প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবার একটি গুরুতর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার বক্তব্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোতে অনুষ্ঠিত ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের বার্ষিক সভায় পুতিন তার বক্তব্যে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সরাসরি হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়া সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত থাকার কথাও তুলে ধরেন।
পুতিন বলেন, রাশিয়া বুঝতে পেরেছে যে, তাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে এমন এক শত্রুর (ন্যাটো) সঙ্গে, যারা আকারে তাদের চেয়ে দ্বিগুণ বড়। এই লড়াইয়ে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি আরও বলেন, "হ্যাঁ, অবশ্যই ফ্রান্স ও ব্রিটেন পারমাণবিক শক্তিধর দেশ—বিষয়টি আমরা খুব ভালোভাবেই বুঝি এবং এ সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি অবগত। তবে বর্তমানে রাশিয়ার কাছে যে ধরনের অস্ত্র রয়েছে, তা আর কারও নেই।"
তিনি এও উল্লেখ করেন, রাশিয়া ‘কাউকে হুমকি দিচ্ছে না’। পশ্চিমা নেতারা রাশিয়া ২০২৯ বা ২০৩০ সালে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তারই জবাব দিচ্ছে মস্কো।
পুতিনের এই মন্তব্য একটি কূটনৈতিক বার্তার প্রেক্ষিতে এসেছে, যা ন্যাটো এই সপ্তাহে রাশিয়ার কাছ থেকে পেয়েছে। ওই বার্তায় পশ্চিমা সামরিক জোটটিকে সতর্ক করা হয়েছে যে, ন্যাটো যদি কালিনিনগ্রাদকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে, তবে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারেও প্রস্তুত থাকবে।
রাশিয়ার এই সতর্কবার্তায় কালিনিনগ্রাদের প্রতি ন্যাটোর ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়ে মস্কোর গভীর উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। কালিনিনগ্রাদ হলো রাশিয়ার বাল্টিক অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন একটি ভূখণ্ড (এক্সক্লেভ), যা আয়তনে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের চেয়ে কিছুটা বড়।
মস্কোর অভিযোগ, ন্যাটো কালিনিনগ্রাদকে অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে সামরিক জোট ন্যাটো। তারা বলছে, তারা একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। একইসঙ্গে মস্কোকে ‘পারমাণবিক হুমকি’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।
এদিকে, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সরকার মস্কোর বিরুদ্ধে মহাদেশজুড়ে অন্তর্ঘাত ও অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ জোরদার করার অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে পোল্যান্ড ও বাল্টিক অঞ্চলে এমন ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহেই পোল্যান্ড জানিয়েছে, কালিনিনগ্রাদের কাছাকাছি তাদের ভূখণ্ডে একটি রুশ হেলিকপ্টার ঢুকে পড়েছিল। লিথুয়ানিয়া জানিয়েছে, রাশিয়ার কারণে তাদের জনগণ ‘নিয়মিত হুমকির মধ্যে’ রয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস গত বৃহস্পতিবার বলেন, তার দেশ আরও হাইব্রিড হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে ‘গুরুতর হামলাও’ থাকতে পারে। গত আগস্টে ইউক্রেনের পণ্যবাহী উড়োজাহাজের কাছাকাছি লাইপজিগ বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন পাওয়ার পর এ কথা বলেন তিনি।
রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করেছিলেন পুতিন, তার জন্যও স্পষ্টভাবে পশ্চিমাদের দায়ী করেছেন তিনি। তার দাবি, রাশিয়াকে উসকানি দেয়া হয়েছিল এবং নিজেদের রক্ষায় মস্কোকে অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
এছাড়া, রাশিয়া এখন ইউক্রেনের অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে যে হামলা চালাচ্ছে, সেটিও ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগার ও কৃষ্ণসাগরে রুশ জাহাজে হামলার সরাসরি জবাব বলে দাবি করেন পুতিন। তিনি বলেন, এখন চারদিক থেকে আমাদের বলা হচ্ছে, ‘চলুন থামি’। কিন্তু শুরুটা তো তাদেরই করেছে।
বৃহস্পতিবার ভালদাই বৈদেশিক নীতি ফোরামে দেওয়া দীর্ঘ বক্তব্যে রুশ প্রেসিডেন্ট সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতে উত্তেজনা বৃদ্ধির এই ধারা দ্রুতই বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে মোড় নিতে পারে।
তিনি বলেন, আমাদের বুঝতে হবে যে, এমন একটি মুহূর্ত খুব দ্রুত এবং অপ্রত্যাশিতভাবে সবার সামনে চলে আসতে পারে, যখন আর কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। ক্রমাগত কঠোরতর পাল্টা পদক্ষেপের মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়ানোর এই প্রক্রিয়াটি এমন এক চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যায়, যেখান থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়।
পুতিন আরও বলেন, এই উত্তেজনা বৃদ্ধির মূলে রয়েছে ঔদ্ধত্য ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। এটি এমন এক পথ যা মানুষকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে যায়। বর্তমান সময়ে বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর কাছে এমন সব অস্ত্র রয়েছে যা সমস্ত প্রাণ ধ্বংস করতে সক্ষম, অথবা অন্ততপক্ষে পৃথিবীকে এক বিপর্যয়কর অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে। আমরা কি নিশ্চিত হতে পারি যে, এই অস্ত্রগুলো কখনোই ব্যবহৃত হবে না? অবশ্যই না।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধের স্বয়ংক্রিয়ীকরণ ও ডিজিটালাইজেশনের ফলে যুদ্ধ এখন অনেকটা খেলায় পরিণত হচ্ছে। এর ফলে মানবতা অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে এবং আবারও বর্বরতার দিকে ফিরে যাচ্ছে। আমাদের বিষয়টি মনে রাখতে হবে এবং এমন পরিস্থিতি এড়াতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন