ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের কল্যাণমূলক কাজের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী


শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের কল্যাণমূলক কাজের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় কোনো কিছুই মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।" তিনি বলেন, "দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।"

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি বাড়ানোর জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তারা জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়েছে।

মতবিনিময়কালে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বলেন, "সরকার সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।" তিনি আরও বলেন, "সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করব। আপনাদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।"

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে কঠিন চীবর দান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।

হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

পরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুর্গাপূজার জন্য ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। একইভাবে, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা চেয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

এছাড়া, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০-২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিন ছুটি ঘোষণা করে সরকার।

বরাদ্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট/বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে উপকারভোগীরা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বরাদ্দের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া ইসলামে জায়েজ নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ পি.এম


সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া ইসলামে জায়েজ নয়

ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র এবং পাত্রী উভয়ের সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অধিকার বাবা-মায়ের নেই। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের পূর্বে তাদের মতামত ও সম্মতি নেওয়ার বিষয়টি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, "হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

ইসলামে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা তারিখ নেই। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে ইজাব বা প্রস্তাব, কবুল বা গ্রহণ এবং সাক্ষীর উপস্থিতি অপরিহার্য।

নারীর সম্মতি নেওয়া জরুরি

নারীর মতামত ও সম্মতি নেওয়ার বিষয়টি হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আগে বিয়ে হয়েছে এমন নারীকে তার মতামত বা সম্মতি ছাড়া এবং কুমারি নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।" কুমারি নারীর অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, "তার নীরবতাই তার সম্মতি।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে এমন ঘটনা ঘটেছিল যেখানে সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। খানসা বিনতে খিজাম আনসারি (রা.) বর্ণনা করেন যে, তার বাবা তাকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেন। তিনি ওই বিয়ে অপছন্দ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করলে, তিনি বিয়েটি বাতিল করে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৮)

অন্য একটি বর্ণনায়, এক নারী অভিযোগ করেন যে, তার বাবা তাকে তার ভাতিজার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন নিজের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি ওই নারীর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেন। পরে তিনি জানান, তিনি বাবার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন, তবে তার উদ্দেশ্য ছিল যে নারীরা যেন জানতে পারে—বিয়ের বিষয়ে বাবার একতরফা সিদ্ধান্তের অধিকার নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৭৪)

ছেলে-মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া যাবে না।

ইসলামি শরিয়তের আলোকে, প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সন্তানের নিজস্ব মতামতকে উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, "মা-বাবার জন্য সমীচীন নয় যে তারা ছেলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমন কোনো মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দেবেন, যাকে সে পছন্দ করে না।" ছেলে এমন বিয়ে প্রত্যাখ্যান করলে তাকে অবাধ্য হিসেবে গণ্য করা হবে না। (মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৩২, পৃষ্ঠা: ৩০)

শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "কোনো সন্তানের অপছন্দে তাকে কারও সঙ্গে বিয়ে দিতে বাধ্য করার অধিকার মা-বাবার নেই।" সন্তানের অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া ইসলামে জায়েজ নয়। ছেলে বা মেয়ে রাজি না হলে বাবা-মায়ের জোর করে বিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, "বাবা-মা যদি জোর করে সন্তানের জন্য অনুপযুক্ত জায়গায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চান, তাহলে সন্তানের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।" সন্তানের ন্যায্য দাবি ও মতামত শোনা মা-বাবার দায়িত্ব।

বিয়েতে পারিবারিক সম্মতি ও সন্তানের মত দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলাম বাবা-মায়ের সম্মান ও তাদের সঙ্গে সদাচরণকে গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের সম্মতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই অভিভাবকদের উচিত পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সন্তানের মতামত নেওয়া এবং তার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে সম্মান করা।

অর্থাৎ, সন্তানকে জোর করে বিয়েতে বাধ্য না করে পারিবারিকভাবে আলোচনা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সড়কে বালির বদলে দেওয়া হচ্ছিল মাটি, হঠাৎ হাজির এমপি সরোয়ার আলমগীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ পি.এম


সড়কে বালির বদলে দেওয়া হচ্ছিল মাটি, হঠাৎ হাজির এমপি সরোয়ার আলমগীর

চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান প্রশস্তকরণ কাজের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে জুবলি স্কুলের সামনে আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি বালির পরিবর্তে মাটি ব্যবহারের প্রমাণ পেয়ে ক্ষুব্ধ হন এবং সঙ্গে সঙ্গে এই নির্দেশনা জারি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে ফটিকছড়ির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি শেষ করে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর ফিরছিলেন। পথে তিনি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের জুবলি স্কুল সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশে চলমান সড়ক প্রশস্তকরণ কাজটি পরিদর্শন করতে গাড়ি থামান।

এসময় এমপি দেখতে পান, সড়কের টেকসই ও মজবুতকরণের জন্য যেখানে নিয়ম অনুযায়ী বালি ব্যবহার করার কথা, সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বালির বদলে অবাধে মাটি ব্যবহার করছে। সরকারের উন্নয়ন কাজে এ ধরনের প্রকাশ্য অনিয়ম ও চরম গাফিলতি দেখে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলেই কাজ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমপি সাহেবের এই আকস্মিক পরিদর্শনে সড়ক কাজের বড় ধরনের ফাঁকি ও দুর্নীতি হাতেনাতে ধরা পড়েছে। তারা প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়কে টেকসই কাজ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর মন্তব্য করেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। তিনি এই কাজের অনিয়মের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খাঁন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ পি.এম


দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খাঁন

শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের দুর্গোৎসব সুন্দরভাবে পালনের জন্য বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা আছে, যেন এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী কোনো ধরনের চক্রান্ত করতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন হয়েছে। মন্দিরে হামলা হয়েছে, যা ছিল একটি পরিকল্পনার অংশ। অর্থাৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে একটি বার্তা দেওয়া— আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় না থাকে, তাহলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বেশি ক্ষতির শিকার হবে। এই মানুষগুলোকে রক্ষা করার জন্য আওয়ামী লীগকে অবৈধভাবে ক্ষমতায় সমর্থন দিতে হবে, সহযোগিতা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, আওয়ামী লীগ ১৬ বছর ক্ষমতায় টিকে ছিল ভারতের আশীর্বাদে। ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট হয়েই তারা টিকে ছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে।

রাশেদ খাঁন আরও জানান, বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং এই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য এসেছে যে, আওয়ামী লীগ এই শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে একটি চক্রান্ত করবে এবং ভারতকে বোঝাবে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই, এজন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, ভারতীয় মিডিয়া কীভাবে গুজব রটায়। যদি কোনো মুসলমানের ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, ভারতীয় মিডিয়ার পেজে প্রচার করা হয় যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন চলছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছে। এই মিলেমিশে বসবাস অনেকের জন্য অস্বস্তির সৃষ্টি করে।

রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ একটি চক্রান্ত করেছে, কীভাবে সনাতন ধর্মের দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে একটি অরাজকতা সৃষ্টি করা যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা সেই অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিএনজি-অটোরিকশায় তিন চাকা কেন, জেনে নিন আসল কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


সিএনজি-অটোরিকশায় তিন চাকা কেন, জেনে নিন আসল কারণ

শহরের ব্যস্ত সড়ক থেকে সরু গলি, বাজার কিংবা গ্রামের পথ অটোরিকশা এখন মানুষের নিত্যদিনের পরিচিত যান। এটি বিভিন্ন স্থানে অটো, সিএনজি, আবার কোথাও টুকটুক নামেও পরিচিত। আকারের কারণে যানজট কিংবা সরু রাস্তায় সহজে চলাচল করতে পারে এই যান।

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, অটোরিকশায় চারটি চাকার পরিবর্তে তিনটি চাকা কেন থাকে?

অটোরিকশার তিন চাকার নকশা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। এই নকশা জনপ্রিয় হয়েছে ছোট আকার, সরু রাস্তায় সহজে চলাচল, নির্মাণ খরচ কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং তুলনামূলকভাবে কম পরিচালন ব্যয়ের মতো বেশ কিছু ব্যবহারিক বিষয় বিবেচনা করে।

সরু রাস্তায় চলাচলে সুবিধা

অটোরিকশার অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর ছোট আকার। শহরের যানজটপূর্ণ সড়ক, বাজার কিংবা সরু গলিতে চার চাকার গাড়ির তুলনায় এটি কম জায়গায় দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম।

প্রচলিত অটোরিকশায় সামনের দিকে একটি চাকা এবং পেছনে দুটি চাকা থাকে। সামনের চাকাটি মূলত গাড়ির দিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, আর পেছনের দুটি চাকা গাড়ির ওজন বহনে ভূমিকা রাখে। ফলে ছোট জায়গার মধ্যে যানটি চালানো তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।

কম নির্মাণ খরচ

চার চাকার গাড়ির তুলনায় তিন চাকার গাড়িতে একটি চাকা এবং সংশ্লিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশ কম প্রয়োজন হয়। এতে গাড়ির কাঠামো তুলনামূলকভাবে সহজ রাখা সম্ভব।

