০৪:৫০ পি.এম
কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর শিশু পার্কের কাজ থমকে গেছে। পাঁচ বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও এখানে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এই বিনোদনের স্থানটি বর্তমানে গরু-ছাগলের চারণভূমি ও বখাটেদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসকও এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন।
পিরোজপুর সদর উপজেলার বলেশ্বর নদীর তীর ঘেঁষে শহরের মানুষের বিনোদনের জন্য খুমুরিয়া এলাকায় একটি শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল জেলা পরিষদ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র গড়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
তবে পাঁচ বছর আগে, সরকারি ৫ একর ৪৬ শতক জমিতে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার ৯২৪ টাকা ব্যয়ে শুধুমাত্র সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছিল। এর পরে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বালু দিয়ে জমি ভরাট করা হয়। এরপর থেকে প্রকল্পের কাজ আর এগোয়নি।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকা পার্কটি সাধারণ মানুষের জন্য কোনো কাজে আসছে না। স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল শিকদার জানান, 'এই পার্কের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। তবে কাজের উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বিগত সময়ে শুনেছি কোটি টাকার উপরে বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু মাত্র সীমানা প্রাচীর এবং কিছু বালু ফেলা হয়েছে; বাকিরা ঠিকাদার হজম করে নিয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে এটি রাতে বখাটেদের আখড়া এবং দিনে গরু-ছাগলের চারণভূমি হিসেবে স্থানীয়রা ব্যবহার করছে। আমাদের দাবি, অতি দ্রুত এই পার্কটি চালুর উদ্যোগ নেবে প্রশাসন; যাতে করে এই এলাকার শিশু-কিশোরসহ সকল বয়সের মানুষ পার্কে এসে বিনোদন নিতে পারে।'
এই স্থবির প্রকল্পের বিষয়ে পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, 'বিগত সময়ে পার্কটি নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে, যা বর্তমানে দৃশ্যমান। অনিয়মের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে।'
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, 'বর্তমানে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বলেশ্বর নদীর তীরে শিশুদের জন্য একটি দৃষ্টিনন্দন পার্ক গড়ে তোলা হবে।'
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
পার্কটির উন্নয়নে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত করে দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহার জন্য উন্মুক্ত করার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন