০৭:৫৪ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন একটি আইন কার্যকর হওয়ার পর ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের (মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা- আইসিই) বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে সংশোধনী এনেছেন তিন মার্কিন নাগরিক। তাদের অভিযোগ, অভিবাসন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে তাদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন।
গভর্নর গ্যাভিন নিউসম গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ‘নো কিংস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত নতুন আইনটিতে স্বাক্ষর করেছেন। সিনেটর স্কট ওয়েনারের প্রস্তাবিত এই আইনটির ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করতে পারবেন, যদি তারা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন। আইনটি ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।
আইনটি কার্যকর হওয়ার পর লস অ্যাঞ্জেলেসের আইনজীবী মারিয়া গার্সিয়া বালদিজোন তিন মার্কিন নাগরিকের হয়ে করা মামলায় সংশোধনী আনেন। এসব মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এবং পরিচয় প্রকাশ না করা কয়েকজন ফেডারেল কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
তিন বাদীর একজন, পূর্ব লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা হাভিয়ের রামিরেজ, যিনি একজন মার্কিন নাগরিক। রামিরেজের অভিযোগ, ফেডারেল কর্মকর্তারা তার নিজ বাড়ির এলাকায় গিয়ে তাকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও মামলায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
রামিরেজের ভাষ্য, একজন কর্মকর্তা তাকে দেখিয়ে বলেন, ‘ওকে ধরে ফেলো, সে মেক্সিকান।’ তিনি তখন নিজেকে মার্কিন নাগরিক বলে পরিচয় দেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রামিরেজ বলেন, তাকে কেন আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা তিনি বুঝতে পারেননি। কর্মকর্তারা তাকে গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া এবং ফেডারেল তদন্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগে আটক করেছিলেন বলে জানান তিনি।
অন্য একটি মামলার বাদী ক্যারি লোপেজ। তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের দ্বারা একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন। তার আইনজীবীর দাবি, ওই ঘটনার পর লোপেজকে আটক করা হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার মানসিক ও শারীরিক আঘাতের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তার সন্তান জন্ম নেয় বলে তিনি দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
তৃতীয় বাদীর অভিযোগ, কয়েকজন অভিবাসন কর্মকর্তাকে কয়েকজন তরুণের সঙ্গে কথা বলতে দেখে তিনি ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনজীবীর দাবি, ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং তার হাত, কাঁধ ও পিঠে আঘাত লাগে।
বাদীদের আইনজীবী মারিয়া গার্সিয়া বালদিজোন বলেন, তার মক্কেলরা অপরাধী নন। তারা নিজেদের স্বাভাবিক কাজ করছিলেন এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তার অভিযোগ, এরপরও তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
নতুন আইনটির উদ্যোক্তা সিনেটর স্কট ওয়েনার বলেন, ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করার ক্ষেত্রে যে আইনি জটিলতা ছিল, নতুন আইনটি তা দূর করবে। তার মতে, যদি কোনো ফেডারেল কর্মকর্তা সংবিধান লঙ্ঘন করেন, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতে গিয়ে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন।
তবে নতুন আইনটির সমালোচনাও রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার কেন্দ্রীয় জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি বিল এসাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ফেডারেল কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ফেডারেল নির্বাচনে জয়ী হতে হবে এবং ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের ওপর ফেডারেল কর্মকর্তাদের কোনো এখতিয়ার নেই।
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আইনের মাধ্যমে ফেডারেল কর্মকর্তাদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেওয়ানি মামলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ফক্স এলিভেন
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন