মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪১ পি.এম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, সরকার তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, "আওয়ামী লীগকে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার… আমরা তো এই তিনটা দাবিতে রাজপথে আছি।"
তিনি আরও বলেন, "সরকার তো এই দাবিগুলো মানছে না। দাবিগুলো মানলে তো ককটেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।" সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে এনসিপির প্রতিবাদ মিছিলের শেষে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। নেভি গলিতে দাঁড়িয়ে দেওয়া বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাদের দাবি মানলে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে এবং দলটি নিষিদ্ধ হলে তাদের কর্মীরাও (আওয়ামী লীগের) ককটেল মারার সুযোগ পাবে না।
তিনি আরও জানান, "গতকালও দুটি মিছিল হয়েছে। আওয়ামী লীগকে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বাংলাদেশে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার। ১১ দলীয় জোট এটাই তো বলে আসছে।"
এছাড়া, ১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো মিছিল না করার অভিযোগের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "এটা সত্য নয়।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বন্যার ক্ষতির ধকল, জমিতে জমে থাকা পানি, নষ্ট হয়ে যাওয়া বীজতলা— এসব উদ্বেগকে পেছনে ফেলে চট্টগ্রামে কৃষকরা আমন আবাদের কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল জেলার কৃষিজমিতে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ আমনের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। ভাদ্রের হালকা বৃষ্টিতে রোপা চারা প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। মাঠজুড়ে সবুজের বিস্তার ঘটেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র জানাচ্ছে, চট্টগ্রামে এবারের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০০ শতাংশ। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে আমন আবাদের কাজ।
চট্টগ্রামের বৃহত্তম কৃষিক্ষেত্র রাঙ্গুনিয়ার গুমাইবিলে ইতোমধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। সেখানে এখন ধীরে ধীরে আমনের গুচ্ছ পরিপক্ব হয়ে উঠছে, পুরো বিলজুড়ে বাতাসে দোল খেতে শুরু করেছে সবুজ পাতা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া এবং লোহাগাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ সবুজে ছেয়ে গেছে। গত কয়েকদিন আগে সরেজমিনে পটিয়ায় দেখা গেছে, সেখানকার কৃষকরা এখন ধান রোপণের পর জমিতে প্রথম দফার সার প্রয়োগ করছেন, কোথাও কোথাও আগাছা পরিষ্কারও চলছে।
পটিয়ার হাইলধর এলাকার কৃষক সৈয়দ নূর মন্তব্য করেন, ‘আমি প্রতি বছর ৫ কানি (দুই একর) জমিতে ধান চাষ করি, এবারও তা-ই করেছি। এবারের বর্ষা খুব ভালো যাচ্ছে, ফুল বর্ষা (কোনো বছর অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি না হলে চাষের সুবিধা বুঝাতে স্থানীয় ভাষায় এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়) পানির সংকট হচ্ছে না, জমি একবার শুকাতে না শুকাতে আবারও বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকায়, আমন রোপা হাইল ধরেছে (পরিপক্ব হওয়া)। এবারে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, অনুকূল আবহাওয়া, সময় মতো চারা রোপণ, প্রয়োজনীয় সার ও বীজের সরবরাহ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তার কারণে এবারের আমন আবাদ দ্রুত এগিয়েছে। বন্যার পরও চারা নিয়ে কৃষকদের বড় ধরনের সংকটে পড়তে হয়নি। সরকারি পক্ষ থেকে দ্রুত পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সময় মতো মাঠে ফিরতে পেরেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারেও আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। জেলায় মোট ১৮ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাত মিলিয়ে ১৮ হাজার ৪২২ হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে আমন চারা রোপণ করা হয়েছে, আবাদের অগ্রগতি ৯৯ শতাংশ।
নোয়াখালীতে আমন আবাদের চিত্র আরও এগিয়ে রয়েছে। জেলার এবারের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ফেনীতে এবারের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৬৬ হাজার ৮৯৪ হেক্টর। ইতোমধ্যে ৬৬ হাজার ৮৩৭ হেক্টর জমিতে আবাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাঁচ জেলার মধ্যে লক্ষ্মীপুরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আবাদের অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। জেলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অগ্রগতি হয়েছে ১১৭ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, আমনের ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের আগ্রহের কারণে অনেক জমিতে পরিকল্পনার বাইরে গিয়েও আমন আবাদ হয়েছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আমন মৌসুমে চারা সংকট তৈরি হলে আবাদের কাজ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এবারে সরকারি উদ্যোগে চারা উৎপাদন ও বিতরণ এবং স্থানীয়ভাবে কৃষকদের প্রস্তুত করা বীজতলার কারণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকেরা নিজেদের বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় নার্সারি ও কৃষি বিভাগের সহায়তাও পেয়েছেন। ফলে জমি প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক কৃষিবিদ আপ্রু মারমা জানান, এবারের আমন মৌসুমের শুরুতে বন্যার কারণে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকরা দ্রুত জমি প্রস্তুত করেছেন। প্রয়োজনীয় সার-বীজ ও চারা সরবরাহ নিশ্চিত থাকায় রোপণ কাজে বড় ধরনের ছন্দপতন হয়নি। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত আমনের জন্য সহায়ক থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দ্রুত সম্ভব হয়েছে।
সাতকানিয়ার একজন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, এবারে সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হচ্ছে কৃষকদের মধ্যে আমন আবাদ নিয়ে আগ্রহ কমেনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে, অনেক জায়গায় চারা ও বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে চারা সংকট তৈরি হয়নি। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই আবাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে এই বৈঠকটি হয়। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের আগে একদিন আগে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
এটি ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে তৃতীয় সরাসরি বৈঠক। তবে, নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবনে তাদের সাক্ষাৎ এবারই প্রথম। পূর্বে ২০২৫ সালের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বৈঠক হয়েছিল।
মামদানির অফিস জানায়, বৈঠকে নিউইয়র্ক শহর এবং এর বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। পরে মামদানি জানান, আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা বিস্তৃত আলোচনা করেছেন।
বৈঠকের পর দুজনকে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেখা যায়। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি আশা করেন মামদানি নিউইয়র্কের একজন ‘দারুণ মেয়র’ হবেন। তিনি আরও বলেন, তার মধ্যে সেই সম্ভাবনা রয়েছে।
মামদানি জানান, নিউইয়র্কবাসীর জন্য কাজ করতে তিনি যে কারও সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা মূলত ছিল কীভাবে শহরের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো যায়, অর্থনীতি শক্তিশালী করা যায় এবং নিউইয়র্ককে আরও উন্নত করা যায়।
বৈঠকে কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ড এলাকায় বড় পরিসরে নতুন আবাসন নির্মাণের বিষয়টিও উঠে আসে। ট্রাম্প বলেন, বহু বছর ধরে ওই এলাকায় উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন এবং অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি জানান।
যদিও দুজনের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বিদ্যমান। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি নিয়ে মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সমালোচনা করে আসছেন। চলতি মাসেই অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতির ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টিও উঠে আসে। হোয়াইট হাউসে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার বিষয়ে মামদানি জানান, তিনি সংবাদমাধ্যমের সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে চান।
এ সময় ট্রাম্প উপস্থিত সাংবাদিকদের সংখ্যা দেখিয়ে বলেন, তাকে বর্জনের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। তিনি বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে রসিকতাও করেন।
গ্রেসি ম্যানশনে ট্রাম্পের সফর ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রায় ৪৫ বছর পর কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কের মেয়রের এই সরকারি বাসভবনে গেলেন। এর আগে ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান সেখানে মেয়র এড কোচের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
বৈঠকে ট্রাম্প ও মামদানি ছাড়াও ট্রাম্পের প্রধান কর্মকর্তা সুসি ওয়াইলস এবং মামদানির প্রধান কর্মকর্তা এল বিসগার্ড-চার্চ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের আগে মামদানির সহযোগীরা জানিয়েছিলেন, আগের বৈঠকগুলো থেকে নিউইয়র্কের জন্য কিছু বাস্তব ফল পাওয়ার চেষ্টা করেছেন মেয়র। ফেব্রুয়ারির বৈঠকে তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এলমিনা আগায়েভার মুক্তির বিষয়টি ট্রাম্পের কাছে তুলেছিলেন। পরে মামদানি জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প তাকে ফোন করে ওই শিক্ষার্থীর মুক্তির কথা জানিয়েছিলেন।
সোমবারের (২১ সেপ্টেম্বর) বৈঠকটি এমন এক সময়ে হলো, যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে জড়ো হয়েছেন। ফলে ট্রাম্প ও মামদানির এ সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিকভাবেও নজর কেড়েছে।
সূত্র: সিএনএন , দ্য গার্ডিয়ান , দ্য টেলিগ্রাফ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদক ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশ। নাগোয়ার কারোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে পরাজিত হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ফলে হাংজু এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানকে পরাজিত করে অর্জিত ব্রোঞ্জ এবার বাংলাদেশের হাতছাড়া হলো।
কারোগি স্পোর্টস পার্কে দর্শকদের জন্য কোনো গ্যালারি নেই। তবে, কিছু বাংলাদেশি প্রবাসী জ্যোতিদের খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে হতাশা নিয়ে তাদের ফিরে যেতে হয়েছে।
র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকায় বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে চীনকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। তবে, শেষ চারে ভারতের কাছে ১১৪ রানে পরাজিত হয়ে টাইগ্রেসরা ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নামে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্সও হতাশাজনক ছিল।
পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে। ফাতিমা সানার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তারা বড় সংগ্রহ পায়। ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশ তার ক্যাচ মিস করে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটাররা কার্যকর ইনিংস খেলেন।
১৪৬ রানের লক্ষ্য আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনো অসম্ভব সংগ্রহ নয়। এই ভেন্যুতেই এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতের শেফালি ভার্মা। আবার মাত্র দুদিন আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭০ রানের বেশি তাড়া করে জয় পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সেই আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল।
রান তাড়ায় বাংলাদেশ মাত্র ২০ রানেই তিন উইকেট হারায়। ভুল শট নির্বাচনের কারণে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আক্তার সুপ্তা দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তাদের জুটিতে আসে ৪৭ রান।
কিন্তু ওভারপ্রতি রানের চাপ বাড়তে থাকায় দ্রুত রান তুলতে গিয়ে বড় শট খেলার চেষ্টা করেন জ্যোতি। শেষ পর্যন্ত ক্যাচ দিয়ে তাকে ফিরতে হয়। জ্যোতির বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে চলে যায়।
এক প্রান্তে সুপ্তা লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্য প্রান্তে ব্যাটারদের আসা-যাওয়া অব্যাহত থাকে। পাকিস্তানি স্পিনার উম্মে হানি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান। ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে তিনি ৩ উইকেট নেন।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানের বেশি করতে পারেনি। ফলে ৩১ রানের জয় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুই দলের ফিল্ডিংও। পাকিস্তানের ফাতিমা সানা ইনিংসের শুরুতেই ক্যাচ দিয়েছিলেন। সেই সুযোগ হাতছাড়া করায় পরে তিনি বড় ইনিংস খেলেন। বিপরীতে পাকিস্তানের ফিল্ডাররা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি দারুণ ক্যাচ নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী দল এবার ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলেছে। দুই ম্যাচেই ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখা যায়নি। বিশেষ করে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ছিল রক্ষণাত্মক ও ভুলে ভরা। ফলে এশিয়ান গেমসে আরেকটি পদকের সুযোগ হাতছাড়া করেই ফিরতে হচ্ছে জ্যোতিদের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা জিপিএফের ওপর সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মুনাফার হার তিনটি স্তরে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা টাকার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। গত অর্থবছরেও একই হারে মুনাফা প্রদান করা হয়েছিল।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) অর্থ বিভাগ চলতি অর্থবছরের জন্য জিপিএফের মুনাফার হার নির্ধারণ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রারম্ভিক স্থিতি অথবা চলতি অর্থবছরে জমা করা চাঁদার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার হার ১৩ শতাংশ হবে। ১৫ লাখ টাকার বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১২ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার হার ১১ শতাংশ হবে।
জিপিএফের আওতায় থাকা সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যৎ তহবিল বা সিপিএফ চালু রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণ করতে পারবে।
সরকারি চাকরিজীবীরা তাদের মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ জিপিএফে জমা রাখতে পারেন। অন্যদিকে, সিপিএফভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা জমা দিতে পারেন।
জিপিএফ ও সিপিএফ উভয় ক্ষেত্রেই কর্মীর নিজস্ব জমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তার নির্ধারিত অংশ থাকে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রভিডেন্ট ফান্ড ও সিপিএফে মূল বেতনের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থ প্রদান করে থাকে। কর্মীরা মোট জমা অর্থের ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা পান।
বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গঠিত প্রভিডেন্ট ফান্ডকে জিপিএফ বলা হয়। আর যেসব প্রতিষ্ঠান বা সরকারি চাকরিতে পেনশন ব্যবস্থা নেই, সেখানে কর্মীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষার জন্য সিপিএফসহ বিভিন্ন ধরনের ভবিষ্যৎ তহবিল চালু রয়েছে।
এ ব্যবস্থায় কর্মী তার মূল বেতন থেকে নির্দিষ্ট অংশ জমা করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও নির্ধারিত হারে অর্থ প্রদান করে। চাকরি শেষে বা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কর্মী নিজের ও প্রতিষ্ঠানের জমা অর্থের সঙ্গে অর্জিত মুনাফা একসঙ্গে পান। সাধারণত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিপিএফ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