মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫৭ পি.এম
কলকাতা পুলিশের কর্তৃপক্ষ ৪৭ জন মুসলিম সদস্যের দাড়ি রাখার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। চাকরিতে বহাল থাকতে হলে তাদের দাড়ি কামানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং সদস্যদের চেহারায় সামঞ্জস্য বজায় রাখার যুক্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। নির্দেশিকায় পুলিশের প্রচলিত দাড়িসংক্রান্ত পোশাকবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুগ্ম কমিশনার (সদর দপ্তর) স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় দাড়ি রাখার আবেদন করা ৪৭ জন মুসলিম পুলিশ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি অবিলম্বে জানিয়ে দেওয়া এবং নির্দেশিকাটি যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তে পুলিশ সদস্যদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও মনঃকষ্ট তৈরি হয়েছে। অনেকেই ধর্মীয় কারণে দাড়ি রেখেছিলেন। স্থানীয় পত্রিকা ‘পুবের কলম’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকজন হজ পালন শেষে সুন্নাহ অনুসরণের উদ্দেশ্যে দাড়ি রেখেছিলেন।
এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীতে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা পাগড়ি, বড় চুল ও দাড়ি রেখেই দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেলেও মুসলিম পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে কেন একই ধরনের ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রযোজ্য হবে না।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও মুসলিম পুলিশ সদস্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে সাফল্য পাওয়া সহজ নাও হতে পারে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের জন্য প্রণীত বিধিমালা বা ‘ম্যানুয়াল’-এ সাধারণভাবে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া পুলিশ সদস্যরা দাড়ি রাখতে পারবেন না। তবে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের ক্ষেত্রে এই বিধির ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের এ ধরনের পোশাক ও সাজসজ্জার বিধির পেছনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যবস্থার প্রভাব রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের অভিন্ন চেহারা, শৃঙ্খলা এবং বাহিনীগত সামঞ্জস্য বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। সেই ধারাবাহিকতায় দাড়ি রাখার ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
কলকাতা পুলিশের সর্বশেষ নির্দেশিকায় সেই পুরোনো বিধিই কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বাহিনীর শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ভূমি অফিসে নামজারি করতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এক ব্যক্তির অভিযোগ অনুযায়ী, চারটি নামজারির জন্য প্রথমে ৭০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা সম্পন্ন হয়। এ সময় নগদ টাকা গ্রহণ ও গোনার একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগকারী মহিউদ্দিন খন্দকার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নয়াচর চর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, গত ২০ মে ভূমি মেলার সময় ছয়টি দলিলের নামজারির বিষয়ে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহানের কাছে যান। তার অভিযোগ, শুরুতেই ছয়টি নামজারির জন্য ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে দুটি দলিল বাদ দিয়ে চারটি নামজারির জন্য ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়।
মহিউদ্দিনের দাবি, সমঝোতা অনুযায়ী তিনি প্রথমে ১০ হাজার টাকা নগদ দেন। বাকি ১০ হাজার টাকা কাজ শেষ হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চারটি আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যে একটি নামজারি সম্পন্ন হলেও বাকি আবেদনগুলো ঝুলে আছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আরটিভির হাতে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে, এক ব্যক্তির হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে। পরে ওই ব্যক্তি টাকা গুনে নিজের কাছে রাখছেন। ভিডিওতে নামজারি ও অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
সরকারি নির্ধারিত হিসাবে একটি নামজারির ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। অভিযোগটি সত্য হলে চারটি নামজারির জন্য সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়ে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গাবালী ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মহিউদ্দিন খন্দকার তার কাছে আসেননি এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও তার কাছে জমা দেওয়া হয়নি। অভিযোগের বিষয়টিও তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
