ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক


ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক

ভারতের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিশিষ্ট পরিবেশ এবং সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, দেশের সঠিক পথে পরিচালিত হতে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।

স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় লাদাখের এই অধিকারকর্মী উল্লেখ করেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভুল পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা। যদি নেতৃত্ব সঠিক না হয়, তাহলে পুরো দেশই ভুল পথে পরিচালিত হতে পারে। সাধারণ নাগরিকদের প্রতি ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি, যারা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এছাড়া তিনি চাইছেন, সাধারণ মানুষ যেন দেশের নিজ নিজ এলাকার সৎ ও মেধাবী মানুষের নাম প্রস্তাব করে স্বাধীনতা দিবসের উপহার হিসেবে তা পাঠান।

ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনা করে বলেন, ৫০ বছর আগে যে দেশগুলো ভারতের চেয়ে পিছিয়ে ছিল বা সমপর্যায়ে ছিল, তারা বর্তমানে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ২০৪৭ সালে ভারত উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না বলেই তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

আইনপ্রণেতাদের যোগ্যতা ও চরিত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াংচুক বলেছেন, বর্তমান পার্লামেন্টের প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ এবং অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ আছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেশ সঠিকভাবে এগোতে পারে না।

তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে এককভাবে দায়ী না করে মন্তব্য করেন, ক্ষমতায় আসা প্রত্যেকটি দলই কম-বেশি একইভাবে দুর্নীতি চালিয়েছে এবং প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করেছে। ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তন হলেও এক দশকের মধ্যে দুর্নীতি আরও তিন গুণ বেড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা দেশের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য ভারতের শীর্ষ চিন্তাশীল, মেধাবী এবং সৎ মানুষদের নিয়ে এক বৃহৎ আলোচনার পরিকল্পনা করছেন ওয়াংচুক। দেশের বিভিন্ন শহর ঘুরে সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের পাশাপাশি একটি নতুন রূপরেখা তৈরির উদ্দেশ্যে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এই আন্দোলনকারী।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ সফর নিয়ে অবশেষে মুখ খোলল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


বাংলাদেশ সফর নিয়ে অবশেষে মুখ খোলল ভারত

বাংলাদেশ সফর নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে অবশেষে মুখ খুলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সফরে ভারতীয় দলের আসা এখন সম্পূর্ণভাবে ভারত সরকারের অনুমতির ওপর নির্ভর করছে।

এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) এর প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ সফর নিয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে সরকার অনুমতি দেওয়ার পরই সিরিজের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ছয়টি সীমার মধ্যে ভারত আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করেছে। তবে, এখন অবধি দুই দেশের পক্ষ সিরিজটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সূচি প্রকাশ করেনি। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিরিজ খেলতে আগামী ২৮ আগস্ট বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় দলের।

বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে। তবে তারা এখনও সরকারের চূড়ান্ত অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিসিবির সঙ্গে সম্পর্ক আপাতত ঠিকঠাকই রয়েছে। তবে সরকার থেকে চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। কোনো নির্দিষ্ট সিরিজের সূচি এখনও ঠিক করা হয়নি। অনুমতি পাওয়া গেলেই তা দ্রুত নির্ধারিত হয়ে যাবে।’

এদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা। সর্বশেষ আইপিএল থেকে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অংশ নেয়নি।

এই অবস্থায়, আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সূচি প্রকাশ করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। গত ১১ আগস্ট প্রকাশিত ওই সূচির পর, বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

তবে বিসিসিআই কর্মকর্তার বক্তব্যে আপাতত স্পষ্ট, বাংলাদেশ সফর বাতিলের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ভারতের সরকারের অনুমতির পরেই সিরিজের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী সপ্তাহের শেষার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


আগামী সপ্তাহের শেষার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন

আগামী সপ্তাহের শেষার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন। এই সফরের উপলক্ষে এরই মধ্যে ঢাকা এবং দিল্লিতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফরের অংশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে তারেক রহমানের। আশা করা হচ্ছে, বৈঠকে তারা বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম হিসেবে দুই দিনব্যাপী সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এর সময়সূচির বিষয়গুলো নিয়ে এখনও কাজ চলছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের জন্য ভারত আমন্ত্রণ জানায়। তার পর সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায় নয়াদিল্লি। কিন্তু ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির মতবিরোধ দেখা দেয়।

নতুন বিএনপি সরকার অবশ্য বলেছে যে, তারা ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চায়। সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের কিছু লক্ষণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত এপ্রিল মাসে নয়াদিলি সফর করেন এবং সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর গত ১০ আগস্ট ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নতির লক্ষ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সং/কট, বন্ধ ১৭১ শিল্পকারখানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সং/কট, বন্ধ ১৭১ শিল্পকারখানা

হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চাপের ঘাটতির পর বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে জেলার অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭১টি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম থমকে গেছে, যার ফলে বেকার হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী।

