প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রতি মাসে সরকারের তরফ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করা হলেও, খুচরা বিক্রেতারা সেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ভোক্তাদের কাছে এলপিজি বিক্রি করছেন। তারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে কিনতে হয়, তাই সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি সম্প্রতি আরও অবনতি ঘটেছে।
বর্তমানে সরকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে, কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা সংকটের কথা বলে ভোক্তাদের কাছ থেকে ২২০০ থেকে ২৬০০ টাকা নিচ্ছেন। এর মানে হলো, সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় ক্রেতাদের ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করার জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অনলাইন বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে উচ্চ মূল্যে এলপিজি বিক্রি হতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোথাও কেন সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে ডিসিদের তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব এলাকায় সরবরাহ কম পাওয়া যাবে, সেখানে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে কিংবা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশও দেন জ্বালানিমন্ত্রী।
এর আগে, ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সচিবালয়ে এক মতবিনিময় সভায় এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আশ্বস্ত করেন যে, দেশের বাজারে এলপিজি সরবরাহ ও মজুদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে; কোনো সংকট নেই।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আয়োজিত ওই সভায় দেশের এলপিজি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়। সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন।
সোমবারের ওই সভায় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আশ্বাস দেন, এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব ধরনের বাধা দূর করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন