ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি, উপকূলের উচ্চশিক্ষায় নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা


বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি, উপকূলের উচ্চশিক্ষায় নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি একটি দীর্ঘকালীন প্রক্রিয়া। উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, এসব কারণে বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। অথচ বরগুনার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে উচ্চশিক্ষার জন্য জেলার বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারগুলোকেও অতিরিক্ত আবাসন, যাতায়াত ও জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে হয়।

বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে আর্থিক সংকটে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থী এবং প্রত্যন্ত এলাকার তরুণ-তরুণীদের জন্য উচ্চশিক্ষা গ্রহণ তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। আবাসন ও যাতায়াতের ব্যয় কমলে অনেক পরিবারের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে, এটি নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

তবে বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে জেলাটি গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষ সম্ভাবনাময়। বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন উপকূল, মৎস্যসম্পদ, কৃষি, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, এসব বিষয়ে গবেষণার জন্য বরগুনা হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

আরও পড়ুন: ভেসে যাচ্ছিলেন একজন, উদ্ধারে একে অপরের হাত ধরে শেকল তৈরি করেও রক্ষা হয়নি

বিশ্ববিদ্যালয়ে মৎস্যবিজ্ঞান, সমুদ্রবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হলে স্থানীয় সমস্যার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান খোঁজার সুযোগ তৈরি হবে। এর সুফল কৃষক, জেলে ও উপকূলের দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। পাশাপাশি, গবেষণার ফলাফল জাতীয় পর্যায়ের নীতি প্রণয়নেও সহায়ক হতে পারে।

বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আবাসন, পরিবহন, খাবারের দোকান, বই ও শিক্ষা উপকরণের ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পিত অবকাঠামো, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, যোগ্য শিক্ষক, গবেষণাগার এবং মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি বাস্তবায়নের প্রশ্নে ইতোমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করেছেন। ২০২৩ সালে বরগুনাসহ কয়েকটি জেলায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইউজিসির সুপারিশের কথা জানানো হয়। বর্তমানে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফাইল বন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীসংখ্যা, বিষয়ভিত্তিক চাহিদা, জমির উপযুক্ততা, যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশগত প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয়ের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপদ ও টেকসই ক্যাম্পাস স্থাপনের অংশ হিসেবে পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ, তিন মাসে আয় ১৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার

বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা একটি একক গোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের বিষয়। এখন প্রয়োজন দাবিটির বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করা, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া এবং বাস্তবায়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা। উপকূলের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আর অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখা উচিত নয়।

বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বরগুনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোস্তফা জামান দাবির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, 'বরগুনা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। উপকূলীয় জেলা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ, মৎস্যসম্পদ ও কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার শক্তিশালী ক্ষেত্র গড়ে তোলার সুযোগ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। এ অবস্থায় বরগুনায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয় নয়; এটি জেলার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কমানো এবং উন্নয়নের নতুন পথ তৈরির উদ্যোগ হতে পারে।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বরগুনার শিক্ষার্থীদের অন্য জেলায় যেতে হলে পরিবারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে। বরগুনায় মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে, পাশাপাশি শিক্ষক, গবেষক ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নেও অবদান রাখা সম্ভব হবে।

অধ্যাপক মোস্তফা জামানের মতে, বরগুনার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মৎস্যবিজ্ঞান, সমুদ্রবিজ্ঞান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি ও পরিবেশবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও কৃষির সংকট নিয়ে গবেষণা হলে তার সুফল শুধু বরগুনা নয়, দেশের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকার মানুষও পাবেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, যোগ্য শিক্ষক, গবেষণাগার এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসা ও বারবার অপরাধে দ্বিগুণ শাস্তির প্রস্তাব

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘হাজার বছর ধরে’র অভিনেত্রী টুনি বয়স কম দেখানোর গোপন কারণ জানালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


‘হাজার বছর ধরে’র অভিনেত্রী টুনি বয়স কম দেখানোর গোপন কারণ জানালেন

‘হাজার বছর ধরে’ সিনেমার টুনি চরিত্রটি দর্শকদের মনে এখনও উজ্জ্বল। ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউড অভিনেত্রী শারমিন জোহা শশী ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতে থাকার পরও টুনি চরিত্রের সেই পরিচিতি আজও তাঁর ক্যারিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

কোহিনুর আক্তার সুচন্দা পরিচালিত ও প্রযোজিত এই সিনেমাটি সরকারি অনুদানে নির্মিত হয়েছিল। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক ও গল্পকার জহির রায়হানের কালজয়ী উপন্যাসের ভিত্তিতে নির্মিত ছবিটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একটি বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় শারমিন জোহা শশী। তিনি নিয়মিতভাবে নিজের ব্যক্তিগত মুহূর্ত, অভিনীত কাজ এবং জীবন নিয়ে বিভিন্ন ভাবনা ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন। সম্প্রতি ফেসবুকে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ইতিবাচক থাকার, নিজেকে ভালোবাসার এবং জীবনকে সহজভাবে দেখার বার্তা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

শাড়ি পরা একটি ছবির মাধ্যমে বয়সের তুলনায় তরুণ দেখানোর প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন শশী। তিনি বলেন, “আপনাকে আপনার বয়সের তুলনায় কম বয়সী দেখায়। কারণ আপনি হিংসা বা খারাপ শক্তি বয়ে বেড়ান না।”

শশীর এই বক্তব্যে মানুষের মানসিকতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব উঠে এসেছে। নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকা এবং নিজের ভেতরে প্রশান্তি ধরে রাখার কথাই যেন তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন।

জীবনকে জটিল করে তোলার প্রবণতা নিয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। আরেকটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, “জীবন সহজ হতে পারত, যদি না আমরাই ধরে ধরে পরিস্থিতিগুলোকে জটিল করতাম। চলুন জীবন সহজ করি। সবাইকে গোলাপি শুক্রবারের শুভেচ্ছা।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শশীর এসব পোস্টে জীবনকে সহজভাবে গ্রহণ করার এবং ইতিবাচক থাকার আহ্বান উঠে এসেছে। ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি শেয়ার করার পাশাপাশি তিনি এমন ভাবনার কথাও নিয়মিত তুলে ধরেন।

এদিকে, অভিনয়ের ক্ষেত্রেও ব্যস্ত সময় পার করছেন শারমিন জোহা শশী। তিনি ‘ঘরে বাইরে’ নাটকে এশা চরিত্রে অভিনয় করছেন। নাবিলের সঙ্গে জুটি বেঁধে নাটকটিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে এটি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একই প্রাঙ্গণে আজান ও উলুধ্বনি, ১৪৩ বছরের সম্প্রীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


একই প্রাঙ্গণে আজান ও উলুধ্বনি, ১৪৩ বছরের সম্প্রীতি

নামাজের সময় হলে মসজিদের মিনার থেকে আজানের ধ্বনি শোনা যায়। তখন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মসজিদের দিকে রওনা দেন। মসজিদের পাশে অবস্থান করছে একটি মন্দির। পূজার সময় সেখানে ঢাকের বাদ্য বাজানো হয়; উলুধ্বনি তোলা হয়। ভক্তরা পূজা-অর্চনায় মগ্ন হয়ে যান।

১৪৩ বছর ধরে এভাবেই নামাজ ও পূজা-অর্চনা পাশাপাশি চলছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এই সহাবস্থান মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ইউসুফগঞ্জ এলাকায় দুই ধর্মীয় সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণভাবে coexist করছে।

আরো পড়ুন

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে জনতার কাতারে নেমে এলেন প্রধানমন্ত্রী।

একই প্রাঙ্গণে মুসলমানদের ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম পাশাপাশি অবস্থান করছে।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮৮৩ সালে একই আঙিনায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দুটির যাত্রা শুরু হয়। এ পর্যন্ত কোনো বিরোধ, তিক্ততা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। স্থানীয়রা তাদের ঐতিহ্যকে জীবনের অংশ হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করে আসছেন।

আরো পড়ুন

পূজার ছুটিতে ফাঁকা সড়ক

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন মোল্লা জানান, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদে নামাজ পড়ি। পূজা ও নামাজ নিয়ে কখনও কোনো বিরোধ সৃষ্টি হতে দেখিনি। দুই উপাসনালয়েই কমিটি রয়েছে। কমিটি যার যার উপাসনার সময় সমন্বয় করে থাকে। আমাদের মধ্যে এক গভীর সম্প্রীতির বন্ধন রয়েছে।’

ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদের ইমাম সাঈদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে একই প্রাঙ্গণে মসজিদ ও মন্দির। বহু বছর ধরে এখানে নামাজ ও পূজা-অর্চনা পাশাপাশি হয়ে আসছে। কখনও কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়নি। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আমাদের নামাজের সময় সহায়তা করেন, আমরাও তাদের পূজার সময় সহায়তা করি। এর মধ্য দিয়ে এখানে গভীর ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়েছে।’

আরো পড়ুন

মণ্ডপের প্রতিমায় থিম ‘অভয়া’, দেয়ালে প্রতিবাদের ভাষা।

শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজয় দাশ হরি বলেন, ‘আজান ও নামাজের সময় শ্রদ্ধাপূর্বক নীরবতা পালন এবং ধর্মীয় উৎসবে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতিই আমাদের ঐক্যের মূল ভিত্তি। আমরা নামাজের সময় পূজা ও বাদ্য বাজানো বন্ধ রাখি। তারা (মুসল্লিরা) আমাদের পূজায় সহায়তা করেন।’

শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ দত্ত বলেন, ‘আমরা সবাই যার যার ধর্ম পালন করি। আমাদের মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই। আমরা পূজার সময় অনুষ্ঠান করি; তাদের ইবাদতের সময় আমরা সব কিছু বন্ধ রাখি।’

আরো পড়ুন

মণ্ডপের দেয়ালে শিল্পকর্মে বাবার আত্মত্যাগের গল্প।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত জানান, দীর্ঘদিন ধরে এখানে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মসজিদ ও মন্দিরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। তবুও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সোনারগাঁয়ের সব পূজামণ্ডপে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ৩ ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ৩ ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত

ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তিনটি তেলবাহী জাহাজ সমুদ্রে পেতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

সংস্থাটি জানায়, তেহরানের দৃষ্টিতে অবৈধ পথে প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করায় তিনটি জাহাজ মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আইআরজিসি মঙ্গলবার তাদের সরকারি সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে অবৈধ প্রবেশপথে তাদের নৌবাহিনীর সদস্যদের পেতে রাখা মাইন আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। এরপর জাহাজ দুটি থেমে যায়।

পরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে একটি নৌমাইনে আঘাত লেগে তৃতীয় একটি তেলবাহী জাহাজেও বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ছিল। ইরানি বাহিনী দাবি করেছে, জাহাজটি তার সব রাডার ও নৌ-চলাচল সংক্রান্ত ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওমানের উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরানি বাহিনী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে এ সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন।

এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের আগে সব জাহাজকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

মঙ্গলবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করতে কম খরচের অস্ত্র ব্যবহার করছে তার দেশ।

তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আরও কোনো ভুল করলে আমরা স্বল্পমূল্যের, কিন্তু কার্যকর বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাদের ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেব।’

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে।

ওয়াশিংটন আরও বেশি জাহাজকে প্রণালি পার হতে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিতে চাইছে। অন্যদিকে, তেহরান জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়।

গত কয়েক দিনেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে একাধিক তেলবাহী জাহাজ মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালিতে বোরকা নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি শিক্ষার্থী কোটা বিরোধী বিক্ষোভ রোমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


ইতালিতে বোরকা নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি শিক্ষার্থী কোটা বিরোধী বিক্ষোভ রোমে

ইতালির ডানপন্থী জর্জো মেলোনি সরকারের অনুমোদিত নতুন ‘স্কুল ডিক্রি’ এবং সার্বিক নীতির বিরুদ্ধে দেশটির অভিবাসী সমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে 'বৈষম্যমূলক' হিসেবে চিহ্নিত করে রাজধানী রোমে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

ইতালির রাজনীতিতে অভিবাসন ও সংস্কৃতি রক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন স্কুল ডিক্রি এই বিতর্ককে শিক্ষাঙ্গনে সরাসরি নিয়ে এসেছে। ডিক্রিতে স্কুলের অভ্যন্তরে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ক্লাসরুমে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণের নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বহুসংস্কৃতি চর্চার এলাকা হিসেবে পরিচিত রোমের তরপিনাত্তারায় রাস্তায় নেমে আসেন বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই এলাকায় বসবাসকারী অভিবাসীরা ইতালিতে বাড়তে থাকা বর্ণবাদী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, স্কুলে কতজন শিশু পড়ালেখা করবে তার সীমা নির্ধারণ বা নারীদের পোশাক নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবনাগুলোর বিরুদ্ধে আজ সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়েছে। তারা কোনো ধরনের বর্ণবাদ চান না এবং ইতালীয় ও অভিবাসীরা বছরের পর বছর যেভাবে শান্তিতে বসবাস করছেন, সেভাবেই থাকতে চান।

নতুন শিক্ষানীতিতে সমতা ও অন্তর্ভুক্তির অভাব লক্ষ্য করছেন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা নির্ধারণ বা ধর্মীয় পোশাক পরিধানে বাধ্যবাধকতা তৈরি করা মৌলিক ও নাগরিক স্বাধীনতার পরিপন্থী।

সমাবেশে অংশ নেওয়া অভিবাসী কমিউনিটি নেতারা মেলোনি সরকারের এই নীতিকে ইতালির ঐতিহাসিক সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের শামিল বলে অভিযোগ করেন। তারা জানান, কোনো সামাজিক বিভাজন ছাড়াই ইতালীয় সমাজের মূলধারার অংশ হতে চান প্রবাসীরা। একই সঙ্গে সমাবেশ থেকে চরমপন্থী রাজনৈতিক উসকানি প্রতিহত করতে অভিবাসী মুসলিম সম্প্রদায়কেও দায়িত্বশীল ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%