ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী


জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা প্রদান করেছেন, এমন তথ্য জানিয়েছেন তার কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সংক্রান্ত একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের কাছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার বার্তা প্রদান করেছেন। তিনি একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার বিষয়েও কথা বলেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারকেই এ সংকটের সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলেছেন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের একটি রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন। চার দিনের সফরে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মুসলিম দেশগুলোতে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন মাহদী আমিন। গত সাত মাসে সরকার মানবাধিকার রক্ষা করে কীভাবে কাজ করেছে, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানান, বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ বিমানের বহর আরও বড় করার সুযোগ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি প্রেস ব্রিফিংয়ের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুয়েটে ইমাম নির্বাচন ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ, ৩০০ প্রার্থীর কেউই পাননি সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


রুয়েটে ইমাম নির্বাচন ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ, ৩০০ প্রার্থীর কেউই পাননি সুযোগ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের মসজিদে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে অশুদ্ধ তিলাওয়াত, মাসআলা সংক্রান্ত ভুল, অতিরিক্ত ছুটি কাটানো এবং অসময়ে আজান দেওয়ার। এই বিষয়টি নিয়ে হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ এবং বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, প্রার্থীর যোগ্যতা এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগে তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।

জানা গেছে, প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলটিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ইমাম না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে শুদ্ধভাবে তিলাওয়াতে পারদর্শীদের নিয়ে প্রায় ১ বছর নিয়মিত ইমামতির দায়িত্ব পালন করতেন। পরবর্তীতে হল মসজিদে স্থায়ী ইমাম নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে এমটিই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একজন সাজিদ জানান, হল প্রশাসন তখন জানায়, হলের ফান্ডে অমুসলিম শিক্ষার্থীদের ফি অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এর প্রেক্ষিতে তারা ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বরাবর ইমাম নিয়োগে লিখিত আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে জানায়, রুয়েটে কেন্দ্রীয় মসজিদ থাকায় হল ভিত্তিক পৃথক ইমামের প্রয়োজন নেই। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।

এরপরও ২-৩ মাসে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসহ পৃথক আবেদন দেওয়া হয়। সেখানে প্রস্তাব করা হয়, শিক্ষার্থীদের থেকে মাসে ৫০-১০০ টাকা সংগ্রহ করে ইমামের ব্যয় বহন করা হোক। পাশাপাশি ইমামের আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অনুরোধও করা হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে রুয়েট প্রশাসন তিনজন ইমাম ও দুইজন মুয়াজ্জিন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। প্রায় ৪০০ আবেদনকারীর মধ্যে ৩০০ জনকে পরীক্ষা বা ভাইভার জন্য প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিক নিয়োগ পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীরা গুরুতর অভিযোগ করেন যে, হল মসজিদে নতুন একজনকে ইমামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

হল প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, নিয়োগের বিষয়টি তাদের পূর্বে জানানো হয়নি। উপর থেকে নির্দেশে ঐ ইমামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তার বেতন ও আবাসন ব্যয় হলের ফান্ড থেকে বহনের নির্দেশনা রয়েছে। এতে নির্ধারিত নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কীভাবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো—এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ঐ ইমামের কিরাত, তাজবিদ ও নামাজ-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাসআলায় ভুল পরিলক্ষিত করে হলের শিক্ষার্থীরা। এতে আপত্তি ওঠায়, হল প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাজশাহী নগরীর তালিমুদ্দীন একাডেমির দুই শিক্ষকের মাধ্যমে তার মান যাচাই করা হয় বলে জানা যায়।

কিন্তু মান যাচাইকরণের নথি অনুযায়ী, ১০০ নম্বরের মূল্যায়নে ঐ ইমাম মাত্র ৩১ নম্বর পেয়েছেন। এর মধ্যে কিরাতে ২৫ নম্বরে ১০, তাজবিদে ২৫ নম্বরে ৫ এবং মাসআলায় ৫০ নম্বরে ১৬ নম্বর পেয়েছেন। মূল্যায়নের প্রিন্ট ও সফট কপি প্রশাসনের কাছে ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, যেখানে প্রায় ৩০০ প্রার্থীকে পরীক্ষা বা ভাইবার জন্য বাছাই করা হয়, আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার আগেই কী প্রক্রিয়ায় ইমাম নিয়োগ দেওয়া হলো? এদিকে তার মূল্যায়নে ফলাফলে পরিলক্ষিত হলে, নিয়োগ পূর্ববর্তী যাচাই-বাছাই নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন ধর্মপ্রাণ মুসলিম শিক্ষার্থীরা। বর্তমান ইমামের ধর্মীয় জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল-তা প্রশাসনকে স্পষ্ট করার দাবি তাদের।

নিয়োগ বিষয় এবং হলের অন্যান্য অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে শিক্ষার্থীরা টানা ২ দিন উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও ২য় দিনও মেলেনি অনুমতি। এ বিষয়ে পুরকৌশল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মুস্তাফিজ বলেন, "আমরা ইমাম সাহেবের ভুলসমূহ এবং নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে গত ৫-৬ মাসে ২বার উপাচার্যের কাছে, ২বার ছাত্রকল্যাণ দপ্তরে এবং ৫-৬ বার হল প্রভোস্ট এর কাছে গিয়েছি; ইমাম সাহেবের সঙ্গে বসেছি, ছাত্রদের মতামত নিয়েছি; এসবের পিছনে আমাদের সম্মিলিতভাবে ১০০০ নিরেট ঘন্টার বেশি সময় অপচয় হয়েছে।"

অন্যদিকে ঐ ইমামের দায়িত্ব পালনে অসঙ্গতিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে তিনি নিয়মিত আজান না দিয়ে শুধু নামাজের সময় আসতেন। ফলে বিভিন্ন ওয়াক্তে শিক্ষার্থীদেরই আজান দিতে হতো। কোনো ওয়াক্তে পূর্বঘোষণা ছাড়াই অনুপস্থিতি এবং সপ্তাহের শুক্র-শনি ২ দিন ছুটি কাটানোর বিষয়টিও জানান তারা।

এ প্রসঙ্গে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইকবাল জানান, এসব ছুটিতে প্রক্সি ইমাম হিসেবে একজন হল শিক্ষার্থীর নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে হল প্রশাসনে আবেদন করতেন। প্রথম সপ্তাহে ঐ শিক্ষার্থীর সম্মতি নিলেও পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে তার অজ্ঞাতসারেই নাম ও রেফারেন্স ব্যবহার করেছেন ইমাম সাহেব।

আবাসন ও খাবার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে হল শিক্ষার্থী সাজিদ জানান, ইমামের দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই তার ছেলেসহ হলে কক্ষ বরাদ্দ এবং হল ডাইনিংয়ে বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু যখন শিক্ষার্থীদের পৃথক অর্থায়নে ইমামের ব্যয় বহনের প্রস্তাব ও কেবল কক্ষের ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হয়, তখন সে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। অথচ পরবর্তীতে অস্বচ্ছতা প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রাপ্ত ইমামের জন্য আবাসন ও খাবার উভয়ই ব্যবস্থাই কী প্রক্রিয়ায় করা হলো—এ নিয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয়।

এছাড়াও সংশ্লিষ্ট ইমাম নিয়োগে হেফজ ও কারীয়ানা কোর্সের সনদ জমা এবং তার যোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান হলে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান মুসলিম শিক্ষার্থীরা। তখন ঐ ব্যক্তি কারীয়ানা কোর্স করতে হল প্রশাসনের কাছে প্রায় এক মাসের ছুটির আবেদন করেন বলে জানা যায়। অর্থাৎ তার নিয়োগে যোগ্যতা ও সনদ যাচাই না করার, প্রসঙ্গে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন-আল-আজাদুল ইসলাম জানান, যে ব্যক্তিকে ইমামের দায়িত্বে রাখা হয়েছিল তিনি এখন হল মসজিদে নেই। এছাড়াও উক্ত ব্যক্তিকে ইমামতির জন্য না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সার্বিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মূল দাবি, নিয়োগে যথাযথ প্রক্রিয়া, যোগ্যতা যাচাই, দায়িত্ব পালনে অসঙ্গতি এবং ইমামের সুবিধা প্রদানের বিষয়গুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা হোক। একই সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সামনের স্থায়ী ইমাম স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিকে প্রত্যাশা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে এলপিজি মিলছে না, ডিসিদেরকে মাঠে নামার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে এলপিজি মিলছে না, ডিসিদেরকে মাঠে নামার নির্দেশ

প্রতি মাসে সরকারের তরফ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করা হলেও, খুচরা বিক্রেতারা সেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ভোক্তাদের কাছে এলপিজি বিক্রি করছেন। তারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে কিনতে হয়, তাই সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি সম্প্রতি আরও অবনতি ঘটেছে।

বর্তমানে সরকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে, কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা সংকটের কথা বলে ভোক্তাদের কাছ থেকে ২২০০ থেকে ২৬০০ টাকা নিচ্ছেন। এর মানে হলো, সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় ক্রেতাদের ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করার জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অনলাইন বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে উচ্চ মূল্যে এলপিজি বিক্রি হতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোথাও কেন সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে ডিসিদের তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব এলাকায় সরবরাহ কম পাওয়া যাবে, সেখানে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে কিংবা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশও দেন জ্বালানিমন্ত্রী।

এর আগে, ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সচিবালয়ে এক মতবিনিময় সভায় এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আশ্বস্ত করেন যে, দেশের বাজারে এলপিজি সরবরাহ ও মজুদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে; কোনো সংকট নেই।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আয়োজিত ওই সভায় দেশের এলপিজি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়। সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন।

সোমবারের ওই সভায় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আশ্বাস দেন, এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব ধরনের বাধা দূর করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাস্তা থেকে তুলে কিশোরীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় ৩ যুবককে গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


রাস্তা থেকে তুলে কিশোরীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় ৩ যুবককে গ্রেপ্তার

সন্ধ্যার সময় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ১৪ বছরের এক গৃহপরিচারিকাকে সিএনজিচালিত রিকশায় তুলে নেওয়া হয়। এরপর তিন যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তাকে একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণ করা হয়েছে।

পরদিন সকালে, অভিযুক্তরা তাকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে তার স্বজনরা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ার পর শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর এলাকার দুলাল মিয়া (৩১), শহরের মিশন রোড এলাকার মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬) এবং সোনার বাংলা রোড এলাকার আল আমিন ইসলাম (২০)।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিল বাড়ি রোডের একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ শেষ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় ওই কিশোরী। কিছুদূর যাওয়ার পর অভিযুক্তরা একটি সিএনজিচালিত রিকশায় করে এসে তার পথরোধ করে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, পরে জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিশোরীকে উপজেলার ইছবপুর এলাকায় দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর বাবা।

ঘটনার পর ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে অভিযুক্তরা কিশোরীকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে সেখান থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সে সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা বিলম্বের পর ৩০ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৯(৩) ধারায় মামলা করেন। মামলার নম্বর ৪১/২৭৭।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আবদুর রাজ্জাককে। বুধবার অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চবিতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে শরীরচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


চবিতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে শরীরচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ এবং আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ অডিটোরিয়ামে, যেখানে বিশেষ আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক কার্যকলাপের ভূমিকা।

ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিফ মেডিকেল অফিসার, সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. সাহাদত হোসেন।

সেমিনারে নিউরো ডিস্যাবিলিটি রিহ্যাব অ্যান্ড স্পোর্টস ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপিস্ট মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বিষয়ভিত্তিক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি তার মূল প্রবন্ধে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো জটিল রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এছাড়া, এসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা, শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিক তথ্যের আলোকে উপস্থাপন করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব উল্লেখ করেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব অপরিসীম। স্ট্রোক বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত শরীরচর্চা ও সক্রিয় জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা জনসচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%