প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের বিভিন্ন জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে দুর্গত মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে মাঠ পর্যায়ে সাত দফা জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বন্যাকবলিত এলাকায় চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ। প্রয়োজনে তাদের ছুটি বাতিল করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
এছাড়া জরুরি ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং সাপের কামড়ের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টি স্নেক ভেনমের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় দেশের সব বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তারা স্থানীয় কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রাখবেন। যোগাযোগ সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছে ফোকাল পারসনদের মোবাইল নম্বরও সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশনা রয়েছে।
নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, বন্যাদুর্গত এলাকায় গৃহীত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং বা প্রেস নোটের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানাতে হবে। এ লক্ষ্যে রোববার (১২ জুলাই) বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম তুলে ধরে জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্যাকবলিত সব উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম সংরক্ষণ করতে হবে। কোথাও সংকট দেখা দিলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করতে নির্দেশনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, "বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলা এবং জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য সকল কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।"
জরুরি ভার্চুয়াল সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকরা, পরিচালক (প্রশাসন), বিভাগীয় পরিচালক এবং দেশের সব সিভিল সার্জন অংশগ্রহণ করেন। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন