ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মঙ্গলে ৩৯০ কোটি বছরের পুরোনো শিলার খোঁজ


মঙ্গলে ৩৯০ কোটি বছরের পুরোনো শিলার খোঁজ

মঙ্গলের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে নতুন একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য করেছে নাসার ‘পারসিভারেন্স রোভার’। এই রোভারটি জেজেরো খাদের প্রান্তে ২৪৫ ফুট পুরু একটি বিশাল শিলাস্তরের সন্ধান পেয়েছে। নাসার মতে, এই স্তরটি মূলত তৈরি হয়েছে বারবার গ্রহাণুর আঘাতের ফলে।

রোভারের বিজ্ঞানীদের একটি দলের দ্বারা এই শিলাস্তরের নামকরণ করা হয়েছে ‘ব্রুম পয়েন্ট মেম্বার’। তাদের ধারণা অনুযায়ী, এই স্তরটি প্রায় ৩৯০ কোটি বছরের পুরোনো হতে পারে। এটি মঙ্গলে এখন পর্যন্ত পরীক্ষিত সবচেয়ে প্রাচীন ভূখণ্ডের মধ্যে অন্যতম।

বুধবার ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: প্ল্যানেটস’-এ এই গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা সৌরজগতের ইতিহাসের সবচেয়ে সংঘাতময় একটি সময়ের ধারণা প্রদান করে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এই আবিষ্কারের বিষয়ে পারসিভারেন্স প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেন ফার্লে জানিয়েছেন, পৃথিবীর প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস টেকটোনিক প্লেটের কারণে মুছে গেছে। কিন্তু মঙ্গলে টেকটোনিক প্লেট না থাকার ফলে সেই রেকর্ড এখনো অক্ষত রয়েছে। এর ফলে বিজ্ঞানীরা এমন এক ভূতাত্ত্বিক সময়ের সন্ধান পাচ্ছেন, যা পৃথিবীতে আর অবশিষ্ট নেই।

২০২৪ সালের শেষের দিকে রোভারটি এই অঞ্চলে গবেষণা শুরু করবে। সেখানে সংগৃহীত তথ্যে ছয় ধরনের শিলার উপস্থিতি চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, শিলাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাচের মতো দেখতে ছোট ছোট গুটিকা বা বিড রয়েছে। এগুলো মূলত শক্তিশালী গ্রহাণুর আঘাতের ফলেই তৈরি হয়েছে। কিছু গুটিকা এমনও রয়েছে, যা পৃথিবীতে ডাইনোসর বিলুপ্তকারী ‘চিকসুলুব’ গ্রহাণুর আঘাতের সৃষ্ট গুটিকাগুলোর মতোই বড়।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক অ্যালেক্স জোনস জানিয়েছেন, বিভিন্ন দূরত্বে ঘটা নানা আকারের গ্রহাণুর আঘাতের ফলে এই পুরু শিলাস্তরগুলো জমা হয়েছে। এছাড়াও, স্তরগুলো তৈরির পেছনে পানি বা বরফের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। পৃথিবীতে গলিত শিলা যখন পানি বা বরফের সংস্পর্শে আসে, তখন দ্রুতগতির প্রবাহ তৈরি হয়; সম্ভবত মঙ্গলের এই স্তরগুলোর ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটেছিল।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ পি.এম


মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি ইরানের

 যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার নতুন করে ইরানে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ হচ্ছে, মার্কিন বাহিনী বেসামরিক স্থাপনায়ও আঘাত হেনেছে। এর জবাবে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাতটি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে উসকে দিয়েছে। টানা ছয় দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলেছে।

তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানের কথা জানায়। তেহরানের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলা।

শুক্রবার ভোরে ইরান একটি বিমানবন্দর, একটি রেলস্টেশন, এবং দুটি সেতুতে হামলার খবর দেয়। এসব হামলায় ঘটনাক্রমে কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উদ্ধৃতিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র বলেন, 'আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছি, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলের সব অবকাঠামোই ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।'

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত বন্ধে এক মাস আগে প্রাথমিক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সেই সমঝোতা সত্ত্বেও নতুন করে সংঘাত শুরু হয়ে গেছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, এখন ইরান বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রাখার দাবি করছে। এ নিয়ে হামলা-পাল্টা হামলা এখন অব্যাহত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি কার্যকর হলে পুরো অঞ্চলের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন তেহরান। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনও কূটনৈতিক সমাধানের জন্য উন্মুক্ত রয়েছেন।

নিজেদের অবকাঠামোয় কথিত মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে হামলা চালাতে শুরু করে ইরান।

কাতার ও কুয়েত শুক্রবার জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিচ্ছে। এএফপির সাংবাদিকরা কাতারের রাজধানী দোহায় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন।

বাহরাইনের ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শহুরে অবকাঠামো ও নিরীহ মানুষের ওপর শত্রুর হামলার জবাবে একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে।

বাহরাইন সরকার নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে এবং সতর্কসংকেত হিসেবে সাইরেন বাজানো হয়েছে।

এর একদিন আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আহভাজ শহরের কাছে শিশুদের ক্যানসার হাসপাতালে কথিত মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা।

-'কখনও পিছু হটব না'-

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর হাসপাতালটি খালি করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এ হামলাকে 'বর্বরোচিত' বলে অভিহিত করেন।

আহভাজের ৩৪ বছর বয়সী শিক্ষক হানি বলেন, হামলাগুলো ছিল 'অত্যন্ত ভয়াবহ।' তিনি বলেন, 'আমার হাত কাঁপছে। অন্তত ১১ থেকে ১২টি বিস্ফোরণ হয়েছে। আমার কানে যেন বিস্ফোরণ ঘটছে।'

ইরানের সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, 'হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে আমরা কখনও পিছু হটবে না।'

-অবকাঠামোতে হামলার হুমকি-

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি বলেন, গত মাসে পাকিস্তরের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতার আওতায় ইসলামাবাদ সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে উৎসাহিত করবে।

তবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, কোনো চুক্তির ধারাগুলো কার্যকর ও বাস্তবায়িত হলেই কেবল সেই চুক্তির অর্থ রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য ট্রাম্প ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনবেন। পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের জন্যও সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, 'তারা প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছে যে, এখনো একটি চুক্তি করতে চায়। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। কিন্তু প্রণালীতে জাহাজের ওপর হামলা চালিয়ে কোনো মূল্য না দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ প্রেসিডেন্ট দেবেন না।'

এর আগে ট্রাম্প সতর্ক কওে বলেন, তেহরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালাবেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেছিলেন, 'আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি সত্যিই খুব খারাপ হবে।'

বৃহস্পতিবার ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে 'পুরো অঞ্চলের সব অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।'

সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় ইরানে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শরিফুলের ‘অপহরণ নাটক’ ফাঁস, কায়রোতে বিপাকে নিরীহ প্রবাসীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শরিফুলের ‘অপহরণ নাটক’ ফাঁস, কায়রোতে বিপাকে নিরীহ প্রবাসীরা

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামের কথিত অপহরণের নাটক অবশেষে কায়রোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। দেশে এক কোটি টাকারও বেশি ঋণের বোঝা এড়াতে এবং পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতেই শরিফুল মিসরে এসে এই অপহরণের নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন বলে আদালতে ও তদন্তকারীদের কাছে নিজেই স্বীকার করেছেন।

তবে এই সাজানো ঘটনার কারণে মিসরের ন্যাশনাল সিকিউরিটির চিরুনি অভিযানে চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন নিরীহ বাংলাদেশি প্রবাসী।

ঋণের বোঝা এড়াতে ‘মানসিক বিকারগ্রস্ততার’ নাটক

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বুড়াপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে শরিফুল ইসলাম দেশে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে তিনি প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি মিসরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তাকে মিসরে আসার ব্যাপারে সহযোগিতা করেন নাসিমা আক্তার নামের এক নারী।

সে সময় শরিফুল অভিযোগ করেছিলেন, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকার কাস্টমস অফিসে মিসরপ্রবাসী নাসিমা আক্তার নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই নারী মিসর থেকে কমলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যবসার সুযোগ রয়েছে বলে তাকে জানান। একইসঙ্গে দূতাবাস থেকে ভিসার প্রয়োজন নেই জানিয়ে শ্রীলঙ্কা হয়ে ‘ওকে-টু-বোর্ড’ ভিসায় কায়রো আসার পরামর্শ দেন এবং সব ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

শরিফুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পরিকল্পনা ছিল মিসরে পৌঁছানোর পর তিনি নাসিমাকে যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ বাবদ পেমেন্ট করবেন। কায়রো এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পর নাসিমার পরিচিত ব্যক্তিরা তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। নাসিমা তাকে রান্না করে খাওয়ান এবং পরদিন সকালে একটি কারখানায় কাজের ব্যবস্থাও করে দেন। কিন্তু পূর্বপ্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পেমেন্ট না করে, ওই রাতেই (রাত ২টায়) সাদাত সিটির বেলকু ফ্যাক্টরি থেকে কৌশলে পালিয়ে যান শরিফুল।

পরবর্তীতে এই প্রতিবেদক ও কায়রো আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শরিফুল স্বীকার করেন যে, তিনি ভেবেছিলেন মিসরে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজালে দেশের পাওনাদাররা তাকে ভুলে যাবে এবং নিজেকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত প্রমাণ করে তিনি পার পেয়ে যাবেন।

ভুল তথ্যে কায়রো গোয়েন্দা বাহিনীর চিরুনি অভিযান

শরিফুল পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলে কায়রোর গোয়েন্দা বিভাগ (আমান উদ দৌলা) মাদি এলাকায় একটি চিরুনি অভিযান চালায়। শরিফুল আরবি ভাষা না জানায়, অভিযানের সময় তিনি যাকে দেখেই ইশারা করেছেন বা মাথা নাড়িয়েছেন, তাকেই পুলিশ আটক করে। এভাবে মোট ৭ জন নিরীহ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ৩ জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি ৪ জনকে মাদি থানায় আটকে রাখা হয়।

পরবর্তীতে শরিফুলসহ আটককৃতদের কায়রো ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হলে আদালত সবাইকে জামিন দেন। তবে বিদেশি নাগরিক হওয়ায় থানা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পেতে মিসরের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি’ বা জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। কায়রোর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট কথিত বাদী শরিফুলের মিথ্যাচারের জন্য তাকে বড় অঙ্কের জরিমানা করতে চাইলে এই প্রতিবেদকের বিশেষ অনুরোধে আদালত জরিমানামওকুফ করে তাকে অবিলম্বে দেশত্যাগের নির্দেশ দেন।

নেপথ্যে ছিল মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার চিঠি

এই পুরো ঘটনার পেছনে প্রভাব বিস্তার করেছিল ঢাকা থেকে পাঠানো একটি সরকারি সুপারিশনামা। শরিফুলের আপন মামাতো ভাই, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ন) মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছিল, কুষ্টিয়ার শরিফুলকে কায়রো বিমানবন্দর থেকে ৪-৫ জন বাংলাদেশি অপহরণ করেছে এবং তার সঙ্গে থাকা ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দেশে পাঠানোর সুপারিশ করা হয় চিঠিতে। এই চিঠির পরই নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করলে মিসরের ন্যাশনাল সিকিউরিটি তদন্তে নামে এবং শরিফুলকে সহায়তাকারী নিরীহ প্রবাসীদের গ্রেফতার করে।

শেষরক্ষা হলো না নির্দোষ প্রবাসীদের, সবারই ভিসা বাতিল

এই মিথ্যা অপহরণ নাটকের বলি হয়ে শেষ পর্যন্ত চারজন প্রবাসীকেই মিসর ছাড়তে হয়েছে। গত ৮ জুলাই অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে শরিফুল ইসলামসহ অভিযুক্ত সাজানো অপহৃতা নাসিমা আক্তার এবং শফিকুল ইসলাম রিপন নামের এক শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠায় মিসরের ন্যাশনাল সিকিউরিটি। বেলকু ফ্যাক্টরির বাংলাদেশিদের দায়িত্বশীল ‘মুদির’ (ম্যানেজার) জজ মিয়াকে তদন্তের স্বার্থে রেখে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৪ জুলাই তাকেও মিসরে বৈধ বসবাসের অনুমতি (বিজনেস ভিসা) বাতিল করে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা হয়।

শরিফুলের ইউ-টার্ন

মিসর ত্যাগ করার দিন শরিফুল ইসলাম একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, আসলে এসব নাটক করার কোনো ইচ্ছে আমার ছিল না। এক গণমাধ্যমকর্মীর খপ্পরে পড়ে আমি এই ভুল কাজগুলো করেছি। আমি আমার ভুলের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

নীরব ভূমিকায় বাংলাদেশ দূতাবাস

পুরো ঘটনার বিষয়ে এবং সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার চিঠির ভিত্তিতে নির্দোষ প্রবাসীদের হয়রানি ও বিতাড়নের বিষয়ে জানতে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রধান আতাউল হক এবং কাউন্সিলর জাকির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা কল ধরেননি এবং পরবর্তীতে খুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাতে উঠছে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নশিপ রিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাতে উঠছে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নশিপ রিং

ফুটবল বিশ্বকাপে সাধারণত চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ট্রফির পাশাপাশি মেডেল প্রদান করা হয়। কিন্তু এবার ফিফা অন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছে। এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়ন দলকে ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা।

যুক্তরাষ্ট্রের এনবিএ, এনএফএল কিংবা এমএলবির মতো প্রখ্যাত লিগগুলোতে চ্যাম্পিয়নশিপ রিংয়ের ঐতিহ্য দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে এই চ্যাম্পিয়নশিপ রিং প্রথার যাত্রা শুরু হলো।

ফিফার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়নশিপ রিংয়ের ব্যাপারে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মোট ২ হাজার ২৬টি রিং প্রস্তুত করা হবে। এর মধ্যে মাত্র ৩০টি রিং থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের জন্য নির্ধারিত। বাকি ১ হাজার ৯৯৬টি রিং হবে অফিশিয়াল লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্য, যা বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের জন্য বাজারে উপলব্ধ করা হবে।

রিংয়ের এক পাশে থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা, অন্য পাশে থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের পরিচয়, রং এবং তাদের প্রতীক। বিজয়ী দলের জন্য প্রস্তুত প্রতিটি রিং থাকবে আলাদা সিরিয়াল নম্বরযুক্ত। সবার আঙুলের মাপ অনুযায়ী তৈরি হবে রিং, যা সত্যায়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

ফাইনাল পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই বিজয়ী দলের অধিনায়ক এবং প্রধান কোচকে স্মারক হিসেবে অস্থায়ী রিং প্রদান করা হবে। এরপর খেলোয়াড় ও স্টাফদের সঠিক মাপ অনুযায়ী ৩০টি রিং প্রস্তুত করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পরানো হবে।

এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে স্পেনের। আগামী ১৯ জুলাই রাত ১টায় নিউ ইয়র্ক জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। এবং এ ম্যাচে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে চ্যাম্পিয়নশিপ রিং পরানো হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুরাছড়ির বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণে এমপি দীপেন দেওয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


জুরাছড়ির বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণে এমপি দীপেন দেওয়ান

ভারী বর্ষণ এবং প্লাবনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গামাটির দুর্গম জুরাছড়ি এলাকা পরিদর্শন করেছেন রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।

এদিন (শুক্রবার) সকালে তিনি প্লাবিত এলাকা, আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন। তিনি সাথে সাথে তাদের হাতে ত্রাণ সহায়তা তুলে দেন।

দীপেন দেওয়ান পরিদর্শনকালে বলেন, "দুর্যোগে পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের পাশে সরকার আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।" তিনি যোগ করেন, "ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

দীপেন আরও বলেন, "দুর্যোগ সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।" যেসব কৃষকের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কৃষি কার্যক্রম দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। তিনি অবশ্যই বলেন, "পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি কৃষক ও সাধারণ মানুষের পাশে সরকার সবসময় থাকবে।"

পরে দীপেন দেওয়ান উপজেলা পরিষদে তাঁর কার্যালয়ে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ওই সময় বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

পরিদর্শনকালে জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব দাস, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির, জিয়া পরিষদ সোনালী ব্যাংক পিএলসির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র চাকমা, জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক মো. শফি, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমন, যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিনসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%