নামজারির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগের সত্যতা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ গাভদোসের নিকটে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ফলে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গ্রিক সংবাদমাধ্যম ‘টু ভিমা’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নৌকাটিতে মোট ৭৭ জন যাত্রী ছিল। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর গ্রিসের কোস্টগার্ড ৫১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে গ্রিসের কোস্টগার্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্স যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। অনুসন্ধানের জন্য চারটি নৌযান, একটি উড়োজাহাজ এবং একটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে কোন কোন দেশের নাগরিক রয়েছেন, সেই তথ্য এখনও গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানায়নি। তবে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ক্রিট দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গ্রিক সংবাদমাধ্যম ইআরটি জানিয়েছে, সোমবার থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান শুরু হয়। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, গ্রিসে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আইন যথেষ্ট কঠোর। দেশের ভূখণ্ডে নথিবিহীন অবস্থায় প্রবেশ করলে বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক আটক, শাস্তি এবং দ্রুত বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়।
সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুস্থ থাকতে চাইলে সব সময় কঠিন নিয়ম বা দ্রুত ফল পাওয়ার পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না। বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই শরীর ও মন ভালো রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কিছু অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য নিয়ে নানা পরামর্শ ও নতুন নতুন পদ্ধতির ভিড়ে সহজ ও দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলা যায়—এমন অভ্যাসই বেশি কার্যকর। প্রতিদিনের জীবনে এমন পাঁচটি অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখুন
প্রতিদিন কিছু সময় বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন। হাঁটার সময় চারপাশের গাছপালা, পাখি বা প্রকৃতির দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে মন শান্ত হতে এবং দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ধ্যানও মন ও শরীরকে শান্ত রাখতে সহায়ক। শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অভ্যাস করা যায়। নিয়মিত এমন অনুশীলন দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমাতে, হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
খাওয়ার সময়ও মনোযোগী হওয়া জরুরি। ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া এবং খাবারের স্বাদ উপভোগ করা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ঘুমকে গুরুত্ব দিন
ভালো ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, শরীর ও মনের সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ও শান্ত ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, স্মৃতি, বিচারবোধ এবং মানসিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।
বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্কের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে শুধু কত ঘণ্টা ঘুম হলো, তা নয়—ঘুম কতটা গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন হলো, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো ঘুমের জন্য প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জেগে ওঠার অভ্যাস করা যেতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা, বিকেল ও সন্ধ্যার পর চা-কফি এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর আগে বেশি খাবার না খাওয়াও উপকারী। ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে মুঠোফোন, কম্পিউটার বা অন্য পর্দার ব্যবহার বন্ধ করা ভালো।
নিয়মিত ঘুমের সমস্যা, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রাকৃতিক খাবার বেশি খান
শাকসবজি, ফল, ডাল, মটরশুঁটি, ছোলা ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। এসব খাবার দীর্ঘমেয়াদে শরীর সুস্থ রাখতে এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে অনেক সময় বেশি লবণ, চিনি, কৃত্রিম মিষ্টি, রং ও অন্যান্য উপাদান যোগ করা হয়। এসব খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য ভালো নয়।
তাহলে খাবারের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব তাজা ও স্বাভাবিক খাবারকে প্রাধান্য দেওয়া ভালো।
বেশি নড়াচড়া করুন, কম বসে থাকুন
ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ সময় বসে থাকা খুব সহজ। কিন্তু শরীরকে সচল রাখতে দিনের বিভিন্ন সময় নড়াচড়া করার সুযোগ খুঁজে নেওয়া জরুরি।
প্রতিদিন একটানা ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করা ভালো। তবে এর পাশাপাশি সারাদিন ছোট ছোট সময় হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা বা অন্যভাবে শরীর সচল রাখাও উপকারী।
কাজের ফাঁকে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা, বন্ধুদের সঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়ার পরিবর্তে হাঁটতে হাঁটতে সময় কাটানো—এ ধরনের অভ্যাস শরীরকে সচল রাখতে পারে।
বয়স, অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে যাদের চলাফেরায় সমস্যা রয়েছে, তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উপযুক্ত শারীরিক কার্যক্রম বেছে নিতে পারেন।
প্রতিদিনের ক্ষতিকর উপাদান থেকে নিজেকে বাঁচান
বায়ুদূষণ, অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা এবং কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান আধুনিক জীবনে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা কঠিন। এসব উপাদান শরীরে ঢুকে ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
বায়ুদূষণ বা আগুনের ধোঁয়ার অতি ক্ষুদ্র কণা ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে পারে এবং রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে হৃদ্রোগ, ফুসফুসের সমস্যা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
রান্নার সময় গ্যাসের চুলা থেকেও কিছু ক্ষতিকর গ্যাস ও অতিক্ষুদ্র কণা তৈরি হতে পারে। তাই রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। সম্ভব হলে বৈদ্যুতিক বা তড়িৎচৌম্বক চুলা ব্যবহার করা যেতে পারে।
পানি পরিষ্কার রাখতে উপযুক্ত পানি পরিশোধক ব্যবহার করা, রান্নাঘরের প্লাস্টিকের বদলে কাচের পাত্র ব্যবহার করা এবং পানির জন্য স্টিলের বোতল ব্যবহার করাও ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বাইরের বাতাসে দূষণ বেশি থাকলে ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বাইরে কাজ করেন এমন মানুষের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
ছোট অভ্যাসেই বড় পরিবর্তন
সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন কঠিন কোনো নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন নেই। মনকে শান্ত রাখা, ভালো ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত নড়াচড়া এবং ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শ কমানোর মতো সহজ অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় নতুন নতুন পদ্ধতির পেছনে না ছুটে প্রতিদিনের জীবনে টেকসই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে সুস্থ থাকার সহজ পথ।
সূত্র: হার্ভার্ড
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলা আমাদের জন্য অপরিহার্য। অতীতের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি জানার মাধ্যমে আমরা সেই শিক্ষা গ্রহণ করি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় একনজরে দেখা যাক।
ঘটনাবলি
৯৯৪ সালে ওরেন্তেসের যুদ্ধে ফাতেমীয়রা বাজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের বিজয় অর্জন করে।
১৬৫৬ সালে ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
১৭৭৬ সালে ব্রিটেন ম্যানহাটান দখল করে।
১৮১২ সালে নেপোলিয়নের ফরাসি বাহিনী মস্কোর ক্রেমলিনে তাঁবু গাড়ে।
১৮১২ সালে রুশরা ফরাসি দখলদারি প্রতিহত করতে মস্কোয় আগুন লাগিয়ে দেয়।
১৮২১ সালে মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া ও কোস্টারিকা স্পেনের উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে।
১৮৩৫ সালে ভারতে সংবাদ পরিবেশনের কাজে মুদ্রণযন্ত্রের ব্যবহার অনুমোদন করে ‘লিবার্টি অব দ্য প্রেস অ্যাক্ট’ স্বাক্ষরিত হয়।
১৮৯৪ সালে পিয়ং ইয়ংয়ের যুদ্ধে জাপানের কাছে চীন পরাস্ত হয়।
১৯১৬ সালে বিশ্বযুদ্ধে প্রথমবারের মতো ট্যাঙ্ক ব্যবহৃত হয়।
১৯১৭ সালে আলেকজান্ডার কেরেনস্কি রাশিয়াকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।
১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন।
১৯৩৫ সালে নুরেমবার্গ আইনের মাধ্যমে জার্মান ইহুদিদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।
১৯৩৫ সালে জার্মানির স্বস্তিকাযুক্ত নতুন পতাকা চালু হয়।
১৯৪৬ সালে বুলগেরিয়া গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষিত হয়।
১৯৪৭ সালে তমদ্দুন মজলিস ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
১৯৫২ সালে জাতিসংঘ আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়াকে ইরিত্রিয়া দান করে, যা পরবর্তীকালে স্বাধীন হয়।
১৯৫৮ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে ‘ত্রাকোমি’ নামে চোখের বিপজ্জনক সংক্রামক রোগের ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়।
