ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সং/কট, বন্ধ ১৭১ শিল্পকারখানা


হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সং/কট, বন্ধ ১৭১ শিল্পকারখানা

হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চাপের ঘাটতির পর বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে জেলার অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭১টি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম থমকে গেছে, যার ফলে বেকার হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী।

শিল্পমালিকদের দাবি, গ্যাস না থাকায় প্রতিদিন তাদের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন উদ্যোক্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জে অবস্থিত ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি এবং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিক রপ্তানিমুখী। এসব কারখানার একটি বড় অংশ ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন করত। তবে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎ তৈরি ও মূল উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রই পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

শিল্পপার্কগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদিত চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ গ্যাস দিয়ে কোনোমতে কারখানা সচল রাখা হয়েছিল। তবে গত বুধবার দুপুর থেকে সরবরাহ একেবারে শূন্যে নেমে আসে। অলস সময় পার করছেন কর্মী ও শ্রমিকেরা। জেনারেটর বা নিজস্ব শক্তিতে বিকল্প উপায়ে কারখানা চালুর সুযোগ না থাকায় দৈনিক কোটি টাকার বেশি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

একই এলাকার কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ সচল রেখে অন্যগুলো পুরোপুরি বন্ধ রাখায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন অনেক উদ্যোক্তা। জাতীয় সংকট হলে সবার ক্ষেত্রে সমান নীতি প্রয়োগের দাবি জানান তারা।

গ্যাস না পাওয়ায় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও স্পিনিং খাতের কারখানাগুলোতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য চালান (শিপমেন্ট) না পাঠাতে পারলে বিদেশি ক্রেতারা বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকবেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী জানান, এটি একটি জাতীয় সংকট। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে শিল্পে এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আয়নাবাজি’: কক্সবাজারের সেই সোনা মিয়া মুক্তি পেয়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


‘আয়নাবাজি’: কক্সবাজারের সেই সোনা মিয়া মুক্তি পেয়েছেন

অপরাধ না করেও মাদকের মামলায় ভিন্ন এক আয়নাবাজির শিকার হয়ে, মৃত্যুদণ্ডের হুলিয়া নিয়ে ১ মাস ২১ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন কক্সবাজার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত নজির আহমদের ছেলে সোনা মিয়া।

নানা প্রক্রিয়া শেষে, আদালতের দেয়া ৪ টি শর্তের সিদ্ধান্তে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সোনা মিয়া কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা সুপার মো. ওবায়াদুর রহমান।

কারাগার থেকে বের হওয়ার পর সোনা মিয়া মন্তব্য করেছেন, তার জীবনের দ্বিতীয় জন্ম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিশ্বাস ও বন্ধুত্ব করা মহাপাপের। এই পাপ যেন কেউ না করেন।’

সোনা মিয়া আরও বলেন, ‘যে রোহিঙ্গা আমার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ইয়াবা মামলায় আসামি হয়েছে, তার সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে পরিচয় ছিল। কিন্তু সে কীভাবে আমার জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি পেল, আমি জানতাম না। র‌্যাব আমাকে গ্রেপ্তার করার পরও বুঝতে পারিনি, আমার বিরুদ্ধে কী মামলা। কারাগারে গিয়ে জানতে পারি, আমি নাকি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তখন আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমি বারবার বলেছি-জীবনে কোনো মামলায় জড়াইনি, আমাকে তদন্ত করে দেখেন। পরে ছবি, আঙুলের ছাপ, শারীরিক গঠন ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রমাণ হয়, ইয়াবা মামলার আসামি আমি নই। প্রকৃত আসামি রমজান আমার পরিচয় ব্যবহার করেছে। আমি প্রায় দেড় মাস অন্যায়ভাবে কারাগারে ছিলাম। আমার জীবনের অনেকটা সময় ও সম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি ক্ষতিপূরণ চাই। আর যে রমজান আমার পরিচয় ব্যবহার করে আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আজ আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। এজন্য আইনজীবী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং জেলা সুপারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আল্লাহর রহমত ও সবার সহযোগিতায় আমি বেঁচে গেছি বলেও জানান সোনা মিয়া।’

মুলত ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ১ মার্চ। ওই দিন কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পুলিশের এক অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন ৫ জন। যে মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নামে লেখা সোনা মিয়া। যেখানে পিতার নাম লেখা হয় নজির আহমদ এবং বর্তমান ঠিকানা কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া। স্থায়ী ঠিকানা রামু উপজেলার গর্জনিয়া। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির কাছে পাওয়া একটি জন্মনিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে, এজাহারে সোনা মিয়ার নাম ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত থেকে পাওয়া নথিপত্র অনুযায়ী, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই সময়ের ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা দেখা যায়, ২ নম্বর আসামির নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য কক্সবাজার সদর ও রামু থানা পুলিশ অনুসন্ধান করেছে। অনুসন্ধানে ‘সোনা মিয়া’ এর দেওয়া নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক না হওয়ায়, তাকে জেলহাজতে রেখে পরবর্তী বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

কিন্তু নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনা মিয়া’ কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এর মধ্যে পরে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত ওই মামলায় ‘সোনা মিয়াসহ’ সংশ্লিষ্ট ৫ আসামিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসারের ওয়ারেন্টমূলে ‘সোনা মিয়াকে’ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে, তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠে। কারাগারে যাওয়ার ২/৩ দিন পর ‘সোনা মিয়া’ কারাগারের জেল সুপার বরাবর আবেদন করেন যে, তিনি এই মামলার আসামি নন। পরে জেল সুপার বিষয়টি জেলা জজ, কক্সবাজারের কাছে পাঠিয়ে দেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন। গত ২ জুলাই কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এবং সেখানে উঠে এসেছে যে, ২০২০ সাথে ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার এবং জামিনপ্রাপ্ত সোনা মিয়া মামলার রায় ঘোষণার পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার সোনা মিয়া একই ব্যক্তি নন। ঘটনার প্রথমে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে গ্রেপ্তার থাকা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার সময় গ্রেপ্তারের আসামিদের মধ্যে ২ নম্বর আসামির প্রকৃত নাম ছিল রমজান। তিনি নিজেকে ‘সোনা মিয়া’ বলে পুলিশের কাছে পরিচয় দেন এবং পরে পুলিশকে একটি জন্মনিবন্ধন কার্ড দেখান। রমজান ও সোনা মিয়া একই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করতেন। পরে তারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়া পাড়ায় দীর্ঘদিন একসাথে একই ঘরে অবস্থান করেন। কোন এক কারণে সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধনটি রমজান তার কাছে রাখতেন।

কারাগারের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর হাজতে থাকা ব্যক্তি এবং সাজা হওয়ার পর গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়েও মিলেছে ভিন্নতা। ২০২০ গ্রেপ্তারের পর কারাগারে সংরক্ষিত ছবি, ২৩ জুন গ্রেপ্তারের পর নেয়া ছবি রয়েছে ভিন্নতা। একই সঙ্গে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পিতা নাম মৃত নজির আহমদ, মাতা সোনারা বেগম, স্ত্রী আয়েশা, দুই ছেলে দুই মেয়ে, ছেলে নাম মোহাম্মদ আলী, উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি, শ্যামলা এবং শনাক্ত করণের চিহ্ন হিসেবে বাম গালে ক্ষত, ডান গালে ক্ষম, ডান বাহুতে ক্ষত রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

২৩ জুন গ্রেপ্তার সোনা মিয়ার পিতা নাম মৃত নজির আহমদ হলেও মাতার নাম মাহমুদা খাতুন, স্ত্রীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস, এক ছেলে, তিন মেয়ে, ছেলে ওমর ফারুক ও মেয়ে নাহিদা লেখা রয়েছে। উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, ওজন ৪২ কেজি, শ্যামলা এবং শনাক্ত করণের চিহ্ন হিসেবে ডান বাহুতে তিল, পেটের বামে তিল, পিঠের মাঝে তিল রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

