ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ত্রাণের ১৩০ কম্বল আত্মসাতের অভিযোগে ওসিকে ঘিরে বিতর্ক


ত্রাণের ১৩০ কম্বল আত্মসাতের অভিযোগে ওসিকে ঘিরে বিতর্ক

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি জব্দকৃত চোরাচালানের কম্বল সংখ‌্যায় কম দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এই সঙ্গে তিনি কম্বলের গুণগত মান গোপন করেছেন এবং আসামিদের সুবিধার্থে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা শাস্তির মুখে পড়লেও ওসি মনির ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন।

একাধিক মামলার নথিপত্র, এসএমপি কমিশনারের চিঠি ও সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্র থেকে এসব তথ্য জানতে পারেন। তথ্য সূত্র জানায়, কম্বল আত্মসাতের ঘটনায় এসএমপি কমিশনার, মোগলাবাজার থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী তোবারক হোসেনকে কৈফিয়ত তলব (শোকজ) করে একটি চিঠি দিয়েছেন, যেখানে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বক্তব্য, চুরির সময়ের ছবি ও নানা বিশ্লেষণে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

কমিশনারের চিঠির তথ্য অনুযায়ী, মোগলাবাজার থানার একটি চোরাচালানবিরোধী অভিযানে (মামলা নং: জিআর-০৫/২৬) একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ৫৬০ পিস দ্বিস্তরবিশিষ্ট (ডাবল পার্ট) দামি ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়। তবে ওসি মনির হোসেনের নির্দেশে মামলার মূল এজাহারকারী এক উপপরিদর্শক (এসআই) প্রকৃত সংখ্যা ও গুণগত মান গোপন করেন। তিনি জব্দতালিকায় ৫৬০ পিসের বদলে মাত্র ৪৩০ পিস কম্বল এজাহারে দেখান। এ ছাড়াও কম্বলগুলো সিঙ্গেল পার্ট না ডাবল পার্ট, এ বিষয়ে জব্দতালিকায় সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

তদন্তে দেখা যায়, সিলেট শাহপরান থানার অপর একটি মামলায় (জিআর-২৬৫/২৫) মো. কামরুল হাসান আদালত থেকে নিলামে ৬৫৮ পিস এক স্তরবিশিষ্ট (সিঙ্গেল পার্ট) পাতলা কম্বল কিনে নেন। পরে তার কাছ থেকে দুই ব্যবসায়ী আরমান হুদা ২২৮ পিস এবং মো. সেলিম আহমদ ৪৩০ পিস কম্বল কিনে নেন। এরপর আসামি ও চোরাকারবারিদের সুবিধা পাইয়ে দিতে মোগলাবাজার থানার পুলিশ কর্মকর্তারা নতুন নাটক সাজান। মো. সেলিম আহমদ আদালতে আবেদন করেন, মোগলাবাজার থানায় আটক ৪৩০ পিস কম্বল আসলে শাহপরান থানার মামলার নিলামের কম্বল। ওসি মনিরের পরিকল্পনা ছিল, আদালতের মাধ্যমে কম্বলগুলো সেলিম আহমদের জিম্মায় দিয়ে দামি ডাবল পার্টের কম্বলগুলো নামমাত্র মূল্যে বের করা এবং এজাহারে গোপন রাখা অতিরিক্ত ১৩০ পিস কম্বল নিজেদের জন্য আত্মসাৎ করা।

এই মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী তোবারক হোসেন। আদালত আলামতের প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের নির্দেশ দিলে কাজী তোবারক হোসেন সরেজমিন থানায় রক্ষিত কাভার্ড ভ্যানের কম্বল গণনা বা পরীক্ষা না করেই চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে একটি মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার প্রতিবেদনে বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়লে আদালত নতুন করে কম্বল গণনা ও গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি মোগলাবাজার থানার কম্পাউন্ডে তল্লাশি চালিয়ে দ্বিস্তরবিশিষ্ট ৫৬০ পিস দামি কম্বল পায় এবং কমিটি পরে আদালতকে অবহিত করে।

গত ৯ মার্চ আদালত তোবারক হোসেনকে সশরীরে হাজির হয়ে কৈফিয়ত দিতে বলেন। শুনানি চলাকালে তিনি জানান যে, তিনি জনৈক ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু আদালত তার অপেশাদার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে এসএমপি কমিশনার বরাবর চিঠি পাঠান। এসএমপি পরে তাকে কৈফিয়ত তলবনামা পাঠান এবং তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থী, অপেশাদারিত্ব, অদক্ষতা, গাফিলতি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এনে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