১৯৫৯ সালে দূরদর্শন (সংক্ষেপে ডিডি) ভারতে প্রথম টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু করে। নিকিতা ক্রশেভ প্রথম সোভিয়েত নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান।
১৯৭৩ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মিশর ও সিরিয়া।
১৯৮১ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু জাতিসংঘের সদস্য হয়।
১৯৮২ সালে লেবাননের রাষ্ট্রপতি বাসির গামায়েল আততায়ীর হাতে নিহত হন।
১৯৮৯ সালে পাকিস্তান কমনওয়েলথে ফিরে আসে।
১৯৯১ সালে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের মেসিডোনিয়া সাবেক যুগোশ্লাভিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশে গণভোটে সংসদীয় পদ্ধতির পক্ষে গণরায় প্রদান করা হয়।
১৯৯৬ সালে ক্রিকেটে বাংলাদেশ এসিসি ট্রফি জয় করে।
১৯৯৮ সালে আমেরিকার টেলিকম্যুনিকেশন কোম্পানি ওয়ার্ল্ডকম ও এমসিআই যুক্ত হয়ে এমসিআই ওয়ার্ল্ডকম নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যা ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সংযুক্তি।
২০০৮ সালে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান লেহম্যান ব্রাদার্স দেউলিয়া ঘোষিত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের এ যাবৎকালের বৃহত্তম দেউলিয়ার ঘটনা।
জন্ম
১২৫৪ সালে মার্কো পোলো, ইতালির ভেনিস অঞ্চলের একজন বণিক ও বিখ্যাত পরিব্রাজক জন্মগ্রহণ করেন।
১৫০৫ সালে হাঙ্গেরির রানি মারিয়া জন্মগ্রহণ করেন।
১৭৮৯ সালে জেমস ফেনিমোর কুপার, দ্য লাস্ট অব দ্য মোহিকানস খ্যাত কথাসাহিত্যিক জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৫৭ সালে উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফ্ট্, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৭তম রাষ্ট্রপতি ও ১০ম প্রধান বিচারপতি জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৬০ সালে ভারতরত্ন এম. বিশ্বেশ্বরায়া, ভারতের প্রখ্যাত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, দক্ষ প্রশাসক ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনেতা জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৭৬ সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৯০ সালে আগাথা ক্রিস্টি, ‘দ্য কুইন অব ক্রাইম’ ডাকনামে পরিচিত ইংরেজ অপরাধ কল্পকাহিনি লেখক জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৯৪ সালে জঁ রনোয়ার, ফরাসি চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা ও লেখক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯০৪ সালে ইতালির রাজা দ্বিতীয় উমবার্তো জন্মগ্রহণ করেন।
১৯০৭ সালে ফায় ওরায়, কানাডিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন অভিনেত্রী জন্মগ্রহণ করেন।
১৯০৯ সালে সি.এন. আন্নাদুরাই, ভারতীয় রাজনীতিবিদ, ভালো বাগ্মী, মাদ্রাজ প্রদেশের সর্বশেষ ও তামিলনাড়ুর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী জন্মগ্রহণ করেন।
১৯১৪ সালে আডোলফো বিওয় কাসারইয়েস, আর্জেন্টিনার সাংবাদিক ও লেখক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯১৬ সালে রুমানিয়ার খ্যাতনামা লেখক ও গবেষক কনস্ট্যান্টিন ভারযিল গিওরগো জন্মগ্রহণ করেন।
১৯২৯ সালে মারি গেল-ম্যান, নোবেলজয়ী মার্কিন পদার্থবিদ জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৩৭ সালে রবার্ট এমারসন লুকাস, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪৬ সালে অলিভার স্টোন, একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্য লেখক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৫৪ সালে হ্রান্ট ডিঙ্ক, তুর্কি সাংবাদিক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৬৫ সালে রবার্ট ফিকো, স্লোভাক রাজনীতিবিদ, অধ্যাপক ও ১৪তম প্রধানমন্ত্রী জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালে নাথান অ্যাসলে, নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭৯ সালে কার্লোস রুইজ, গুয়াতেমালার ফুটবলার জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮৮ সালে চেলসিয়া কেন, মার্কিন অভিনেত্রী ও গায়িকা জন্মগ্রহণ করেন।
মৃত্যু
১৮৫৯ সালে ইসামবারড কিংডম ব্রুনেল, ইংরেজ প্রকৌশলী ও গ্রেট পশ্চিম রেলওয়ে ডিজাইনার জন্মগ্রহণ করেন।
১৯২৬ সালে রুডল্ফ ক্রিস্টফ অয়কেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান দার্শনিক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৩৮ সালে টমাস ওয়লফে, মার্কিন লেখক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪৫ সালে অ্যান্টন ওয়েবেরন, অস্ট্রীয় সুরকার ও পথপ্রদর্শক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮৯ সালে রবার্ট পেন ওয়ারেন, মার্কিন কবি, লেখক ও সমালোচক জন্মগ্রহণ করেন।
২০০৬ সালে নিতুন কুণ্ডু, বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী ও উদ্যোক্তা জন্মগ্রহণ করেন।
২০০৮ সালে স্টাভরস পারাভাস, গ্রিক অভিনেতা জন্মগ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