পুলিশ প্রতিবেদনটি আদালতে আসলে ১২ আগস্ট সোনা মিয়াকে মুক্তির সিদ্ধান্ত দেন আদালত।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান জানান, কারাগারে থাকা সোনা মিয়াকে দেয়া ৪ টি শর্ত হল, কারাগারে থাকা সোনা মিয়ার আইডি কার্ড জমা প্রদান, প্রতি সপ্তাহে থানায় হাজিরা প্রদান, কোনোভাবে দেশ ত্যাগ না করা, একই সঙ্গে ৩ মাস পর পর আদালতে হাজির হওয়া।

একই সঙ্গে এ ঘটনায় মুল আসামিকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলাটি দায়ের, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল সহ পুরো বিষয়ে তদন্তকারি কর্মকর্তার চরম গাফেলতি রয়েছে। কোনো এক ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন নিয়ে অন্য কেউ ওই নামে পরিচয় দিলে তা বের করার দায়িত্ব পুলিশের তদন্তকারি কর্মকর্তার। এই মামলার ক্ষেত্রে সোনা মিয়ার প্রকৃত পরিচয় যাচাই করা যায়নি বলে অভিযোগপত্র দাখিল করে দায়হীনতা দেখিয়েছে। এমনকি ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম যে রমজান তাও বের করা হয়নি। নানা কৌশলে প্রকৃত আসামি জামিনে মুক্ত, পালাতক, পরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়। কিন্তু এক সোনা মিয়াকে খোঁজে বের করে কারাগারে পাঠানো হয়। সোনা মিয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের প্রহর গুণছেন। এর মধ্যে আবেদনের সংরক্ষিত ২০২০ সালের তথ্য এবং ২০২৬ সালের তথ্য মিলিয়ে দেখা গেল ভিন্নতা। আদালতের আদেশে সোনা মিয়ার নাম ব্যবহারকারি রমজান নামের ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে আনা হল।

আদালতের আদেশে প্রতিবেদন দাখিলের সত্যতা স্বীকার করেছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।

তিনি বলেন, পুলিশ দীর্ঘ তদন্তে সোনা মিয়া নাম ব্যবহার করে রমজান নামের এই ব্যক্তি আয়নাবাজির ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা উঠে এসেছে। আদালতের মুক্তির আদেশটি হাতে পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ মতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রলীগের অভিযোগে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি থেকে বাদ পড়লেন ৪ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


ছাত্রলীগের অভিযোগে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি থেকে বাদ পড়লেন ৪ জন

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চার গণনাকারীকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগের কারণে মৌখিকভাবে কাজে অংশগ্রহণ না করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সংশ্লিষ্টদের ফোন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাদের জানিয়েছে যে, তাদের শুমারি কার্যক্রমে অংশ না নিতে বলা হয়েছে, এমন অভিযোগ তারা করেছেন। এ সময় ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার কারণে মব ও বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

বাদ পড়া চার ব্যক্তির নাম হলো—শেখ ইমন আহমেদ, ইমরান আলী পাঠান, অপুর রায় চৌধুরী এবং শাহ আলম হৃদয়।

অভিযোগ রয়েছে যে, শেখ ইমন আহমেদ মাধবপুরের আন্দিউরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তিনি আন্দিউরা ইউনিয়নের গণনাকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে শেখ ইমন আহমেদের দাবি, এআই ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে।

ইমরান আলী পাঠান সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি মাধবপুর পৌরসভার গণনাকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

অপরদিকে, অপুর রায় চৌধুরী আদাঈর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, এবং তিনি অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ফ্যামিলি কার্ডের গণনাকারী হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

শাহ আলম হৃদয় ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের গণনাকারী হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। যদিও তিনি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা সত্ত্বেও ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত—এমন অভিযোগ রয়েছে।

শাহ আলম হৃদয় তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, "আমি এখনো আশায় আছি, আমি আশাবাদী—আমি কাজ করতে পারব। আমি মেধা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, আমাকে বাদ দেওয়া হবে কেন? আমি মাননীয় এমপির কাছে ন্যায়বিচার চাই।"

মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাশউদ্দীন বলেছেন, "প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মব আতঙ্ক থেকে প্রশাসনকে মুক্ত থাকতে হবে। এত কিছু যদি করতেই হয়, তাহলে পরীক্ষা নেওয়া হলো কেন?"