শিল্পমালিকদের দাবি, গ্যাস না থাকায় প্রতিদিন তাদের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন উদ্যোক্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জে অবস্থিত ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি এবং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিক রপ্তানিমুখী। এসব কারখানার একটি বড় অংশ ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন করত। তবে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎ তৈরি ও মূল উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রই পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

শিল্পপার্কগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদিত চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ গ্যাস দিয়ে কোনোমতে কারখানা সচল রাখা হয়েছিল। তবে গত বুধবার দুপুর থেকে সরবরাহ একেবারে শূন্যে নেমে আসে। অলস সময় পার করছেন কর্মী ও শ্রমিকেরা। জেনারেটর বা নিজস্ব শক্তিতে বিকল্প উপায়ে কারখানা চালুর সুযোগ না থাকায় দৈনিক কোটি টাকার বেশি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

একই এলাকার কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ সচল রেখে অন্যগুলো পুরোপুরি বন্ধ রাখায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন অনেক উদ্যোক্তা। জাতীয় সংকট হলে সবার ক্ষেত্রে সমান নীতি প্রয়োগের দাবি জানান তারা।

গ্যাস না পাওয়ায় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও স্পিনিং খাতের কারখানাগুলোতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য চালান (শিপমেন্ট) না পাঠাতে পারলে বিদেশি ক্রেতারা বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকবেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী জানান, এটি একটি জাতীয় সংকট। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে শিল্পে এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আয়নাবাজি’: কক্সবাজারের সেই সোনা মিয়া মুক্তি পেয়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


‘আয়নাবাজি’: কক্সবাজারের সেই সোনা মিয়া মুক্তি পেয়েছেন

অপরাধ না করেও মাদকের মামলায় ভিন্ন এক আয়নাবাজির শিকার হয়ে, মৃত্যুদণ্ডের হুলিয়া নিয়ে ১ মাস ২১ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন কক্সবাজার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত নজির আহমদের ছেলে সোনা মিয়া।

নানা প্রক্রিয়া শেষে, আদালতের দেয়া ৪ টি শর্তের সিদ্ধান্তে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সোনা মিয়া কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা সুপার মো. ওবায়াদুর রহমান।

কারাগার থেকে বের হওয়ার পর সোনা মিয়া মন্তব্য করেছেন, তার জীবনের দ্বিতীয় জন্ম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিশ্বাস ও বন্ধুত্ব করা মহাপাপের। এই পাপ যেন কেউ না করেন।’

সোনা মিয়া আরও বলেন, ‘যে রোহিঙ্গা আমার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ইয়াবা মামলায় আসামি হয়েছে, তার সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে পরিচয় ছিল। কিন্তু সে কীভাবে আমার জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি পেল, আমি জানতাম না। র‌্যাব আমাকে গ্রেপ্তার করার পরও বুঝতে পারিনি, আমার বিরুদ্ধে কী মামলা। কারাগারে গিয়ে জানতে পারি, আমি নাকি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তখন আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমি বারবার বলেছি-জীবনে কোনো মামলায় জড়াইনি, আমাকে তদন্ত করে দেখেন। পরে ছবি, আঙুলের ছাপ, শারীরিক গঠন ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রমাণ হয়, ইয়াবা মামলার আসামি আমি নই। প্রকৃত আসামি রমজান আমার পরিচয় ব্যবহার করেছে। আমি প্রায় দেড় মাস অন্যায়ভাবে কারাগারে ছিলাম। আমার জীবনের অনেকটা সময় ও সম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি ক্ষতিপূরণ চাই। আর যে রমজান আমার পরিচয় ব্যবহার করে আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আজ আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। এজন্য আইনজীবী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং জেলা সুপারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আল্লাহর রহমত ও সবার সহযোগিতায় আমি বেঁচে গেছি বলেও জানান সোনা মিয়া।’

মুলত ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ১ মার্চ। ওই দিন কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পুলিশের এক অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন ৫ জন। যে মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নামে লেখা সোনা মিয়া। যেখানে পিতার নাম লেখা হয় নজির আহমদ এবং বর্তমান ঠিকানা কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া। স্থায়ী ঠিকানা রামু উপজেলার গর্জনিয়া। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির কাছে পাওয়া একটি জন্মনিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে, এজাহারে সোনা মিয়ার নাম ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত থেকে পাওয়া নথিপত্র অনুযায়ী, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই সময়ের ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা দেখা যায়, ২ নম্বর আসামির নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য কক্সবাজার সদর ও রামু থানা পুলিশ অনুসন্ধান করেছে। অনুসন্ধানে ‘সোনা মিয়া’ এর দেওয়া নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক না হওয়ায়, তাকে জেলহাজতে রেখে পরবর্তী বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

