ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে: চরমোনাই পীর


দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের তৈরি করো। দেশ ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হিসেবে তোমাদের গড়ে উঠতে হবে। নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’

তিনি এসব কথা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন।

শাহবাগে শহীদ ওসমান হাদী চত্বরে অনুষ্ঠিত এই ছাত্র সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদের সঞ্চালনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

চরমোনাই পীর উল্লেখ করেন, ‘দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ছাত্র সংগঠন রয়েছে। কিন্তু ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আদর্শভিত্তিক ছাত্র সংগঠন। অন্যান্য অনেক ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে অরাজকতা, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও নানা ধরনের অপকর্মের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর বিপরীতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শকে ধারণ করে সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রজীবন হচ্ছে নিজেকে গড়ে তোলার শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে জ্ঞান, চরিত্র, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীদেরকে নিজেদের আদর্শিকভাবে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে।’

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ শুধু একটি ছাত্র সংগঠন নয়; এটি একটি আদর্শিক আন্দোলনের প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এখান থেকে এমন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে, যারা সততা, ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা যদি নিজেদেরকে ইসলামের নীতি-আদর্শে গুণান্বিত করতে পারি, তাহলে আমাদের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের পতাকা পতপত করে উড়বে।’

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানও বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিন আল মাদানী, আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সংগ্রামী সভাপতি শেখ ফজলুল করিম মারুফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর-এর সভাপতি ও ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল করিম আকরাম, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ, জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ-এর সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি এ বি এম জাকারিয়া এবং ইসলামী আইনজীবী পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হানিফ মিয়া। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান, হোসাইন ইবনে সরোয়ার, ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইবরাহীম খলীলও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ মাস আগেই বিপর্যয়ের সতর্কতা, হিমালয়ের হিমবাহ নিয়ে যা বলেছিলেন বিজ্ঞানীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২১ পি.এম


৫ মাস আগেই বিপর্যয়ের সতর্কতা, হিমালয়ের হিমবাহ নিয়ে যা বলেছিলেন বিজ্ঞানীরা

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের পর বিজ্ঞানীরা এখন দুর্যোগটির কারণ অনুসন্ধানের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এ অবস্থায় সামনে এসেছে পাঁচ মাস আগে প্রকাশিত দুটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য। গত মার্চে প্রকাশিত ওই গবেষণাগুলোতে হিন্দু কুশ হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল এবং এর ফলে ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে এমন ঝুঁকির ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল।

কাঠমান্ডু ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হিন্দু কুশ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলো আগের তুলনায় দ্রুত গতিতে গলছে। সহস্রাব্দের শুরু থেকে বরফ হারানোর হার দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ১৯৭৫ সালের পর থেকে কিছু হিমবাহের বরফের পুরুত্ব ২৭ মিটার পর্যন্ত কমেছে বলেও প্রতিবেদনে দেখা যায়।

গবেষণাগুলোতে সতর্ক করা হয়েছিল যে, হিমবাহের এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধুমাত্র পাহাড়ি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং ভবিষ্যতে ভাটির অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ২০০ কোটি মানুষের পানি, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও জীবিকার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

নেপালের সাম্প্রতিক দুর্যোগের পর বিজ্ঞানীরা সেই পরিবর্তনগুলোর দিকে নজর দিচ্ছেন। গত বুধবারের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি উচ্চ পার্বত্য এলাকায় বরফ ও পাথরের ধসের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, ৪ হাজার মিটার এবং এর বেশি উচ্চতায় যেসব এলাকায় একসময় তুষারপাত হতো, সেখানে এখন বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটছে। ভারতের দেরাদুন ভিত্তিক ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান জিওলজির একজন বিজ্ঞানী এনডিটিভিকে বলেন, উচ্চতার এসব এলাকায় তুষারের পরিবর্তে বৃষ্টি হওয়া এবং হিমবাহ দ্রুত পিছু হটার বিষয়টি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

মার্চের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিন্দু কুশ হিমালয়ের হিমবাহগুলো তাদের মোট আয়তনের প্রায় ১২ শতাংশ এবং আনুমানিক বরফ মজুদের ৯ শতাংশ হারিয়েছে।

অন্য একটি গবেষণায় ৩৮টি পর্যবেক্ষণ করা হিমবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০০ সালের পর হিমবাহ ক্ষয়ের হার দ্বিগুণ হয়ে গেছে। গবেষকদের মতে, এই প্রবণতা হিমালয়ের কিছু বরফাবৃত অঞ্চলকে এমন এক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যেখান থেকে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া কঠিন হতে পারে।

নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে গবেষকেরা ধারণা করছেন, কোনো উচ্চ পার্বত্য এলাকা থেকে বরফ ও পাথরের ধস নেমে এসে ভোতে কোশি নদীর উপনদী লেন্দে খোলায় প্রবেশ করে থাকতে পারে। এতে বিপুল পরিমাণ পানি, পলি ও পাথর নিচের দিকে নেমে তীব্র স্রোত তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ইন্দোরের সহযোগী অধ্যাপক মহম্মদ ফারুক আজম বলেন, এই পরিস্থিতির সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। তাঁর মতে, বরফের আস্তরণ কমে যাওয়া ও হিমবাহ পিছু হটার ফলে আরও বেশি পাথুরে ও অনুর্বর এলাকা উন্মুক্ত হচ্ছে। এসব এলাকা বেশি তাপ শোষণ করায় পাহাড়ের ঢাল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে তিনিও স্পষ্ট করেছেন, নেপালের এই নির্দিষ্ট দুর্যোগের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে হিমবাহ পিছু হটা ও চিরহিমায়িত অঞ্চল ক্ষয়ের কারণে বরফের আস্তরণ কমে যাওয়ার বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

হিন্দু কুশ হিমালয়ে মেরু অঞ্চলের বাইরে বিশ্বের অন্যতম বড় বরফের মজুদ রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকায় ছড়িয়ে থাকা এই অঞ্চলে ৬৩ হাজার ৭০০টিরও বেশি হিমবাহ রয়েছে। এসব হিমবাহ এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎস এবং কোটি কোটি মানুষের খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত।

সংস্থাটির মার্চের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলটির অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা নির্ভর উষ্ণায়নের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

হিমবাহ ক্ষয়ের মাত্রা অবশ্য সব অঞ্চলে সমান নয়। সবচেয়ে বেশি শতাংশ আয়তন ক্ষয় হয়েছে পূর্ব হেংডুয়ান শান পর্বতমালায়। সেখানে কিছু অঞ্চল মাত্র তিন দশকে তাদের হিমবাহ এলাকার ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত হারিয়েছে।

অন্যদিকে, মোট আয়তনের হিসাবে সবচেয়ে বড় বরফ ক্ষয় হয়েছে সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায়। এই তিন অববাহিকায় হিন্দু কুশ হিমালয়ের ৭৪ শতাংশেরও বেশি হিমবাহ রয়েছে।

নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে মার্চের ওই গবেষণাগুলোর সরাসরি সম্পর্ক এখনো প্রমাণিত হয়নি। তবে হিমালয়ের বরফ দ্রুত কমে যাওয়া, উচ্চ পাহাড়ে তুষারের বদলে বৃষ্টির প্রবণতা এবং পাহাড়ের ঢালের অস্থিতিশীলতা নিয়ে কয়েক মাস আগের সতর্কতাগুলো নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্র:

এনডিটিভি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিসিবি সভাপতির সঙ্গে রবিবার বসবেন ক্রিকেটাররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২২ পি.এম


বিসিবি সভাপতির সঙ্গে রবিবার বসবেন ক্রিকেটাররা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলোচনা করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন জাতীয় দলের বর্তমান এবং সাবেক ক্রিকেটাররা। রবিবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) ব্যানারে।

সূত্রে জানা গেছে, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক, বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম এবং ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ দেশে ফিরতে পারেননি। এই চার ক্রিকেটার বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তারা ছুটি শেষে দেশে ফিরবেন। অন্যদিকে, বাকি ক্রিকেটাররা গতকাল রাতে ম্যাকেই থেকে ব্রিসবেন ও সিঙ্গাপুর হয়ে ঢাকায় ফিরছেন। টেস্ট শেষ হওয়ার পর টিকিট না পাওয়ার কারণে ক্রিকেটারদের দেশে ফিরতে বেশি সময় লেগেছে। ম্যাকেইয়ে টেস্টটি মাত্র দুই দিনে শেষ হয়। বাকি তিন দিন খেলা হয়নি এবং সেই সময় ক্রিকেটাররা ম্যাকেইতে অবস্থান করেন। ফিরতে না পারার কারণ ছিল, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ব্রিসবেন ফেরার টিকিট সংগ্রহ করতে পারেনি রাশ থাকায়। পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী গতকাল তারা দেশে ফিরেছেন।

কয়েকদিন আগে বিসিবি সভাপতি তামিম আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমের বিপিএল আয়োজনের কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের সবচেয়ে জমজমাট এবং আর্থিক সংগতির টুর্নামেন্ট বিপিএল। রবিবার বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিথুনসহ জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা বৈঠকে বসবেন।

চরম ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ মাত্র দুদিনে ম্যাকেই টেস্টে পরাজিত হয়। নিজেদের ২৬ বছরের ১৬১ টেস্ট ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো টাইগাররা দুই দিনে টেস্ট হারল। দ্রুততম সময়ে টেস্ট হারানোর ফলে তিন দিন বিশ্রামও পান তারা। নাজমুল হোসেন শান্তের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ২০০৩ সালের পর টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফর করে। সফরে তারা ডারউইন এবং ম্যাকেইয়ে টেস্ট খেলেছেন। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলে টাইগাররা বাজিমাত করে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপুটে ক্রিকেট খেলে তারা চারদিনে ৯ উইকেটে টেস্ট জয়লাভ করে। ডারউইনে অবিশ্বাস্য ক্রিকেট খেলে সেঞ্চুরি করেন তানজিদ তামিম। হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নেন। ম্যাকেইয়ে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে তারা দুদিনেই টেস্ট হারায়। প্রথম ইনিংসে ৬৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রান করে নাজমুল বাহিনী। হারলেও বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিং করেন শরিফুল। তিনি ৭ উইকেট নেন। দেশের বাইরে কোনো বোলারের এটি সেরা বোলিং স্পেল।

