প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে এই বৈঠকটি হয়। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের আগে একদিন আগে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
এটি ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে তৃতীয় সরাসরি বৈঠক। তবে, নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবনে তাদের সাক্ষাৎ এবারই প্রথম। পূর্বে ২০২৫ সালের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বৈঠক হয়েছিল।
মামদানির অফিস জানায়, বৈঠকে নিউইয়র্ক শহর এবং এর বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। পরে মামদানি জানান, আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা বিস্তৃত আলোচনা করেছেন।
বৈঠকের পর দুজনকে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেখা যায়। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি আশা করেন মামদানি নিউইয়র্কের একজন ‘দারুণ মেয়র’ হবেন। তিনি আরও বলেন, তার মধ্যে সেই সম্ভাবনা রয়েছে।
মামদানি জানান, নিউইয়র্কবাসীর জন্য কাজ করতে তিনি যে কারও সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা মূলত ছিল কীভাবে শহরের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো যায়, অর্থনীতি শক্তিশালী করা যায় এবং নিউইয়র্ককে আরও উন্নত করা যায়।
বৈঠকে কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ড এলাকায় বড় পরিসরে নতুন আবাসন নির্মাণের বিষয়টিও উঠে আসে। ট্রাম্প বলেন, বহু বছর ধরে ওই এলাকায় উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন এবং অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি জানান।
যদিও দুজনের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বিদ্যমান। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি নিয়ে মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সমালোচনা করে আসছেন। চলতি মাসেই অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতির ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টিও উঠে আসে। হোয়াইট হাউসে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার বিষয়ে মামদানি জানান, তিনি সংবাদমাধ্যমের সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে চান।
এ সময় ট্রাম্প উপস্থিত সাংবাদিকদের সংখ্যা দেখিয়ে বলেন, তাকে বর্জনের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। তিনি বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে রসিকতাও করেন।
গ্রেসি ম্যানশনে ট্রাম্পের সফর ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রায় ৪৫ বছর পর কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কের মেয়রের এই সরকারি বাসভবনে গেলেন। এর আগে ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান সেখানে মেয়র এড কোচের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
বৈঠকে ট্রাম্প ও মামদানি ছাড়াও ট্রাম্পের প্রধান কর্মকর্তা সুসি ওয়াইলস এবং মামদানির প্রধান কর্মকর্তা এল বিসগার্ড-চার্চ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের আগে মামদানির সহযোগীরা জানিয়েছিলেন, আগের বৈঠকগুলো থেকে নিউইয়র্কের জন্য কিছু বাস্তব ফল পাওয়ার চেষ্টা করেছেন মেয়র। ফেব্রুয়ারির বৈঠকে তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এলমিনা আগায়েভার মুক্তির বিষয়টি ট্রাম্পের কাছে তুলেছিলেন। পরে মামদানি জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প তাকে ফোন করে ওই শিক্ষার্থীর মুক্তির কথা জানিয়েছিলেন।
সোমবারের (২১ সেপ্টেম্বর) বৈঠকটি এমন এক সময়ে হলো, যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে জড়ো হয়েছেন। ফলে ট্রাম্প ও মামদানির এ সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিকভাবেও নজর কেড়েছে।
সূত্র: সিএনএন , দ্য গার্ডিয়ান , দ্য টেলিগ্রাফ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন