ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মার্কিন সেনাদের গতিবিধির ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলার ছক ইরানের


মার্কিন সেনাদের গতিবিধির ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলার ছক ইরানের

যুদ্ধক্ষেত্রে আজকাল শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনই অস্ত্র নয়। একটি সাধারণ মোবাইল ফোনের ভিডিওও শত্রুর জন্য সবচেয়ে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এমনই একটি কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছে। পরিস্থিতি এত কঠিন হয়ে উঠেছে যে, কিছু সেনাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও জব্দ করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের উদ্দেশ্যে সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, সেনাদের মোবাইলে ধারণকৃত ছবি এবং ভিডিও যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে বুঝে যাবে যে তাদের হামলা কতটা সফল হয়েছে। ২৮ জুলাই তারিখে লেখা কুপারের চিঠিটি এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে এর একটি অনুলিপি রয়টার্সের হাতে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে খুব শীঘ্রই মোবাইল ফোন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। একইভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে বিবেচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মার্কিন সেনার দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন আসবে। কারণ, বহু সেনাই ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে তাদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং নিজেদের নিরাপত্তার তথ্য প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

চিঠিতে সেন্টকমপ্রধান একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়, যেখানে দেখা যায়, জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় একজন মার্কিন সেনা মেটার স্মার্ট গ্লাসের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেনারা কীভাবে বাংকারে আশ্রয় নিচ্ছেন।

অ্যাডমিরাল কুপারের মতে, এই ধরনের ভিডিও ইরানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান গোয়েন্দা তথ্য হয়ে উঠছে। কারণ, ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, নাকি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে তা সব সময় জানা যায় না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং সংবাদ প্রতিবেদন এই মূল্যায়নকে অনেকটাই সহজ করে দেয়।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, সংবাদমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা, রানওয়ে অথবা সামরিক অবকাঠামোর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেলে সেটি ইরানের পরবর্তী হামলার পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে। অর্থাৎ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্যই প্রতিপক্ষের হাতে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা উপাত্তে রূপান্তরিত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী আইনপ্রণেতারা সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্মার্টফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বা বিভিন্ন অ্যাপও সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যবহার হতে পারে। সুতরাং অপারেশনাল নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আরও কঠোর নীতি নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

যুদ্ধক্ষেত্রে এখন অস্ত্রের শক্তির পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই বাস্তবতায় একটি সাধারণ মোবাইল ফোনও কখনো কখনো ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জের উড়াল সড়ক প্রকল্পের অগ্রগতি দেখলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


সুনামগঞ্জের উড়াল সড়ক প্রকল্পের অগ্রগতি দেখলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সুনামগঞ্জ, ৩১  জুলাই, ২০২৬ : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওর ও অন্যান্য এলাকায় চলমান উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা সফরের অংশ হিসেবে তিনি নির্মাণাধীন উড়াল সড়ক এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন জামালগঞ্জের হালির হাওর এলাকায়।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, নির্মাণ কাজের গুণগত মান এবং বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি হাওরের জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় বসতবাড়ির সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি এমনভাবে বাস্তবায়ন করা হবে যাতে হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকে এবং মানুষের ঘরবাড়ির কোনো ক্ষতি না হয়। পরিকল্পনায় এসব বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর ওপর একটি সেতুও নির্মাণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর মধ্যনগর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের একান্ত সচিব মো. মাহবুবুর রহমান, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল মতিন খান, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক, জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী, উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শোভাযাত্রা ঘিরে নেপালে সংঘর্ষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০১ পি.এম


শোভাযাত্রা ঘিরে নেপালে সংঘর্ষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম প্রশাসন

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই অঞ্চলের মধেশ প্রদেশে গত কয়েক দিন ধরে চলমান দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। চারটি জেলায় ওই দাঙ্গার পর দেশটির সরকার কারফিউ জারি করেছে। একটি শোভাযাত্রার আশপাশে শুরু হওয়া উত্তেজনা কীভাবে দ্রুত কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ল, সেটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত রবিবার ভারতীয় সীমান্তের কাছে সুনসারি জেলার দেওয়াংগঞ্জ এলাকায় একটি শোভাযাত্রা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, শোভাযাত্রার সময় উচ্চ শব্দে গান বাজানো হচ্ছিল এবং ধর্মীয় পতাকা বহন করা হচ্ছিল। শোভাযাত্রার কারণে স্থানীয় আরেকটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়। এ থেকেই দ্রুত সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা পরে আশপাশের জেলাগুলোতেও বিস্তার লাভ করে।

পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। তবে, কী অবস্থায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং নিহতদের মৃত্যু ঠিক কিভাবে হয়েছে, সেই সম্পর্কে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সুনসারি, সিরাহা, ধনুষা ও সপ্তরী জেলায় উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব জেলায় কারফিউ জারি করা হয়। পাশাপাশি, পারসা জেলায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেপাল পুলিশ, আর্মড পুলিশ ফোর্স ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, গত রবিবার সুনসারি জেলার দেওয়াংগঞ্জ গ্রামীণ পৌরসভায় সংঘর্ষে আহত ২৪ বছর বয়সী ওম প্রকাশ মেহতার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ বছর বয়সী জয় প্রকাশ মেহতাও মারা যান। বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলার গোলবাজারে সংঘর্ষ চলাকালে ১৭ বছর বয়সী গণেশ যাদব নিহত হন। এই ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

আহত ১৯ বছর বয়সী সুভাষ ঠাকুরের অবস্থা চিকিৎসকদের মতে আশঙ্কাজনক।

বৃহস্পতিবার মধেশ প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী জনকপুরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে জনকপুরধাম উপমহানগর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। ধনুষা জেলা প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। জনকপুরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার এবং পদাতিক টহল জোরদার করা হয়েছে।

সিরাহা জেলার গোলবাজারে কারফিউ উপেক্ষা করে পূর্ব-পশ্চিম মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার সময় বেশ কিছু দোকান ও বিপণিবিতানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের কিছু প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন যে, গত কয়েক দিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা বিকাশমান থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনী শুরুতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তবে, এ অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেবে।

সোর্স: আল জাজিরা, কাঠমান্ডু পোস্ট, ফাস্ট পোস্ট

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালিয়ান ফুটবলের কিংবদন্তি বারেসির মৃত্যু, শোকের ছায়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৩ পি.এম


ইতালিয়ান ফুটবলের কিংবদন্তি বারেসির মৃত্যু, শোকের ছায়া

ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৬ : বিশ্বকাপজয়ী ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঙ্কো বারেসি মারা গেছেন। আজ তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৬৬ বছর বয়সে। এসি মিলানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ছিলেন বারেসি। এসি মিলান ক্লাব এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এসি মিলান বলেছে, 'ফ্রাঙ্কো বারেসির প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইতালির ফুটবল অঙ্গনে। তার আদর্শ ও সততা ক্লাবের ডিএনএতে চিরকাল লেখা থাকবে। তার ৬ নম্বর জার্সি চিরকাল ক্লাবের পরিচয় ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে থাকবে।'

১৯৬০ সালের ৮ মে ইতালির ত্রাভালিয়াদো শহরে জন্মগ্রহণ করেন বারেসি। ইতালির জার্সিতে ১৯৮২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ৮১ ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি মাত্র এক গোল করেছেন। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে তিনি ইতালির দলের সদস্য থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি। কোচের সঙ্গে বিরোধের কারণে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ দলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

১৯৯০ সালে বিশ্বকাপে বারেসি প্রথম খেলার সুযোগ পান। তবে আসরে ইতালি সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয়।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠেন বারেসি। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হার মানে ইতালি। টাইব্রেকারে ইতালির হয়ে প্রথম শট নেওয়া বারেসি গোল করতে ব্যর্থ হন।

খেলোয়াড়ি জীবন কাটিয়েছেন বারেসি এসি মিলানের হয়ে, যেখানে ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ৫৩২ ম্যাচে ১৬ গোল করেছেন। ১৫ মৌসুম ধরে তিনি ক্লাবকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

মিলানের হয়ে বারেসি তিনটি ইউরোপীয় কাপ (বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) ও ছয়টি ইতালিয়ান লিগ শিরোপা অর্জন করেন। ১৯৯৭ সালে বারেসি অবসর নেওয়ার পরে তার সম্মানে ৬ নম্বর জার্সি তুলে রাখে মিলান। তিনি ক্লাবের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই বিরল সম্মানে ভূষিত হন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিজিটাল যুগে ব্যতিক্রম চিত্র, তরুণদের পছন্দের তালিকায় এখনও রেডিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