ভালো-মন্দ মেশানো সিরিজ শেষে ক্রিকেটাররা বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে ৩টি করে ওয়ানডে এবং টি-২০ ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে সিরিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত না হলেও পিছিয়ে গেছে। সিরিজটি একেবারেই ভেস্তে যায়নি, আগামী জানুয়ারিতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিরিজ আয়োজনের জন্য বিসিবি সেই সময় স্ক্যাজুয়াল খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। সিরিজটির প্রথম স্ক্যাজুয়াল ছিল ২০২৫ সালের আগস্টে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সিরিজটি সে সময় হয়নি এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত হয়। কিন্তু এবারও হচ্ছে না। এই সময় ভারত সিরিজ খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। বিসিবিও চেষ্টা করছে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যস্ত রাখতে। অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট এবং ৩টি ওয়ানডে খেলার কথা ছিল। আফগান ক্রিকেট বোর্ড জিম্বাবুয়ে সহ একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। সিরিজ শেষে বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে টেস্ট খেলবে আফগানিস্তান।

বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, চলতি বছর বিপিএল আয়োজন করতে চাচ্ছে না বিসিবি। কারণ হিসেবে বিসিবির বর্তমান কমিটি জানিয়েছে, বিপিএলের গত দুই আসরে ৪০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই কারণে বিপিএল আয়োজন করা হবে না। বিপিএল অনুষ্ঠিত না হলে ক্রিকেটাররা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। বিপিএলের পরিবর্তে বিসিবি অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করবে কি না, এসব বিষয় নিয়েই কোয়াব সভাপতি ও অন্য সদস্যরা বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির বর্ণাঢ্য মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৫ পি.এম


চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির বর্ণাঢ্য মিছিল

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বাগত মিছিল করেছে। এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমদকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত করায়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া ও সদস্যসচিব লায়ন হেলাল উদ্দীনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মিছিলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের হাজারো নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

মিছিলের পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া। সমাবেশে সদস্যসচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন বলেন, "রুহুল কবির রিজভী বিএনপির দুঃসময়ের একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা মামলা-হামলা ও কারাবরণের মুখোমুখি হয়েও তিনি দলের আদর্শে অবিচল ছিলেন।" রাজপথের আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, "তার মতো পরীক্ষিত নেতাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।" তার যোগ্য নেতৃত্বে বিএনপি আরও ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, রেজাউল করিম নেচার, সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু, জেলা বিএনপির সদস্য আমিনুর রহমান চৌধুরী, মাস্টার মোহাম্মদ লোকমান, এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, হাজি মো. রফিকুল আলম, মাস্টার মোহাম্মদ রফিক, সাজ্জাদুর রহমান, সরওয়ার হোসেন মাসুদ, জাহাঙ্গীর কবির, জাগির আহমদ, মোজাম্মেল হক বেলাল, জসিম উদ্দিন, সালাহ উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, শেফায়েত উল্লাহ চক্ষু, ফৌজুল কবির ফজলু, ইখতিয়ার হোসেন চৌধুরী ইফতু, খন্দকার হেলাল উদ্দিন, মেহেদী হাসান সুজন, দিল মোহাম্মদ মনজু, এম মনছুর উদ্দিন, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, শাহাদাৎ হোসেন সুমন, কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ দৌলতী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনজুর আলম তালুকদার, শ্রমিক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবি, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. মহসিন খান তরুণ, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন এবং কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন সুমন প্রমুখ।

 

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফটিকছড়ির প্রতিটি গ্রামে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী প্রচারণার উদ্যোগ এমপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৬ পি.এম


ফটিকছড়ির প্রতিটি গ্রামে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী প্রচারণার উদ্যোগ এমপির

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এবং ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং অলিগলিতে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সরোয়ার আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আগামী প্রজন্মকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে রক্ষা করতে এই কর্মসূচিকে একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী র‌্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘আজ থেকে চট্টগ্রাম-২ নির্বাচনী এলাকার ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর- এই দুই উপজেলায় আমাদের সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী প্রচারণা চলবে। প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি ইউনিয়ন, প্রতিটি ওয়ার্ড ও প্রতিটি অলিগলিতে এই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের সদস্যদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের সচেতনতা ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হতে পারেন।

সন্তানদের বাবাকে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক ও কর্মমুখী জীবনে ফিরে আসার জন্য উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সচেতন ভূমিকা একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সরোয়ার আলমগীর বলেন, মাগরিবের পর সন্তানরা যেন অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না থাকে, সেদিকে বাবা-মাকে নজর রাখতে হবে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করেন যে, সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী প্রজন্মকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সমাজের সকলের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

এর আগে, উপজেলার নাজিরহাট ঝংকার মোড় থেকে মাদকবিরোধী র‌্যালিটি শুরু হয়। র‌্যালিটি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিবিরহাট বাজারের মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

র‌্যালিতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%