ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টেলিগ্রামে হিসাব, অনলাইনে জুয়ার টাকা বিদেশে পাচার


টেলিগ্রামে হিসাব, অনলাইনে জুয়ার টাকা বিদেশে পাচার

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অনলাইন বেটিং ও জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবে জমা করে পরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পাবনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন পাবনা সদর উপজেলার ঈদগাহ রোড বাইলেন এলাকার মো. মনোয়ার হোসেন (৪১), রামচন্দ্রপুরের মো. মারুফ হোসেন হলি (২৭) এবং সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রাম এলাকার মো. ইলিয়াস হোসেন রাজু (২৬)।

সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে আতাইকুলা থানার বনগ্রাম বাজার এলাকা থেকে ইলিয়াস হোসেন রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর বাজার এলাকা থেকে মনোয়ার হোসেন ও মারুফ হোসেন হলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিলের চূড়ান্ত শুনানি ৮ ডিসেম্বর

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়। চক্রটি বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন নামে ওয়েবসাইট খুলে বেটিং ও জুয়ার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এসব ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও প্রচার করা হতো।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিংয়ের আয়োজন করত চক্রটি। জুয়ায় অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে নির্দিষ্ট মাধ্যমে টাকা জমা বা ‘টপ-আপ’ করতে হতো। এজন্য বিভিন্ন এমএফএস, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমার নির্দেশনা দেওয়া হতো।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বেটিং সাইটে টাকা জমা ও উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নিয়মিত পরিবর্তন করা হতো। এজন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের কাছ থেকে একাধিক এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করত চক্রটি।

পরে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে এসব হিসাব ও নম্বরের তথ্য বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। এরপর ওই হিসাবগুলো ব্যবহার করে বেটিংয়ের অর্থ লেনদেন করা হতো।

আরও পড়ুন: সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ঘোষণা আইনমন্ত্রীর

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে আসা অর্থ এসব এজেন্টের মাধ্যমে একত্র করা হতো। এজেন্টরা কমিশন রেখে বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করত। পরে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

সিআইডির দাবি, এভাবে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে গত ১৯ মে পল্টন থানায় মামলা করেছে। মামলায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২০(২), ২১(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন বেটিং চক্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা এবং জুয়ার টাকা সংগ্রহের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তবে কী পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, অর্থপাচারের পুরো প্রক্রিয়া এবং দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর সঙ্গে কারা জড়িত এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে মামলা, আসামি তানভীর ও সুমন

অনলাইন বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি ব্যক্তি ও চক্রের সদস্যদের শনাক্ত, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন ও অর্থপাচারের প্রকৃত পরিমাণ ও পদ্ধতি উদঘাটন এবং অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সংস্থাটি বলছে, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের অবৈধ লেনদেন, অর্থপাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের ২০২৫ সালের ২৮ মে জারি করা নির্দেশনায় অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এরপরও সংঘবদ্ধ চক্রটি অবৈধ অনলাইন বেটিং ও আর্থিক লেনদেন চালিয়ে আসছিল বলে সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে।

অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে বিরত থাকতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমে অর্থ লেনদেন না করার এবং অনলাইন জুয়া বা অর্থপাচার সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন: সাবেক ডিএমপি কমিশনার ফারুক ও স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ আদালতের

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের কল্যাণমূলক কাজের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ পি.এম


শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের কল্যাণমূলক কাজের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় কোনো কিছুই মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।" তিনি বলেন, "দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।"

সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি বাড়ানোর জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তারা জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়েছে।

মতবিনিময়কালে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বলেন, "সরকার সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।" তিনি আরও বলেন, "সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করব। আপনাদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।"

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে কঠিন চীবর দান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।

হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

পরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুর্গাপূজার জন্য ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। একইভাবে, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা চেয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন।

এছাড়া, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০-২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিন ছুটি ঘোষণা করে সরকার।

বরাদ্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট/বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে উপকারভোগীরা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বরাদ্দের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া ইসলামে জায়েজ নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ পি.এম


সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া ইসলামে জায়েজ নয়

ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র এবং পাত্রী উভয়ের সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অধিকার বাবা-মায়ের নেই। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের পূর্বে তাদের মতামত ও সম্মতি নেওয়ার বিষয়টি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, "হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

ইসলামে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা তারিখ নেই। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে ইজাব বা প্রস্তাব, কবুল বা গ্রহণ এবং সাক্ষীর উপস্থিতি অপরিহার্য।

নারীর সম্মতি নেওয়া জরুরি

নারীর মতামত ও সম্মতি নেওয়ার বিষয়টি হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আগে বিয়ে হয়েছে এমন নারীকে তার মতামত বা সম্মতি ছাড়া এবং কুমারি নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।" কুমারি নারীর অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, "তার নীরবতাই তার সম্মতি।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে এমন ঘটনা ঘটেছিল যেখানে সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। খানসা বিনতে খিজাম আনসারি (রা.) বর্ণনা করেন যে, তার বাবা তাকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেন। তিনি ওই বিয়ে অপছন্দ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করলে, তিনি বিয়েটি বাতিল করে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৮)

অন্য একটি বর্ণনায়, এক নারী অভিযোগ করেন যে, তার বাবা তাকে তার ভাতিজার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন নিজের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি ওই নারীর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেন। পরে তিনি জানান, তিনি বাবার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন, তবে তার উদ্দেশ্য ছিল যে নারীরা যেন জানতে পারে—বিয়ের বিষয়ে বাবার একতরফা সিদ্ধান্তের অধিকার নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৭৪)

ছেলে-মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া যাবে না।

ইসলামি শরিয়তের আলোকে, প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সন্তানের নিজস্ব মতামতকে উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, "মা-বাবার জন্য সমীচীন নয় যে তারা ছেলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমন কোনো মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দেবেন, যাকে সে পছন্দ করে না।" ছেলে এমন বিয়ে প্রত্যাখ্যান করলে তাকে অবাধ্য হিসেবে গণ্য করা হবে না। (মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৩২, পৃষ্ঠা: ৩০)

শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "কোনো সন্তানের অপছন্দে তাকে কারও সঙ্গে বিয়ে দিতে বাধ্য করার অধিকার মা-বাবার নেই।" সন্তানের অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া ইসলামে জায়েজ নয়। ছেলে বা মেয়ে রাজি না হলে বাবা-মায়ের জোর করে বিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, "বাবা-মা যদি জোর করে সন্তানের জন্য অনুপযুক্ত জায়গায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চান, তাহলে সন্তানের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।" সন্তানের ন্যায্য দাবি ও মতামত শোনা মা-বাবার দায়িত্ব।

বিয়েতে পারিবারিক সম্মতি ও সন্তানের মত দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলাম বাবা-মায়ের সম্মান ও তাদের সঙ্গে সদাচরণকে গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের সম্মতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই অভিভাবকদের উচিত পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সন্তানের মতামত নেওয়া এবং তার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে সম্মান করা।

অর্থাৎ, সন্তানকে জোর করে বিয়েতে বাধ্য না করে পারিবারিকভাবে আলোচনা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সড়কে বালির বদলে দেওয়া হচ্ছিল মাটি, হঠাৎ হাজির এমপি সরোয়ার আলমগীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ পি.এম


সড়কে বালির বদলে দেওয়া হচ্ছিল মাটি, হঠাৎ হাজির এমপি সরোয়ার আলমগীর

চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান প্রশস্তকরণ কাজের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে জুবলি স্কুলের সামনে আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি বালির পরিবর্তে মাটি ব্যবহারের প্রমাণ পেয়ে ক্ষুব্ধ হন এবং সঙ্গে সঙ্গে এই নির্দেশনা জারি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে ফটিকছড়ির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি শেষ করে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর ফিরছিলেন। পথে তিনি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের জুবলি স্কুল সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশে চলমান সড়ক প্রশস্তকরণ কাজটি পরিদর্শন করতে গাড়ি থামান।

এসময় এমপি দেখতে পান, সড়কের টেকসই ও মজবুতকরণের জন্য যেখানে নিয়ম অনুযায়ী বালি ব্যবহার করার কথা, সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বালির বদলে অবাধে মাটি ব্যবহার করছে। সরকারের উন্নয়ন কাজে এ ধরনের প্রকাশ্য অনিয়ম ও চরম গাফিলতি দেখে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলেই কাজ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমপি সাহেবের এই আকস্মিক পরিদর্শনে সড়ক কাজের বড় ধরনের ফাঁকি ও দুর্নীতি হাতেনাতে ধরা পড়েছে। তারা প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়কে টেকসই কাজ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর মন্তব্য করেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। তিনি এই কাজের অনিয়মের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খাঁন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ পি.এম


দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খাঁন

শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের দুর্গোৎসব সুন্দরভাবে পালনের জন্য বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা আছে, যেন এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী কোনো ধরনের চক্রান্ত করতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন হয়েছে। মন্দিরে হামলা হয়েছে, যা ছিল একটি পরিকল্পনার অংশ। অর্থাৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে একটি বার্তা দেওয়া— আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় না থাকে, তাহলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বেশি ক্ষতির শিকার হবে। এই মানুষগুলোকে রক্ষা করার জন্য আওয়ামী লীগকে অবৈধভাবে ক্ষমতায় সমর্থন দিতে হবে, সহযোগিতা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, আওয়ামী লীগ ১৬ বছর ক্ষমতায় টিকে ছিল ভারতের আশীর্বাদে। ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট হয়েই তারা টিকে ছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে।

রাশেদ খাঁন আরও জানান, বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং এই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য এসেছে যে, আওয়ামী লীগ এই শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে একটি চক্রান্ত করবে এবং ভারতকে বোঝাবে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই, এজন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, ভারতীয় মিডিয়া কীভাবে গুজব রটায়। যদি কোনো মুসলমানের ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, ভারতীয় মিডিয়ার পেজে প্রচার করা হয় যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন চলছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছে। এই মিলেমিশে বসবাস অনেকের জন্য অস্বস্তির সৃষ্টি করে।

রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ একটি চক্রান্ত করেছে, কীভাবে সনাতন ধর্মের দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে একটি অরাজকতা সৃষ্টি করা যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা সেই অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%