ডিজিটাল যুগে ব্যতিক্রম চিত্র, তরুণদের পছন্দের তালিকায় এখনও রেডিও

স্মার্টফোন, রিলস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আধিপত্যের এই সময়ে রেডিওর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কথা সবাই বলছেন। কিন্তু আফ্রিকার চিত্র আমাদেরকে সম্পূর্ণ উল্টো গল্প শোনাচ্ছে। মূলত, তরুণদের মধ্যে বড় একটি অংশ এখনও নিয়মিত রেডিওতে সংবাদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান শোনেন। বিশেষ করে কেনিয়ায় এত বেশি রেডিও স্টেশন সম্প্রচারিত হচ্ছে যে নতুন স্টেশনের জন্য ফ্রিকোয়েন্সির সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

ডিজিটাল যুগে, দেশটির যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ একটি এমন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, যা শুনতে অনেকটা বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কেনিয়ার রেডিও তরঙ্গপথে এত বেশি ভিড় রয়েছে যে নতুন স্টেশনের জন্য জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে কেনিয়ায় ২৫০টিরও বেশি এফএম রেডিও স্টেশন রয়েছে। এর বাইরেও কিছু স্টেশন সম্প্রচারের অনুমতির অপেক্ষায় আছে। রাজধানী নাইরোবির মতো বড় শহরগুলোর রেডিও উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, নতুন স্টেশনের জন্য আসলে তেমন কোনো ফ্রিকোয়েন্সি খালি নেই।

এই পরিস্থিতি পুরো আফ্রিকায় রেডিওর বিস্ময়কর জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের পর অনেকের বিশ্বাস ছিল যে, মানুষের মনোযোগের লড়াইয়ে রেডিও হয়তো হারিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা উত্তর উল্টো। গত এপ্রিলে প্রকাশিত আফ্রোব্যারোমিটারের এক জরিপে দেখা গেছে, আফ্রিকাজুড়ে সংবাদ জানার অন্যতম প্রধান মাধ্যম এখনো রেডিও।

আফ্রিকায় রেডিও সম্প্রচার শুরু হয়েছিল ১৯২০-এর দশকে। তখন ঔপনিবেশিক শাসকেরা এটি প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গোপন রেডিও স্টেশনও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬০-এর দশকে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকার ট্রানজিস্টর রেডিওকে সহজলভ্য করতে ভর্তুকি দেয়। তবে রেডিও সব সময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখেনি। ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডার গণহত্যার পূর্বে একটি রেডিও স্টেশন তুতসি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে দিয়ে সহিংসতা উসকে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে। আফ্রোব্যারোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, শহর ও গ্রামে মিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে একাধিকবার রেডিওতে সংবাদ শোনেন। তরুণদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তাও কম নয়। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী আফ্রিকানদের প্রায় ৫৫ শতাংশ নিয়মিত রেডিও থেকে সংবাদ গ্রহণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ।

দ্য ইকোনমিস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার দেশগুলোতে রেডিওর এই জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হলো কম খরচ ও সহজলভ্যতা। সস্তা মোবাইল ফোনেও এফএম রেডিও সুবিধা থাকে। আবার রেডিও শোনার জন্য ব্যয়বহুল মোবাইল ডেটার প্রয়োজন হয় না। বড় শহরের যানজটে আটকে থাকা মানুষও সরাসরি ফোন করে বিভিন্ন রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ইন্টারনেটও রেডিওর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনপ্রিয় রেডিও উপস্থাপকেরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারকা রূপে পরিচিত হয়ে উঠছেন। অন্যদিকে ফ্রিকোয়েন্সির সংকট মোকাবিলা করতে কেনিয়া পরীক্ষামূলকভাবে ডিএবি বা ডিজিটাল অডিও ব্রডকাস্টিং প্রযুক্তি চালু করছে। এর মাধ্যমে একই তরঙ্গপথে আরও অধিক রেডিও স্টেশন সম্প্রচার সম্ভব হবে।

সূত্রঃ দ্য ইকোনমিস্ট

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%