কম যন্ত্রাংশ ও সরল নকশার কারণে উৎপাদন খরচও কম হতে পারে। এ কারণেই অনেক দেশে, বাংলাদেশেও, অটোরিকশা তুলনামূলক কম খরচের পরিবহন হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

রক্ষণাবেক্ষণেও সুবিধা

শুধু গাড়ি কেনার খরচ নয়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিন চাকার অটোরিকশায় তুলনামূলকভাবে কম যন্ত্রাংশ থাকায় টায়ার, চাকা ও কিছু যান্ত্রিক অংশের রক্ষণাবেক্ষণে খরচ কম হতে পারে।

অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা চালকদের জন্য এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হলে তা সরাসরি তাদের আয়কে প্রভাবিত করে।

ওজন কম, তাই জ্বালানি খরচও তুলনামূলক কম হতে পারে।

অটোরিকশার কাঠামো সাধারণত ছোট ও হালকা। তিন চাকার নকশা এই হালকা কাঠামো তৈরিতে সুবিধা দেয়। গাড়ির ওজন কম হলে একই দূরত্ব অতিক্রম করতে ইঞ্জিনকে তুলনামূলক কম শক্তি ব্যয় করতে হয়।

ফলে ছোট ইঞ্জিন ব্যবহার করেও দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মক্ষমতা পাওয়া সম্ভব হয়। এ কারণে অটোরিকশাকে তুলনামূলকভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ী যান হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

তবে প্রকৃত জ্বালানি খরচ নির্ভর করে ইঞ্জিনের ধরন, গাড়ির ওজন, রাস্তার অবস্থা, যাত্রী বা মালামালের ওজন এবং চালানোর ধরনের ওপর। তাই সব তিন চাকার যান চার চাকার গাড়ির তুলনায় একই হারে জ্বালানি সাশ্রয় করবে এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।

তিন চাকার গাড়ি কি ভারসাম্যপূর্ণ?

সুবিধার পাশাপাশি তিন চাকার নকশার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। চার চাকার গাড়ির তুলনায় তিন চাকার যান বাঁক নেওয়ার সময় তুলনামূলক কম পার্শ্বীয় স্থিতিশীলতা দেখাতে পারে।

বিশেষ করে বেশি গতিতে হঠাৎ বাঁক নেওয়া হলে বা গাড়ির ভারকেন্দ্র বেশি উঁচু হলে উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তিন চাকার যানবাহনের নকশা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রকৌশল গবেষণাতেও এ বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তাহলে অটোরিকশা চালানোর সময় অতিরিক্ত গতি এড়িয়ে চলা এবং হঠাৎ করে বাঁক না নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সব তিন চাকার গাড়ির নকশা কি একই?

না। তিন চাকার যান বিভিন্ন ধরনের নকশায় তৈরি হতে পারে। প্রচলিত অটোরিকশায় সাধারণত সামনে একটি এবং পেছনে দুটি চাকা থাকে। তবে কিছু তিন চাকার যানবাহনে সামনে দুটি ও পেছনে একটি চাকা থাকতে পারে।

চাকার অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে গাড়ির ভারসাম্য, বাঁক নেওয়ার আচরণ এবং চালানোর বৈশিষ্ট্যও পরিবর্তিত হয়।

বাংলাদেশে কেন এত জনপ্রিয়?

বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে অটোরিকশা ও সিএনজি পরিচিত গণপরিবহনের একটি অংশ। বিশেষ করে যেসব সরু সড়ক বা গলিতে বড় বাস কিংবা গাড়ি সহজে চলাচল করতে পারে না, সেখানে ছোট আকারের এই যান বেশ কার্যকর।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ছোট আকার ও সহজে চলাচলের সক্ষমতা এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

তাহলে চার চাকার বদলে তিন চাকা কেন?

অটোরিকশায় তিনটি চাকা ব্যবহারের পেছনে একটি নয়, বরং একাধিক কারণ কাজ করেছে। ছোট কাঠামো হওয়ায় সরু ও ব্যস্ত সড়কে চলাচল সহজ হয়। কম যন্ত্রাংশের কারণে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে কম ওজনের কারণে তুলনামূলক ছোট ইঞ্জিন ব্যবহার করা যায়।

অর্থাৎ, অটোরিকশার তিন চাকা কোনো দুর্বলতা নয়; বরং নির্দিষ্ট ধরনের রাস্তা ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য তৈরি একটি ব্যবহারিক নকশা। তবে তিন চাকার গাড়ির স্থিতিশীলতা চার চাকার গাড়ির মতো নয়। তাই নিরাপদ গতি, দক্ষ চালনা এবং সঠিকভাবে যাত্রী ও মালামাল বহন করাই দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%