কিন্তু নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনা মিয়া’ কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এর মধ্যে পরে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত ওই মামলায় ‘সোনা মিয়াসহ’ সংশ্লিষ্ট ৫ আসামিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসারের ওয়ারেন্টমূলে ‘সোনা মিয়াকে’ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে, তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠে। কারাগারে যাওয়ার ২/৩ দিন পর ‘সোনা মিয়া’ কারাগারের জেল সুপার বরাবর আবেদন করেন যে, তিনি এই মামলার আসামি নন। পরে জেল সুপার বিষয়টি জেলা জজ, কক্সবাজারের কাছে পাঠিয়ে দেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন। গত ২ জুলাই কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এবং সেখানে উঠে এসেছে যে, ২০২০ সাথে ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার এবং জামিনপ্রাপ্ত সোনা মিয়া মামলার রায় ঘোষণার পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার সোনা মিয়া একই ব্যক্তি নন। ঘটনার প্রথমে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে গ্রেপ্তার থাকা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার সময় গ্রেপ্তারের আসামিদের মধ্যে ২ নম্বর আসামির প্রকৃত নাম ছিল রমজান। তিনি নিজেকে ‘সোনা মিয়া’ বলে পুলিশের কাছে পরিচয় দেন এবং পরে পুলিশকে একটি জন্মনিবন্ধন কার্ড দেখান। রমজান ও সোনা মিয়া একই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করতেন। পরে তারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়া পাড়ায় দীর্ঘদিন একসাথে একই ঘরে অবস্থান করেন। কোন এক কারণে সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধনটি রমজান তার কাছে রাখতেন।

কারাগারের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর হাজতে থাকা ব্যক্তি এবং সাজা হওয়ার পর গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়েও মিলেছে ভিন্নতা। ২০২০ গ্রেপ্তারের পর কারাগারে সংরক্ষিত ছবি, ২৩ জুন গ্রেপ্তারের পর নেয়া ছবি রয়েছে ভিন্নতা। একই সঙ্গে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পিতা নাম মৃত নজির আহমদ, মাতা সোনারা বেগম, স্ত্রী আয়েশা, দুই ছেলে দুই মেয়ে, ছেলে নাম মোহাম্মদ আলী, উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি, শ্যামলা এবং শনাক্ত করণের চিহ্ন হিসেবে বাম গালে ক্ষত, ডান গালে ক্ষম, ডান বাহুতে ক্ষত রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

২৩ জুন গ্রেপ্তার সোনা মিয়ার পিতা নাম মৃত নজির আহমদ হলেও মাতার নাম মাহমুদা খাতুন, স্ত্রীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস, এক ছেলে, তিন মেয়ে, ছেলে ওমর ফারুক ও মেয়ে নাহিদা লেখা রয়েছে। উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, ওজন ৪২ কেজি, শ্যামলা এবং শনাক্ত করণের চিহ্ন হিসেবে ডান বাহুতে তিল, পেটের বামে তিল, পিঠের মাঝে তিল রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

পুলিশ প্রতিবেদনটি আদালতে আসলে ১২ আগস্ট সোনা মিয়াকে মুক্তির সিদ্ধান্ত দেন আদালত।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান জানান, কারাগারে থাকা সোনা মিয়াকে দেয়া ৪ টি শর্ত হল, কারাগারে থাকা সোনা মিয়ার আইডি কার্ড জমা প্রদান, প্রতি সপ্তাহে থানায় হাজিরা প্রদান, কোনোভাবে দেশ ত্যাগ না করা, একই সঙ্গে ৩ মাস পর পর আদালতে হাজির হওয়া।

একই সঙ্গে এ ঘটনায় মুল আসামিকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলাটি দায়ের, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল সহ পুরো বিষয়ে তদন্তকারি কর্মকর্তার চরম গাফেলতি রয়েছে। কোনো এক ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন নিয়ে অন্য কেউ ওই নামে পরিচয় দিলে তা বের করার দায়িত্ব পুলিশের তদন্তকারি কর্মকর্তার। এই মামলার ক্ষেত্রে সোনা মিয়ার প্রকৃত পরিচয় যাচাই করা যায়নি বলে অভিযোগপত্র দাখিল করে দায়হীনতা দেখিয়েছে। এমনকি ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম যে রমজান তাও বের করা হয়নি। নানা কৌশলে প্রকৃত আসামি জামিনে মুক্ত, পালাতক, পরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়। কিন্তু এক সোনা মিয়াকে খোঁজে বের করে কারাগারে পাঠানো হয়। সোনা মিয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের প্রহর গুণছেন। এর মধ্যে আবেদনের সংরক্ষিত ২০২০ সালের তথ্য এবং ২০২৬ সালের তথ্য মিলিয়ে দেখা গেল ভিন্নতা। আদালতের আদেশে সোনা মিয়ার নাম ব্যবহারকারি রমজান নামের ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে আনা হল।

আদালতের আদেশে প্রতিবেদন দাখিলের সত্যতা স্বীকার করেছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।

তিনি বলেন, পুলিশ দীর্ঘ তদন্তে সোনা মিয়া নাম ব্যবহার করে রমজান নামের এই ব্যক্তি আয়নাবাজির ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা উঠে এসেছে। আদালতের মুক্তির আদেশটি হাতে পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ মতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%