মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৩ পি.এম
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ২০২১-২০২২ থেকে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরীক্ষাগুলো দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার এবং পরীক্ষার পর নির্ধারিত সময়ে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়ে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা কলেজের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী সিদরাতুল আজাদ তানহা লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে একটি স্বতন্ত্র, আধুনিক ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। প্রশাসনিক জটিলতা, সেশনজট, ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা, শিক্ষক সংকট এবং অ্যাকাডেমিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বারবার রাজপথে নেমেছেন। হাজারো শিক্ষার্থীর সাহস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
নতুন ভিসি অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে স্বাগত জানিয়ে সিদরাতুল আজাদ তানহা বলেন, "জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট নিরসন ও অ্যাকাডেমিক সংকট মোকাবিলায় অধ্যাপক লুৎফর রহমান স্যারের অভিজ্ঞতাকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান ও বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে। দীর্ঘদিন আমরা আন্দোলন করেছি, এখন আমরা একটি স্বতন্ত্র প্রশাসন পেয়েছি। তাই আমাদের প্রত্যাশা-প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করবে এবং পুরোনো ব্যবস্থাকে কেবল বহাল রাখার পরিবর্তে বিদ্যমান সংকট নিরসনে কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করবে।"
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত সাত দফা দাবিসমূহ হলো :
১. সেশনজট নিরসন : ২০২১-২০২২ থেকে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে হবে এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
২. ফি কমানো : সেশন ফি ও পরীক্ষার ফর্ম পূরণের ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমাতে হবে।
৩. পূর্ণাঙ্গ প্রশাসন ও আধুনিক কারিকুলাম : দ্রুততম সময়ে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট গঠন করে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে এবং সময়োপযোগী ও আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে।
৪. অ্যাকাডেমিক অবকাঠামোর উন্নয়ন : প্রতিটি ক্যাম্পাসে মানসম্মত শ্রেণিকক্ষ, পাঠদানের পরিবেশ, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার এবং গবেষণার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে হবে।
৫. স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন ও টিএসসি : ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্য স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন এবং ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) নির্মাণ ও নিশ্চিত করতে হবে।
৬. আবাসন সংকট নিরসন : শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে প্রতিটি ক্যাম্পাসে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন আবাসিক হল নির্মাণ করতে হবে।
৭. পরিবহন সংকট নিরসন : শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রতিটি ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৯ বছরের এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে হানিফ আলী নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঘাটাইল উপজেলার পূর্ব লোকেরপাড়া এলাকার মারকাযুল কোরআন রিজিয়া ফজলুর রহমান হাফিজিয়া মাদরাসায় এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাড়ি উপজেলার যোগীহাটি গ্রামে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে মাদরাসার শিক্ষক হানিফ শিশুটিকে ডেকে অফিসকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে তাকে শরীর ম্যাসাজ করানো হয়।
পরবর্তীতে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার পর শিশুটিকে কাউকে না জানাতে নিষেধ করা হয়। কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
পরদিন শুক্রবার অসুস্থ অবস্থায় শিশুটি বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে মাদরাসায় গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন।
শিশুটির মা বলেন, ‘ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদরাসায় পাঠিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমার নিষ্পাপ সন্তান এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যে ব্যক্তি আমার ছেলের সঙ্গে এমন নোংরা কাজ করেছে, আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এমন শাস্তি চাই, যাতে আর কোনো মায়ের শিশুর সঙ্গে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।’
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক হানিফকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ওই মাদরাসায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষক হানিফ আগের ঘটনায় জড়িত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পুনরাবৃত্তির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরো বেড়েছে। তারা মাদরাসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
লোকেরপাড়া ও এস ফাযিল মাদরাসার সহ-সভাপতি কাওসার আহম্মেদ কায়েস বলেন, ‘আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
শিশুটির চাচা লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি চাই।’
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকসেদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি অর্থবছরের চতুর্থ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ব্যয়ে মোট ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৮টি নতুন, ৩টি সংশোধিত এবং ২টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি নতুন প্রকল্প, ৩টি সংশোধিত প্রকল্প এবং ২টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে।
একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “Integrated Health System Response to Fight Against TB, HIV/AIDS and Malaria In Bangladesh” এবং “পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, পটুয়াখালী (১ম সংশোধিত)”。 অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)”। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রাম-এ হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা”।
পানি মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী এবং বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)” এবং “মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা”। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)”。
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প” এবং “মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় সংশোধন)”。 বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধন)”。 স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “র্যাব (এসআরবি)-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত)”。 বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ” এবং “তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ”।
একনেক সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর নিজস্ব ক্ষমতাবলে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও অবহিত করা হয়। ওই প্রকল্পগুলো হলো- বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নির্ঝর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিদ্যমান ৩ তলা ভবনের উপর ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (৬ তলার ভিত) প্রকল্প; বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলা ঢাকায় বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প; আলীকদম সেনানিবাসে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্ব) প্রকল্প; ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ১০ জেলায় বিএসটিআইর আঞ্চলিক কার্যলয় স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; রূপসা ৮০০ মে. ওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প (১ম সংশোধিত); মিরপুর ইউসেপ-শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং মানসম্পদ উন্নয়ন (১ম সংশোধিত); ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়ার্টার ম্যানেজমেন্ট (সিএসএডাব্লিউএম) (বাপাউবো অংশ) প্রকল্প (১ম সংশোধিত); কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলাধীণ ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাম ও ডান তীর সংরক্ষণ (২য় সংশোধন); হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানী বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের সম্মুখে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীর প্রতিরক্ষা (২য় সংশোধন) প্রকল্প; ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; বাংলাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প (জিওবি আইডিবি) (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ভূয়াপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক (জেড-৪৮০১) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধপূর্বক পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন প্রকল্প।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এ সাক্ষাৎটি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি তাদের অভিনন্দন বার্তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় দেশগুলো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ অংশীদারত্ব বর্তমানে বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সদস্য দেশগুলোর অব্যাহত সহযোগিতা এবং অবদানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এ সুসম্পর্ক আরও গভীর করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।"
বর্তমান সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অভিবাসন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তিনি দক্ষ জনশক্তির জন্য বৈধ অভিবাসনের পথ আরও সম্প্রসারণ এবং আরও ইইউ সদস্য রাষ্ট্রকে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূতরা পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও জোরদারে বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যার মধ্যে বাণিজ্য, সুশাসন, জলবায়ু কার্যক্রম ও টেকসই উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।
রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশ ও ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সমান সুযোগ সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগে অব্যাহত সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশ্বাস দেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ইইউর অব্যাহত ও বর্ধিত মানবিক সহায়তা কামনা করেন। তিনি মিয়ানমারে তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে ইইউ-র আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূতরা তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ রূপান্তর, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, সামুদ্রিক বিষয়াবলি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে মতবিনিময় হয়। উভয়পক্ষ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে এবং বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করে।
ইইউ রাষ্ট্রদূতরা রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে ইইউয়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লৎস, ইটালির রাষ্ট্রদূত আন্তেনিও আলেসান্দ্রো, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ইউরিছ ভান বোসেল, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়াগা ওচহোয়া ডি চিনচিত্রু এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আদনান সামি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় গায়কদের মধ্যে একজন। কিন্তু তার জন্মস্থান ভারত বা পাকিস্তান নয়, বরং যুক্তরাজ্য। বাবার চাকরির কারণে তার পরিবার পাকিস্তানে চলে আসে, ফলে তিনি পাকিস্তানের নাগরিক হন। তবে, বহু বছর আগে তিনি পাকিস্তানি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে তিনি ভারতের নাগরিক। এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি তিনি মন্তব্য করেছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তি আদনান সামিকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি ভারতীয় নাগরিক। গায়ক তার জবাবে লেখেন, "সত্যিই? এত বছর পরেও আপনি আমাকে এই প্রশ্ন করছেন? আপনার কী মনে হয়?"
এছাড়াও, গায়কের কাছে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি অর্থের জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। আদনান সামি স্পষ্টভাবে জানান যে, অর্থের কারণে তিনি কখনও নাগরিকত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেননি। বরং, তিনি পাকিস্তানে পেশাগত বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কথা তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে কিংবদন্তি ভারতীয় শিল্পী আশা ভোঁসলের সঙ্গে তার যৌথ অ্যালবাম ‘কভি তো নজর মিলাও’ প্রকাশিত হয়। এই কাজটি যুক্তরাজ্য থেকেই সম্পন্ন হয়েছিল, কারণ গায়কের শৈশব এবং পড়াশোনা সেখানেই।
অন্যদিকে, আদনান সামি ২০০১ সালে ভ্রমণ ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি একের পর এক কাজের প্রস্তাব পান এবং ভারতের জনপ্রিয় সব তারকাদের সঙ্গে গান গাইতে শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি আর পাকিস্তানে ফিরে যাননি।
এছাড়া, আদনান সামির পাকিস্তানি পাসপোর্টের মেয়াদ ২০১৫ সালে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তিনি এরপর পাসপোর্ট পুনর্নবীকরণ করেননি। পরবর্তীতে, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