এ বিষয়ে মাধবপুরের ইউএনও মেহেদী হাসান মন্তব্য করেছেন, "আমরা বাছাই কমিটির সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।" তবে চারজনকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মাধবপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ শাকিফ ইশমাম চৌধুরীর কাছেও চার জনকে বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হা/মের উপসর্গ নিয়ে অন্য চার শি/শুর মৃ/ত্যু, আক্রান্ত ১১৫৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


হা/মের উপসর্গ নিয়ে অন্য চার শি/শুর মৃ/ত্যু, আক্রান্ত ১১৫৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে ১ হাজার ১৫৯ শিশুর শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে যে চার শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, তাদের প্রত্যেকেরই সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, এই সময়ে হামে আক্রান্ত ১ হাজার ১৫৯ শিশুর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১৮৭ শিশু এবং সন্দেহজনক হামে ৯৭২ শিশু শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখনো পর্যন্ত সারাদেশে হাম সন্দেহে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৮ এবং নিশ্চিত শনাক্ত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৩০। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৭৯৪ রোগী। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ রোগী।

এছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামে মারা গেছে ৮৯৪ শিশু। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে ৭৯৫ জন এবং নিশ্চিত হামে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে হামে মৃত্যু ও শনাক্তে উল্লেখযোগ্যভাবে ঢাকা বিভাগ এগিয়ে আছে। এরপর রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগ রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পপতারকা সেলেনা গোমেজের বি/রুদ্ধে প্রতার/ণার মা/মলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ পি.এম


পপতারকা সেলেনা গোমেজের বি/রুদ্ধে প্রতার/ণার মা/মলা

মার্কিন পপতারকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ এবং তার স্বাস্থ্যবিষয়ক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ান্ডার মাইন্ড’-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা করেছেন কয়েকজন বিনিয়োগকারী। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার অভিযোগে বিনিয়োগকারীরা দাবি করেছেন, সেলেনা গোমেজের তারকাখ্যাতি ও বিপুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনুসারীদের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ‘ওয়ান্ডার মাইন্ড’-এর সাফল্য নিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটিতে সেলেনা সহ-প্রতিষ্ঠাতা, চিফ ইমপ্যাক্ট অফিসার ও চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, পাঁচ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সাফল্যের আশায় মোট ১২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। তাদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও সাংগঠনিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলেও কোনো প্রতিষ্ঠাতা, কর্মকর্তা বা পরিচালক তাদের বিষয়টি জানাননি।

এ ঘটনায় সেলেনার মা ও প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যান্ডি টিফি এবং সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ড্যানিয়েল পিয়ারসনকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, আইনগত প্রতারণা, চুক্তি ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মূল বিনিয়োগের অর্থ ফেরতের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ দাবি করেছেন।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ‘ওয়ান্ডার মাইন্ড’ তাদের মূলধন ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বলে দাবি করেছিল। একই সময়ে বিনিয়োগকারীদের জেপি মরগানের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করপোরেট অংশীদারত্ব, বিজ্ঞাপন চুক্তি, তারকাদের নিয়ে কভার স্টোরি এবং একটি যুগান্তকারী অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের কোনোটিই শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

পরবর্তীতে গত বছর ‘দ্য কাট’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সমস্যার বিষয়ে জানতে পারেন।

মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, সেলেনা গোমেজ, ম্যান্ডি টিফি ও ড্যানিয়েল পিয়ারসন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ম্যান্ডি টিফি বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছিলেন, পিয়ারসন নিউইয়র্ক সিটিতে নিজের বাসার ভাড়া পরিশোধে বিনিয়োগকারীদের তহবিল ব্যবহার করেছিলেন। এ খাতে মাসে প্রায় ৬০ হাজার ডলার ব্যয় করা হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দেন পিয়ারসন।

তবে মামলায় আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%