তবে এসব ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত নায়ক, সেই ওসি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মোগলাবাজার থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, কোনো কম্বল চুরি হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা গণনায় ভুল করেছিল। সব কম্বল থানার হেফাজতে ছিল এবং পরে সেগুলো আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এসএমপি কমিশনারের একটি চিঠিতে বেশ কয়েকবার বলা হয়েছে যে, ওসির মদদে ও নির্দেশে কম্বল চুরি হয়েছে। কমিশনার কেন এটা লিখেছেন, এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, কেউ কারও বিরুদ্ধে লিখলে তো আর কম লিখে না। তাই তিনি লিখেছেন।

এ বিষয়ে এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. এনামুল হক বলেন, আমি ওসি মনিরের সঙ্গে কথা বলব এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখব। পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তা পুঙ্খানাপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে প্রথমে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে নতুন প্রজন্মের আন্দোলন, রাজপথে ‘জেন আলফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ পি.এম


ভারতে নতুন প্রজন্মের আন্দোলন, রাজপথে ‘জেন আলফা

ভারতের বিহার রাজ্যে একটি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার জন্য প্রায় ৪ কিলোমিটার এগিয়ে পদযাত্রা করে মহকুমা প্রশাসকের (এসডিএম) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনাকে অনেকে ‘জেন আলফার আন্দোলন’ নামে চিহ্নিত করছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানা গেছে যে, মঙ্গলবার বিহারের গয়া জেলার টিকারি মহকুমার সিমুয়ারা মিডল স্কুলের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে টিকারি সাব-ডিভিশনাল অফিসে উপস্থিত হয়ে অবস্থান নেয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এসডিএম কার্যালয়ের সামনে বসে নিজেদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই, টয়লেটগুলো অস্বাস্থ্যকর, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত ফ্যান এবং বিদ্যুৎ সুবিধা নেই, মিড-ডে মিলের মান খুব নিম্নমানের, সময়মতো ইউনিফর্ম সরবরাহ করা হয় না এবং পাঠদানের পরিবেশও তাদের মতে সন্তোষজনক নয়।

ঘটনার পর টিকারির এসডিএম প্রবীণ কুন্দন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এই কমিটিতে সহকারী জেলা সরবরাহ কর্মকর্তা চন্দন কুমার, নির্বাহী কর্মকর্তা রণজিৎ সিং এবং ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তা যোগেন্দ্র পাসওয়ানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানিয়ে বলেন, ঘটনাটি ঘটনার সময় এসডিএম মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে তিনি ফিরে এসে তিনজন ছাত্রীসহ মোট ছয়জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কথা বলেন। এরপর প্রধান শিক্ষককে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এক দিনের বেতন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর জন্য একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য যে, সম্প্রতি ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাসংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নানা আন্দোলনের ঘটনাও আলোচিত হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে বেড়াতে এসে প্রাণ গেল দুই পর্যটকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫০ পি.এম


বান্দরবানে বেড়াতে এসে প্রাণ গেল দুই পর্যটকের

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কে বগালেক পর্যটনকেন্দ্র থেকে ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজন পর্যটক মারা গেছেন।

ইতিবাচকভাবে জানান যায় যে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত প্রায় ১টার দিকে বগালেক-কেওক্রাডং সড়কের পেঁপে বাগান এলাকায় ঘটেছিল এই দুর্ঘটনা।

নিহত দুইজন হলেন ভোলা জেলার মানিকারহাট এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জামির উদ্দিন (৩২) এবং ঢাকার লালবাগ এলাকার চুন্নু গাজীর মেয়ে রোকাইয়া আক্তার (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ সদস্যের একটি পর্যটক দল বগালেকে বেড়াতে আসে। তাদের মধ্যে আটজন একটি কটেজে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু জামির উদ্দিন ও রোকাইয়া আক্তার গাইডের নির্দেশনা অমান্য করে রাতে মোটরসাইকেলে কেওক্রাডং এলাকার দিকে চলে যান।

ফেরার পথে একটি ঢালু সড়কে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তারা গভীর খাদে পড়ে যান এবং নিখোঁজ হন।

এ তথ্য জানার পর গাইড মো. ইসমাইল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগালেক আর্মি ক্যাম্পে খবর দেন। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে গভীর রাতে বগালেক ভিউ পয়েন্টসংলগ্ন পাহাড়ি খাদ থেকে দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছয়টি মোটরসাইকেলে ১০ জন পর্যটক ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হয়ে রুমা উপজেলায় পৌঁছান। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারা বগালেক এলাকায় একটি কটেজে ওঠেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সবাই বগালেক ভিউ পয়েন্টে ঘুরতে যান। সেখানে ছবি তোলা শেষে আটজন ফিরে এলেও জামির উদ্দিন ও রোকাইয়া আক্তার গাইডের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি মোটরসাইকেলে ভিউ পয়েন্ট অতিক্রম করে সামনে চলে যান।

এরপর ফিরে আসার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, বগালেক ভিউ পয়েন্ট এলাকার পাহাড়ি খাদ থেকে দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনানুগ প্রক্রিয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন সেনাদের গতিবিধির ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলার ছক ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


মার্কিন সেনাদের গতিবিধির ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলার ছক ইরানের

যুদ্ধক্ষেত্রে আজকাল শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনই অস্ত্র নয়। একটি সাধারণ মোবাইল ফোনের ভিডিওও শত্রুর জন্য সবচেয়ে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এমনই একটি কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছে। পরিস্থিতি এত কঠিন হয়ে উঠেছে যে, কিছু সেনাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও জব্দ করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের উদ্দেশ্যে সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, সেনাদের মোবাইলে ধারণকৃত ছবি এবং ভিডিও যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে বুঝে যাবে যে তাদের হামলা কতটা সফল হয়েছে। ২৮ জুলাই তারিখে লেখা কুপারের চিঠিটি এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে এর একটি অনুলিপি রয়টার্সের হাতে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে খুব শীঘ্রই মোবাইল ফোন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। একইভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে বিবেচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মার্কিন সেনার দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন আসবে। কারণ, বহু সেনাই ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে তাদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং নিজেদের নিরাপত্তার তথ্য প্রকাশ করেন।

চিঠিতে সেন্টকমপ্রধান একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়, যেখানে দেখা যায়, জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় একজন মার্কিন সেনা মেটার স্মার্ট গ্লাসের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেনারা কীভাবে বাংকারে আশ্রয় নিচ্ছেন।

অ্যাডমিরাল কুপারের মতে, এই ধরনের ভিডিও ইরানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান গোয়েন্দা তথ্য হয়ে উঠছে। কারণ, ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, নাকি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে তা সব সময় জানা যায় না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং সংবাদ প্রতিবেদন এই মূল্যায়নকে অনেকটাই সহজ করে দেয়।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, সংবাদমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা, রানওয়ে অথবা সামরিক অবকাঠামোর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেলে সেটি ইরানের পরবর্তী হামলার পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে। অর্থাৎ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্যই প্রতিপক্ষের হাতে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা উপাত্তে রূপান্তরিত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী আইনপ্রণেতারা সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্মার্টফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বা বিভিন্ন অ্যাপও সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যবহার হতে পারে। সুতরাং অপারেশনাল নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আরও কঠোর নীতি নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে এখন অস্ত্রের শক্তির পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই বাস্তবতায় একটি সাধারণ মোবাইল ফোনও কখনো কখনো ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জের উড়াল সড়ক প্রকল্পের অগ্রগতি দেখলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


সুনামগঞ্জের উড়াল সড়ক প্রকল্পের অগ্রগতি দেখলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সুনামগঞ্জ, ৩১  জুলাই, ২০২৬ : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওর ও অন্যান্য এলাকায় চলমান উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা সফরের অংশ হিসেবে তিনি নির্মাণাধীন উড়াল সড়ক এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন জামালগঞ্জের হালির হাওর এলাকায়।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, নির্মাণ কাজের গুণগত মান এবং বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি হাওরের জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় বসতবাড়ির সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি এমনভাবে বাস্তবায়ন করা হবে যাতে হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকে এবং মানুষের ঘরবাড়ির কোনো ক্ষতি না হয়। পরিকল্পনায় এসব বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর ওপর একটি সেতুও নির্মাণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর মধ্যনগর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের একান্ত সচিব মো. মাহবুবুর রহমান, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল মতিন খান, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক, জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী, উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%