বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৯ পি.এম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, ‘বেহেশতের টিকিট বিক্রেতারা’ ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তিনি বলেন, "বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র চলছে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।"
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা অডিটোরিয়ামে অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা ও টিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ফ্যাসিস্টরা বলছে ডিসেম্বরে তাদের রানীমা দেশে আসবে, আর রাজাকাররা বলছে ডিসেম্বরে আমাদের পতন ঘটাবে।” এসব বক্তব্যের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সেই দিন সকালে মনোহরদী উপজেলায় নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মনোহরদী জোনাল অফিসের আওতাধীন কাটাবাড়িয়া অভিযোগ কেন্দ্র উদ্বোধনকালে দেশের রাজনীতি ও প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।” যারা দেশের মানুষকে গুম ও খুন করেছে, সেই ফ্যাসিস্টদের সঙ্গেও তারা হাত মিলিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “একদিকে ভারত থেকে বলা হচ্ছে ডিসেম্বরে তিনি ফিরবেন, অন্যদিকে দেশের ভেতর থেকে ডিসেম্বরেই সরকার পতনের কথা বলা হচ্ছে।” তার ভাষায়, “তারা দুই পরাজিত শক্তি এক হয়েছে।”
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দেশের গণতন্ত্র ও দেশকে রক্ষার জন্য ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়েছে, ভারতের প্রভুত্ব করার জন্য নয়।” তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ ভারতের প্রভুত্ব মেনে বসবাস করবে না।” পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশের মানুষ বন্ধুত্ব চায়, প্রভুত্ব মেনে নয় বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, ভারত সুষ্ঠুভাবে পানি বণ্টন না করলে চীনের সহযোগিতা নিয়ে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করে বর্ষার মৌসুমে পানি ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দেশকে পরনির্ভরশীল রাখার জন্য নতুন কোনো গ্যাসকূপ খনন করেনি। তিনি জানান, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত গ্যাসকূপ খনন করে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনার কথাও বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
সরকার দেশের উন্নয়নে কারও ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না বলেও উল্লেখ করেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বক্তব্য দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেশ বাঁচাতে হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।” এ লক্ষ্যে আগামী মাস থেকে ব্যাপক হারে পরিবার পরিকল্পনার পিলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে।
দালালের প্ররোচনায় মায়েদের অপ্রয়োজনীয় সিজারের দিকে না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করতে নতুন ওষুধ ও যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
এ ছাড়া আগামী শনিবার থেকে আবারও হাম টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান সরদার সাখাওয়াত হোসেন। যারা এখনো শিশুদের টিকা দেননি, তাদের দ্রুত টিকা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা ও টিন বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কাটাবাড়িয়া অভিযোগ কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস সভাপতিত্ব করেন। সেখানে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, মনোহরদী জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী ফযীলত রাব্বী মু'মিমাহ, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বাদশা, কাচিকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আলম হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিভিন্ন স্কুলে ক্রীড়া সামগ্রীও বিতরণ করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আকুয়া এলাকায় আবাসিক বসতবাড়ির মধ্যে ‘মিঠু বিড়ি’ কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কারখানাটি শাহিন মিয়ার মালিকানাধীন। আবাসিক এলাকার মধ্যে বিড়ি উৎপাদনের ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কারখানা থেকে ধোঁয়া বা দৃশ্যমান বর্জ্য বের হওয়ার বিষয়টি প্রধান সমস্যা নয়; বরং বিড়ি তৈরির কাঁচামাল ও প্রক্রিয়াজাতকরণের তীব্র গন্ধ আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে এ গন্ধে অনেকেই অস্বস্তিতে ভুগছেন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর কয়েকজনের অভিযোগ, তীব্র গন্ধের কারণে তাদের মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব ও শ্বাসকষ্টের মতো শারীরিক সমস্যা হচ্ছে। তবে এসব সমস্যার সঙ্গে কারখানার সরাসরি চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। অনুসন্ধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে- আবাসিক এলাকায় কারখানাটি পরিচালনার জন্য কী ধরনের অনুমোদন রয়েছে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র আছে কি না। একই সঙ্গে কারখানাটির অবস্থান, উৎপাদন কার্যক্রম এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, তারা কারখানা বন্ধের দাবি করছেন কি না, সেটি কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে। তবে আবাসিক এলাকায় মানুষের স্বাভাবিক বসবাসের পরিবেশ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে আকুয়া এলাকার কারখানাটি পরিদর্শন করে এর অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র যাচাই করুন। পাশাপাশি বিড়ি উৎপাদনের গন্ধে স্থানীয়দের যে ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে, তার বাস্তবতা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে কারখানার মালিক শাহিন মিয়া বলেন, "শুধু আমার কারখানা নয় এরকম আরো অনেক কারখানা আবাসিক এলাকায় ঘরে উঠেছে। আমি পরিবেশ অনুযায়ী কারখানা চালাচ্ছি।" টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তাপস চন্দ্র পাল বলেন, "এটি কোন ভাবেই ছাড়পত্র পাওয়ার যোগ্য নয়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবাসিক এলাকায় তো কোন ভাবেই করতে পারবেনা।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক এস.আই সুজন বিশ্বাস মাদকবিরোধী অভিযানে তার সাফল্যের জন্য আবারও জেলার শ্রেষ্ঠ মাদকদ্রব্য উদ্ধারকারী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন। এটি তার জন্য জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের ঘটনা।
