প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে ইউরোপে ভাগ্য বদলের আশায় যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশিরা আবারও বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে মিশরের বিভিন্ন উপকূল থেকে অন্তত ১৬০ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা বর্তমানে মিশরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্র অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১৬০ বাংলাদেশির মধ্যে মাতরুহ উপকূল থেকে ৪৬ জন, পোর্ট সাইদ থেকে ৫৮ জন এবং দামিয়েত থেকে ৫৬ জন উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি সুদান, মিশরসহ অন্যান্য দেশের ইউরোপগামী অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।
উন্নত জীবনের আশায় ঘর ছাড়ার পর, ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ, অনিরাপদ নৌযান এবং অনিশ্চিত গন্তব্য তাদের যাত্রাকে চরম জীবনঝুঁকিতে পরিণত করেছে। ইউরোপে পৌঁছানোর আগেই অনেকের স্বপ্ন সমুদ্রের মাঝপথে থেমে যাচ্ছে। উদ্ধার হওয়ার পর, তাদের সামনে এখন দেশে ফেরার অপেক্ষা।
বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের কর্মীরা উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। উদ্ধার হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই তাদের কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে।
প্রথমে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা, কনস্যুলার সেবা এবং দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। মিশরের পুলিশ, কারা কর্তৃপক্ষ, অভিবাসন বিভাগ, আদালত, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করতে হয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের।
উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
পরপর কয়েকটি ঘটনায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি উদ্ধারের ফলে, দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের ওপর কাজের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য মিশরের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতায় একের পর এক বাংলাদেশি আটকা পড়া কিংবা উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপদ অভিবাসনের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় যাত্রা করা এসব মানুষের অনেকেই মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসছেন। সঙ্গে নিয়ে ফিরছেন ভয়াবহ এক সমুদ্রযাত্রার স্মৃতি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন