০৮:১৩ পি.এম
আগামীকাল বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও যথাযোগ্য মর্যাদায় এই দিবসটি পালন করবে। ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন হয়ে আসছে।
এই দিবসটির উদযাপনের উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষকদের স্মরণ করা এবং তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। এবারের শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’।
এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে। দিবসটি উদযাপনের অংশ হিসেবে আগামীকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা' অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকগণের হাতে নগদ ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ তুলে দেবেন।
এ বছর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন নির্বাচিত শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ বছর জাতীয় সম্মাননার পরিধি ১২ জন থেকে বাড়িয়ে ১০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্তরের (স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) পর্যায়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁদের বাছাই করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালন করা হবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার প্রাথমিক স্তরে ১০টি, মাধ্যমিক স্তরে ২০টি, কলেজে ২৫টি, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০টি, মেডিকেল কলেজে ১০টি, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টি, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪টি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় ৫টিসহ সর্বমোট ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউজিসি গঠিত পৃথক সার্চ কমিটির প্রস্তুতকৃত প্যানেল থেকে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এই ১০০ জন শিক্ষককে চূড়ান্ত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বিগত আমলে জাতীয় পর্যায়ে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হলেও এবারই প্রথম প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষার প্রতিটি ধারাকে অন্তর্ভুক্ত করে ১০০ জন শিক্ষককে মূল্যায়নের আওতায় এনেছে বর্তমান সরকার।
তিনি বলেন, শিক্ষকমণ্ডলী তরুণ প্রজন্মের মাঝে সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বপন করে আত্মমর্যাদাশীল জাতি গড়ে তোলেন। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সুবিধা নিশ্চিত করে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত গবেষণামুখী ও বাস্তবসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
প্যারিসে ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়।
১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালন শুরু হয়। ইউনেস্কোর অনুমোদনক্রমে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন