প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দিল্লি পুলিশের ভাবনা ছিল, হয়তো আন্দোলনে মাত্র কয়েক শ মানুষ অংশ নেবে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই ধারণা ভেঙে যায়। দিল্লীর যন্তর মন্তরের ছোট্ট প্রতিবাদমঞ্চ দ্রুত জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে যায়। এরপর যা ঘটেছে, তা অনেকের মনে করিয়ে দিয়েছে ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারির কথা। এখন প্রশ্ন উঠছে, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের প্রকৃত শক্তি কি একেবারেই বুঝতে পারেনি দিল্লি পুলিশ?
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ একাধিক দাবিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি সিজেপি। প্রথমদিকে আন্দোলনটি একেবারেই গতি হারিয়েছিল। যন্তর মন্তরে প্রতিদিন এক থেকে পাঁচ শ মানুষের উপস্থিতিই ছিল একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে গত ১৮ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুককে সফদারজং হাসপাতালে নিতে যাওয়ার পর পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে বদলে যেতে শুরু করে। এ বিষয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যার মধ্যে দিল্লি এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হন যন্তর মন্তরে। দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ধারণা ছিল, সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপস্থিতি সাত থেকে আট হাজারে পৌঁছাতে পারে। প্রশাসনের সেই হিসাবের আলোকে প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য এবং প্যারামিলিটারি বাহিনীর ৩২টি কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছিল। তৈরি করা হয়েছিল বহুস্তরের ব্যারিকেড। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়া সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কিন্তু সোমবার সকালেই পুলিশের সেই হিসাব ভুলে পরিণত হয়। শুধু যন্তর মন্তরে উপস্থিত হন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। আর দিল্লির বিভিন্ন এলাকার আন্দোলনকারীদের হিসাব করলে সেই সংখ্যা পঞ্চাশ হাজার বা তারও বেশি হওয়া সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সংসদ ভবনের খুব নিকটবর্তী ভেন্যুতে পৌঁছে যায়।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দিল্লি পুলিশ জরুরি ভিত্তিতে শহরের ১৪টি এলাকা থেকে অতিরিক্ত বাহিনী তলব করে নেয়। প্রতিটি এলাকা থেকে একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং একশ পুলিশ সদস্যকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনের আয়োজকদের সঙ্গে আপসের চেষ্টা চালান শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা। সীমিত পরিসরে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি প্রস্তাবও করেছিল বলে জানা যায়। তবে তিন দফা আলোচনা ব্যর্থ হয়।
আয়োজকরা আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার আবেদন জানালেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের প্রধান লক্ষ্য ছিল, আন্দোলনকারীরা যেন কোনোভাবে সংসদ ভবনের দিকে এগোতে না পারেন। শুরুতে তারা কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং সীমিত বলপ্রয়োগ করে। তবে তা কার্যকর হয়নি। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ পুলিশের দিকে বোতল, জুতা, পাথর ও গাছের ডাল ছুড়ে মারেন। পাল্টা জবাবে পুলিশ লাঠিপেটা এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। কিছু স্থানে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর আবার সংগঠিত হয়ে পুলিশের মুখোমুখি হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন