিকেল থেকে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে এবং নতুন করে কোনো এলাকায় পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে। বেশিরভাগ এলাকায় বন্যার পানি অবস্থান নিঃশেষ হয়েছে। তবে ঠিকমতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা হয়নি। খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টির শুরুর পর থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা, এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করে আসছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, কক্সবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। যদিও পেকুয়া উপজেলার কিছু জায়গায় এখনও কিছু পরিবার পানিবন্দি রয়ে গেছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং নতুন করে পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকে পাহাড়ধস, বন্যা, ডেঙ্গু এবং চিকনগুনিয়া প্রতিরোধের পাশাপাশি বন্যা পরে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার এবং মাইকিং অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, রাঙামাটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভারী বর্ষণের শুরু থেকেই পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিসের সড়ক প্রচার অব্যাহত ভাবে চলছে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বান্দরবানে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র থেকে লোকজন তাদের ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টির শুরু থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতার প্রচার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন অব্যাহত রেখেছে।
সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিস এবং সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত) কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া সত্ত্বেও ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে বর্ষণের কারণে সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, পিয়াইনসহ প্রধান নদ-নদীর পানি কিছুটা বেড়ে গেছে। কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদী এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে প্লাবিত হওয়ার বা বড় ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা নেই। যদিও নদীর পাশে কিছু নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলায় সার্বিক বন্যার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। ছাতক পয়েন্টে সুরমা এবং মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে রয়েছে। হবিগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে। নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে প্লাবিত হওয়ার বা বড় বা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা নেই। জেলা তথ্য অফিস কর্তৃক সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অবশেষে, প্রতিবেদন অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। মনু নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলায় নদীরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলা তথ্য অফিস বন্যাকালীন ও বন্যা পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন