বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৩২ পি.এম
সহায়তার পরিবর্তে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে অনাথ শিশুদের স্বনির্ভর করে তুলতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম ‘আলোর ক্যানভাস’ একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কুমিল্লার একটি বৌদ্ধ মন্দিরের অনাথ আশ্রমের শিশুদের নিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের আওতায় নিয়মিত আর্ট ও পেইন্টিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীলতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে আয় মুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ‘আলোর ক্যানভাস’ প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রমে নিযুক্ত রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ কাউছার, সামিউল ইসলাম সজীব, নুসরাত তাহসিন, সামিয়া খান ও আরমান আরিফ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একই বিভাগের হোসাইন ঠাকুর।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং দক্ষ শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হচ্ছে। সাময়িক সহানুভূতির পরিবর্তে, দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিশুদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগটি চালানো হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে পেশাদার শিল্পীদের মাধ্যমে নিয়মিত আর্ট ও পেইন্টিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিশুদের আঁকা ছবিগুলো পরিমার্জন করে প্রদর্শনী ও বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্রেম, ওয়াল আর্ট এবং বিভিন্ন ক্রাফট পণ্যে রূপ দিয়ে সেগুলো বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ শিশুদের উন্নয়ন ও আশ্রমের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
প্রশিক্ষণের শুরু থেকেই শিশুদের সৃজনশীলতা প্রশিক্ষকদের মুগ্ধ করেছে, যেখানে তারা রঙ ও তুলির আঁচড়ে প্রকৃতি, স্বপ্ন, পরিবার এবং নিজেদের অনুভূতি ফুটিয়ে তুলছে। অনেকের ছবিতে দেখা যাচ্ছে পাহাড়, নদী, পাখি, গ্রামবাংলা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
সংগঠনের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, আর্থিক সংকট অথবা পারিবারিক অভাব কোনও শিশুর প্রতিভা বিকাশের পথে বাধা হওয়ার উচিত নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে শিশুরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কার্যক্রমের পরিধি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংগঠনটির কো-ফাউন্ডার ফরহাদ কাউছার বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে আমরা ‘আলোর ক্যানভাস’ নামে একটি তরুণ-নির্ভর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছি। আমাদের প্রথম উদ্যোগ শুরু হয়েছে কুমিল্লার একটি বৌদ্ধ মন্দিরের অনাথ আশ্রমের শিশুদের নিয়ে। আমরা এই প্রতিভাগুলিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বনির্ভর করে তুলতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে তারা নিজেদের দক্ষতাকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাতে পারে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে শিশুদের আর্ট ও পেইন্টিং শেখানো হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের আঁকা ছবিগুলো ফ্রেম, ওয়াল আর্ট ও অন্যান্য ক্রাফট পণ্যে পরিণত করে বাজারজাত করা হবে। এসব থেকে অর্জিত সমস্ত মুনাফা শিশুদের উন্নয়ন ও আশ্রমের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি, তাদের স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৯ জুলাই, ২০২৬ : বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ২০২টি গন্তব্যে ৮১২টি পণ্য রপ্তানি করেছে। এ সময় দেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে আরও রয়েছে- স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, ভারত, ইতালি, কানাডা, জাপান, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, বেলজিয়াম, চীন, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো ও রাশিয়া।
তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-জুন সময়কালে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ছিল বোনা পোশাক (ওভেন গার্মেন্টস), নিট পোশাক, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত ও জীবিত মাছ, কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা এবং প্রকৌশলজাত (ইঞ্জিনিয়ারিং) পণ্য।
বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদকে জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসব পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪৪ হাজার ১৬৭ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।
তিনি আরও বলেন, অর্থবছরটিতে এসব পণ্য থেকে অর্জিত রপ্তানি আয় দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৯১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। টানা বৃষ্টি এবং উজানের ঢলের ফলে জেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের যোগাযোগ এখনও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায় যে, খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটি এবং মহালছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে, এছাড়াও দীঘিনালার সঙ্গে সাজেক-লংগদু উপজেলার সড়ক যোগাযোগও এখনো বাধাগ্রস্ত রয়েছে।
এদিকে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রাখার কারণে চেঙ্গী ও মাইনি নদীর পানির স্তর আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। খাগড়াছড়ি সদর এবং দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু গ্রামে এখনো জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। অনেক পরিবার নিরাপত্তার জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। তাদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
জেলায় এখনো খারাপ আবহাওয়া বিরাজ করছে। এরই মধ্যে খাগড়াছড়ির শালবন, সবুজবাগ, কুমিল্লা টিলাসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোথাও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, খাগড়াছড়িতে মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনের অনুযায়ী এসব কেন্দ্রে দুর্গত মানুষদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাটোর জেলার সিংড়া এলাকায় বজ্রপাতে ইসমাইল হোসেন (৩৬) নামের এক কৃষকের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই মৃত্যু বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টায় ঘটে, যখন কৃষকটি তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। নিহত কৃষক উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের মুন্সি বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে বলেই জানা যাচ্ছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে জানা যায়, নিহত ইসমাইল হোসেন সকাল ৬ টায় মাছ ধরার জন্য বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাঠের দিকে যান। সে সময় সেখানে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল এবং বজ্রের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এই বজ্রপাতে কৃষকটির মৃত্যু ঘটে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। পরে স্থানীয় সিদ্দিক নামের এক প্রতিবেশী কৃষক মাছ ধরতে গিয়ে ইসমাইলকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেছেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বজ্রপাতে ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে মৃতদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গাজা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আল জাজিরা ও লিবার্টি ইনভেস্টিগেটসের যৌথ অনুসন্ধান অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিরক্ষা শিল্প ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট অস্ত্র কোম্পানির সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার জন্য ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
প্রতিবেদন উল্লেখ করছে যে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ১৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অন্তত ২৩৬ জন শিক্ষার্থী ও কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ অন্তত ২৬টি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা তদন্ত করা হয়েছে কিংস কলেজ লন্ডনে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ও এই তালিকায় রয়েছে।
অনুসন্ধানে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ১৮ বছর বয়সী এক মুসলিম ছাত্রী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাঁর লেকচারারের অতীত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার তথ্য শেয়ার করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনবিষয়ক পোস্ট শেয়ার করেন। তাই তাঁকে সাময়িকভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং দুই হাজার শব্দের একটি অনুতাপমূলক প্রবন্ধ লিখতে বলা হয়। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁকে ব্রিটিশ সরকারের ‘প্রিভেন্ট’ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন আরও জানায়, ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের জন্য কিংস কলেজসহ যুক্তরাজ্যের অন্তত এক ডজন বিশ্ববিদ্যালয় একটি বেসরকারি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য ১৩ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিক সতর্কতা প্রদান করা হয়। মিশরীয় শিক্ষার্থী উসামা ঘানেমকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাঁর শিক্ষার্থী ভিসাও বাতিল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কিংস কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে আর্থিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রায় ২০ মিলিয়ন পাউন্ড এমন সব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে, যেগুলো গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া ২০২০ সাল থেকে বিএই সিস্টেমস, থেলস এবং রোলস রয়েসের মতো প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অন্তত ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন পাউন্ড গবেষণা তহবিল পেয়েছে কিংস কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সমিতির স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক জিনা রোমেরো কিংস কলেজের এই আচরণকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