০৭:৫৩ পি.এম
যুদ্ধক্ষেত্রে আজকাল শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনই অস্ত্র নয়। একটি সাধারণ মোবাইল ফোনের ভিডিওও শত্রুর জন্য সবচেয়ে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এমনই একটি কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছে। পরিস্থিতি এত কঠিন হয়ে উঠেছে যে, কিছু সেনাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও জব্দ করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের উদ্দেশ্যে সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, সেনাদের মোবাইলে ধারণকৃত ছবি এবং ভিডিও যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে বুঝে যাবে যে তাদের হামলা কতটা সফল হয়েছে। ২৮ জুলাই তারিখে লেখা কুপারের চিঠিটি এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে এর একটি অনুলিপি রয়টার্সের হাতে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে খুব শীঘ্রই মোবাইল ফোন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। একইভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে বিবেচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মার্কিন সেনার দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন আসবে। কারণ, বহু সেনাই ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে তাদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং নিজেদের নিরাপত্তার তথ্য প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
চিঠিতে সেন্টকমপ্রধান একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়, যেখানে দেখা যায়, জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় একজন মার্কিন সেনা মেটার স্মার্ট গ্লাসের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেনারা কীভাবে বাংকারে আশ্রয় নিচ্ছেন।
অ্যাডমিরাল কুপারের মতে, এই ধরনের ভিডিও ইরানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান গোয়েন্দা তথ্য হয়ে উঠছে। কারণ, ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, নাকি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে তা সব সময় জানা যায় না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং সংবাদ প্রতিবেদন এই মূল্যায়নকে অনেকটাই সহজ করে দেয়।
তিনি সতর্ক করেছেন যে, সংবাদমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা, রানওয়ে অথবা সামরিক অবকাঠামোর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেলে সেটি ইরানের পরবর্তী হামলার পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে। অর্থাৎ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্যই প্রতিপক্ষের হাতে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা উপাত্তে রূপান্তরিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী আইনপ্রণেতারা সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্মার্টফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বা বিভিন্ন অ্যাপও সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যবহার হতে পারে। সুতরাং অপারেশনাল নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আরও কঠোর নীতি নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
যুদ্ধক্ষেত্রে এখন অস্ত্রের শক্তির পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই বাস্তবতায় একটি সাধারণ মোবাইল ফোনও কখনো কখনো ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন