প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার জুড়ে আটকা পড়ে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং প্রাইভেটকার। অন্য পাশের লেন ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও অবরোধের কারণে কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শত শত অটোরিকশা চালক তাদের অটোরিকশা রাস্তার মাঝে আড়াআড়ি করে রেখে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এর ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী হাজার হাজার যাত্রী, নারীরা, শিশু এবং রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চরম ভোগান্তিতে পড়ে। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছান এবং উত্তেজিত শ্রমিকদের মাঝে গিয়ে মানবিক ও কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন।
ওসি বলেন, "এভাবে রাস্তা বন্ধ করা ঠিক না। এটা প্রতিবাদ করার সঠিক নিয়ম না। আপনারা গরিব মানুষ, আপনাদের কষ্ট আমি বুঝি। এই বিষয়টা আমি সরকারের কাছে, আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজে-কলমে লিখে জানিয়ে দেব। সরকার একটা ব্যবস্থা নেবে। আপনাদের দায়িত্ব আমি নিলাম। এই এলাকার চেয়ারম্যান সাহেব আপনাদের খোঁজ খবর নেবে। দয়া করে বাবারা, আপনারা রাস্তাটা ছেড়ে দিন। হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।" তাঁর এই মানবিক ও দায়িত্বশীল বক্তব্যের পর পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করে।
এসময় উপস্থিত স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান বলেন, "আমাদের ওসি সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি মানবিক কারণে আপনাদের গরিব মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন। এরকম ওসির প্রয়োজন, এরকম পুলিশের প্রয়োজন। আপনারা আল্লাহকে সাক্ষী রেখে ওসি সাহেবের কথার উপর ভরসা করে রাস্তা ক্লিয়ার করে দেন।"
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের হয়রানি, অটোরিকশা আটক এবং অযথা টাকা আদায়ের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছেন। তাদের দাবি, মহাসড়কে চলাচলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করতে হবে।
একজন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা গরিব, দিন আনি দিন খাই। আমাদেরকে যদি প্রতিদিন আটক করা হয়, তাহলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে?"
পরে ওসি মোঃ শহিদুল ইসলামের আশ্বাস এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় প্রায় এক ঘণ্টা পর চালকরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন