শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৭ পি.এম
স্বপ্ন মানুষের কল্পনার জগতে শুধুমাত্র ডুবিয়ে রাখে না, বরং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য একটি পথও নির্দেশ করে। প্রত্যেক মানুষই কিছু না কিছু স্বপ্ন দেখে। কিছু মানুষের স্বপ্ন ব্যক্তিগত, কিছু মানুষের সামাজিক, আবার কিছু মানুষের স্বপ্ন হতে পারে সমগ্র পৃথিবীর কল্যাণের দিকে।
ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্ন যেমন মানুষের মনে বিভিন্ন অনুভূতি সৃষ্টি করে, তেমনি জেগে থাকা অবস্থায় দেখা স্বপ্ন মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা দেয়। সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় অনেক মানুষ প্রতিদিন নতুনভাবে পথ চলতে শুরু করেন।
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব স্বপ্ন দেখা দিবস। প্রতিবছর এই দিনে মানুষকে তাদের স্বপ্ন, লক্ষ্য এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করা হয় এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করা হয়। দিবসটি ২০১২ সালে ওজিওমা এগুওনউয়ের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল।
স্বপ্ন থেকেই বদলে গেছে পৃথিবী
বিশ্বের অনেক নতুন ধারণা এবং উদ্ভাবনের সূচনা হয়েছে কারও স্বপ্ন থেকে। বছরের পর বছর ধরে মানুষের চিন্তা, কল্পনা এবং স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেয়েছে নানা আবিষ্কারের মাধ্যমে। কবি ও সাহিত্যিকদের অনেক সৃষ্টির পেছনেও রয়েছে স্বপ্ন এবং কল্পনার ভূমিকা।
অর্থাৎ, স্বপ্ন শুধুমাত্র মনে ধারণার বিষয় নয়। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন প্রচেষ্টা এবং পরিশ্রম। বিশ্ব স্বপ্ন দেখা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের চিন্তা, লক্ষ্য এবং স্বপ্নকে বাস্তব পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
‘আমার একটি স্বপ্ন আছে’
স্বপ্নের প্রসঙ্গ উঠলে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের নাম বারবার সামনে আসে। তিনি বর্ণবৈষম্যের অবসানের স্বপ্ন নিয়ে বিখ্যাত ভাষণ দিয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল এমন একটি সমাজ গঠন করা, যেখানে মানুষ বর্ণের কারণে বৈষম্যের শিকার হবে না।
এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের স্বপ্ন সম্পর্কিত একটি বহুল প্রচলিত উক্তি রয়েছে। তিনি বলেছিলেন, "স্বপ্ন সেটা নয়, যেটা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন সেটাই যেটা পূরণের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।"
আজ নিজের স্বপ্ন নিয়ে ভাবুন
জীবনে বড় কিছু অর্জনের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন একটি লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য কী করতে হবে, কোথা থেকে শুরু করতে হবে এবং কোন বাধাগুলো অতিক্রম করতে হবে—এসব বিষয় নিয়ে ভাবনা প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বপ্ন দেখা দিবস হতে পারে নিজের স্বপ্নগুলো নতুনভাবে ভাবার একটি সুযোগ। কয়েক বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান, সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য এখন কী করতে হবে—আজই তার একটি পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহস, ধৈর্য এবং পরিশ্রমের প্রয়োজন। তাই শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য ছোট ছোট পদক্ষেপও নিতে হবে।
আজকের এই দিনটি তাই নিজের জন্য কিছু সময় রাখার। নিজের ইচ্ছা, লক্ষ্য এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময়। যে স্বপ্ন একদিন মনে জন্ম নিয়েছিল, সেটিকে বাস্তবে রূপ দিতে আজ থেকেই শুরু হতে পারে নতুন পথচলা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের টিকারবিলা বাজারের পাশে পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফারজানা বেগমকে (২৭) পুলিশ আটক করেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম রাব্বি মন্ডল (৩৫)। তিনি পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের নজরুল মন্ডলের পুত্র।
আটক ফারজানা একই উপজেলার আমতৈল গ্রামের ফায়জার হোসেনের কন্যা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে পারিবারিক কলহের কারণে রাব্বি মন্ডলকে তার স্ত্রী ফারজানা বেগম ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে নিহত রাব্বি মন্ডলের স্ত্রী ফারজানা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা গভীর তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ দল ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া আজকের ম্যাচের শুরুর একাদশে জায়গা পাননি। তবে অভিষেক ম্যাচে ফারহান আলি ওয়াহিদ শুরুর একাদশে স্থান করে নিয়েছেন।
কোচ থমাস ডুলি সান মারিনোর বিপক্ষে ৫ জুন অনুষ্ঠিত ম্যাচের একাদশ থেকে আজকের খেলায় ৭টি পরিবর্তন করেছেন। জামাল ভূঁইয়া এবং শেখ মোরসালিন আজকের ম্যাচে নেই।
এছাড়া, সান মারিনোর বিরুদ্ধে খেলা তপু বর্মণ, ঈসা ফয়সাল, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও রফিকরা ২৩ জনের স্কোয়াডেও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। গোলবারের সামনে মিতুল মারমা ছিলেন, কিন্তু কোচ আজকের ম্যাচে বসুন্ধরা কিংসের গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণকে সুযোগ দিয়েছেন।
মাঝমাঠে হামজা চৌধুরী, সোহেল রানা ও সমিত সোম খেলছেন। আক্রমণে ফারহান ও ফাহামিদুলের সঙ্গে রাকিব হোসেন থাকবেন। ডুলি ৪-২-৩-১ কৌশলে দল সাজিয়েছেন।
বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান শ্রাবণ (গোলকিপার), সাদ উদ্দীন, তারিক কাজী, শাকিল আহাদ তপু, জায়ান আহমেদ, হামজা চৌধুরী, সোহেল রানা সিনিয়র (অধিনায়ক), সমিত সোম, ফারহান আলি ওয়াহিদ, ফাহামিদুল ইসলাম, রাকিব হোসেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে ইউরোপে ভাগ্য বদলের আশায় যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশিরা আবারও বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে মিশরের বিভিন্ন উপকূল থেকে অন্তত ১৬০ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা বর্তমানে মিশরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্র অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১৬০ বাংলাদেশির মধ্যে মাতরুহ উপকূল থেকে ৪৬ জন, পোর্ট সাইদ থেকে ৫৮ জন এবং দামিয়েত থেকে ৫৬ জন উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি সুদান, মিশরসহ অন্যান্য দেশের ইউরোপগামী অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।
উন্নত জীবনের আশায় ঘর ছাড়ার পর, ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ, অনিরাপদ নৌযান এবং অনিশ্চিত গন্তব্য তাদের যাত্রাকে চরম জীবনঝুঁকিতে পরিণত করেছে। ইউরোপে পৌঁছানোর আগেই অনেকের স্বপ্ন সমুদ্রের মাঝপথে থেমে যাচ্ছে। উদ্ধার হওয়ার পর, তাদের সামনে এখন দেশে ফেরার অপেক্ষা।
বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের কর্মীরা উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। উদ্ধার হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই তাদের কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে।
প্রথমে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা, কনস্যুলার সেবা এবং দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। মিশরের পুলিশ, কারা কর্তৃপক্ষ, অভিবাসন বিভাগ, আদালত, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করতে হয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের।
উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
পরপর কয়েকটি ঘটনায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি উদ্ধারের ফলে, দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের ওপর কাজের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য মিশরের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতায় একের পর এক বাংলাদেশি আটকা পড়া কিংবা উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপদ অভিবাসনের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় যাত্রা করা এসব মানুষের অনেকেই মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসছেন। সঙ্গে নিয়ে ফিরছেন ভয়াবহ এক সমুদ্রযাত্রার স্মৃতি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা প্রদানের উপায় খুঁজে বের করতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের চিফ অব স্টাফরা এক জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। ইয়েমেন থেকে ধারাবাহিকভাবে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়ার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর যৌথ সিদ্ধান্তের কথা জানান সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তবে তিন দেশের সামরিক প্রধানদের বৈঠকটি কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সম্প্রতি পরিচালিত হামলাগুলোর তীব্র নিন্দা জানান। নেতারা একইসাথে জাতিসংঘের সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সৌদি আরবের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ বছরের ৭ আগস্ট, যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার এবং সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে এই তিন দেশ। ন্যাটোর ধাঁচে গঠিত এই চুক্তির মূল শর্ত হলো, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা জোটভুক্ত বাকি সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।
চুক্তির পর থেকেই তা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে মিত্র দেশগুলো। গত ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের উপস্থিতিতে ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করা হয়। এতে সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় স্থাপনসহ কৌশলগত সহায়তা জোরদারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তায়েফ ও ইয়ানবুর দিকে ছোড়া ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