এখন পর্যন্ত তিনি মোট ৭ বার পুরস্কৃত হয়েছেন। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার কর্তৃক আয়োজিত মাসিক সমন্বয় সভায় কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের জন্য শ্রেষ্ঠ মাদকদ্রব্য উদ্ধারকারী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো পুরস্কার প্রদান করা হয়।
কুলিয়ারচর থানায় দায়িত্ব পালনকালে, তিনি বিভিন্ন মাদকবিরোধী অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে মাদক উদ্ধার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করার পাশাপাশি, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে, যা ১৩ উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিকিৎসক নেতাদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করার জন্য সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে দেশ সক্ষম হয়নি। তিনি বলেন, কতজন চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন, কী পরিমাণ মেডিকেল যন্ত্রপাতি লাগবে এবং কী ধরনের কাঠামো দরকার, এসব বিষয়ে আগে সঠিক ও সার্বিক পরিকল্পনা ছিল না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবতকালের সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যখাতে একটি সুব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নতুন চিকিৎসক নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিগত দিনের তদবির সংস্কৃতি বন্ধ করে যোগ্য ব্যক্তিদের উপযুক্ত পদে দায়িত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন।
চিকিৎসকদের গবেষণা কার্যক্রমে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলের অত্যাচার-নির্যাতনে আহত নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তার নিজের চিকিৎসার সময় আন্তরিক সহযোগিতা ও সহায়তার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় চিকিৎসকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। তিনি এ ধরনের ঘটনা বন্ধে সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেন।
ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সব অংশীজনকে সঙ্গে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম (২৪) নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনের সংঘাতে জড়িত ১৭ বছরের কিশোর আজান আলী শরীফকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কিশোরের আইনজীবী দাবি করেছেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস-মীমাংসা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু আদালত-৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। কিশোরের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর হোসেন জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মো. আরেফীন ইসলাম তাকে আটক রাখার আবেদন করেন।
শুনানিতে কিশোরের আইনজীবী জানান, দুর্ঘটনার সময় আজান গাড়িচালকের পাশের আসনে বসা ছিল। তার আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিহত মেহেদী শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। হর্ন দেওয়ার পরও তিনি দ্রুত সরে যেতে না পারায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আইনজীবী আলমগীর হোসেন আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে আপস-মীমাংসা সম্পন্ন হয়েছে। দাফন-কাফনের জন্য ১ লাখ টাকা এবং মেহেদীর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় আরও ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে মেহেদীর বড় ভাই ও মামলার বাদী মোক্তাদীর ইসলাম আপসের বিষয়টি স্বীকার করলেও কত টাকায় আপস হয়েছে, তা তিনি জানাননি। তিনি বলেন, “মামলার বিষয়ে আপস হয়েছে। কত টাকায় আপস হয়েছে জানি না। আমার মামা জানেন।”
পুলিশের তদন্তে যা উঠে এসেছে
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে কিশোরকে আটক রাখার আবেদনে বলেন, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে দুর্ঘটনার পরপরই প্রাইভেটকারের ডান পাশের চালকের আসনের দরজা খুলে আজান আলী শরীফকে বের হতে দেখা যায় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় দুর্ঘটনার সঙ্গে কিশোরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত চলমান থাকায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
এর আগে বুধবার কিশোরকে গুলশানের বাসা থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গাড়িটি কে চালাচ্ছিল, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
যেভাবে প্রাণ গেল মেহেদীর
গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে পরিবারের এক সদস্যের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তাকে আবার পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
মামলায় আসামি ছিলেন অন্যজন
মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলায় গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামে একজনকে আসামি করা হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আকাশ মারক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।
তবে পুলিশের তদন্তে পাওয়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে কিশোর আজান আলী শরীফের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি কিশোরের মায়ের নামে নিবন্ধিত বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মামলায় কিশোরের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হয়। এরপর বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ।
আপসের প্রভাব তদন্তে পড়বে না: তদন্ত কর্মকর্তা
নিহত মেহেদীর পরিবারের সঙ্গে আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরেফীন ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই।”
আপসের কারণে মামলার তদন্তে কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, আমরা আমাদের মতো তদন্ত করে যাবো।”
আদালতের আদেশের পর কিশোর আজান আলী শরীফকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