মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩০ পি.এম
জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়ে গেল। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—এই চার ধরনের তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, নতুন দাম কার্যকর হবে আগামীকাল সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর ফলে ডিজেলের নতুন দাম হবে ১৩৫ টাকা, কেরোসিনের ১৫৫, পেট্রলের ১৬০ এবং অকটেনের ১৬৫ টাকা লিটার।
পূর্বে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে। অর্থাৎ, একদিনেই চার ধরনের জ্বালানির দাম ২০ টাকা করে বেড়ে গেল।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, তবে জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এর ফলে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
এর আগে ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। একই সময়ে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম যথাক্রমে ১৮, ১৯ এবং ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। জুন মাসে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধুমাত্র ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে।
লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বৃদ্ধির ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন দাম কার্যকর হলে পরিবহন, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে নিত্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।
তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে বিপিসির বড় আর্থিক চাপ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, দেশে তুলনামূলক কম দামে তেল বিক্রি করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় লোকসান গুনছে।
এ কারণে সংস্থাটির নিজস্ব তহবিল দ্রুত কমে আসছে। তেল আমদানি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বর্তমানে বিপিসিকে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিপিসির ব্যাংক হিসাবে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে সেপ্টেম্বরের আমদানি ব্যয় মেটানো গেলেও অক্টোবরে তেল আমদানি অব্যাহত রাখতে অর্থসংকট তৈরি হতে পারে।
বছরের শুরু থেকে তেলের দাম
চলতি বছরের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম দুই দফায় কমানো হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে ডিজেলের দাম ১০০, কেরোসিন ১১২, পেট্রল ১১৬ ও অকটেন ১২০ টাকা হয়। মার্চ মাসে দাম অপরিবর্তিত ছিল।
এপ্রিলে বড় ধরনের সমন্বয়ে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বা ১৫ শতাংশ, কেরোসিন ১৮ টাকা বা ১৬ দশমিক ০৭ শতাংশ, পেট্রল ১৯ টাকা বা ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং অকটেন ২০ টাকা বা ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
জুন মাসে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনে আরও ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়। এই বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৮৫, ৩ দশমিক ৭০ ও ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।
বর্তমানে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটার। জানুয়ারির তুলনায় বর্তমানে ডিজেলের দাম ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, কেরোসিন ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ, পেট্রল ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং অকটেন ১৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এক বছরের দায়িত্ব পালনের সময় ৩৩৮টি কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এই উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী কল্যাণমূলক কার্যক্রমের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাকসু মাত্র ১৮ লাখ টাকা পেয়েছে। বাকি অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফার্মের স্পনসরশিপ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে এসেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে জাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য উপস্থাপন করেন জাকসুর সদ্য সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফেরদৌস আল হাসান।
জাকসুর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ, আবাসিক হলের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, পরিবহণ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন খাতে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ফেরদৌস আল হাসান উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ফার্মের সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সত্ত্বেও বাজেট সংকটের কারণে প্রত্যাশিত সমাধান পাওয়া যায়নি। পরে স্পনসরশিপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
জাকসুর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ২১টি আবাসিক হলে ডেস্কটপ কম্পিউটার সেটআপ ও টেবিল সরবরাহে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। হলগুলোতে গরম ও ঠান্ডা পানির সুবিধাসহ আধুনিক ফিল্টার স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা। প্রতিটি হলে বুস্টার স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এছাড়া ১৬টি আবাসিক হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে ধর্মীয় পাঠাগার স্থাপনে প্রায় ৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা সহজ করতে ‘টিউটর হাব’ ওয়েবসাইট তৈরিতে ৪৫ হাজার টাকা, ‘জাবি’ ওয়েবসাইটে ৫০ হাজার টাকা এবং রক্তদানবিষয়ক ওয়েবসাইট তৈরিতে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ট্র্যাকার মেশিন স্থাপন ও বাস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করতে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে স্পনসরশিপের কারণে এ খাতে জাকসুর প্রকৃত ব্যয় কমেছে। জাকসুর নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরিতেও ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এটিও স্পনসরনির্ভর বলে জানিয়েছে জাকসু।
ক্যারিয়ার ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে ‘ক্যারিয়ার পাথ অ্যান্ড হায়ার এডুকেশন এক্সপো’ আয়োজন করা হয়। এতে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এতে কোনো অর্থ ব্যয় করা হয়নি। ‘ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন এক্সপো’তে অংশ নেন প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। এর বিপরীতে জাকসু থেকে দেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা।
দুই ধাপে বিনামূল্যে আইইএলটিএস কোর্সে ৭০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রথম ধাপে ৩০০-এর বেশি এবং দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। কোর্স দুটির আর্থিক মূল্য যথাক্রমে প্রায় ৩ লাখ ও ৪ লাখ টাকা। তবে এসব কর্মসূচিতে জাকসুর কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি।
বেসিক কম্পিউটার কোর্সে প্রায় এক হাজার এবং ‘অ্যাডভান্স কম্পিউটার স্কিল ফর একাডেমিক ইউজ’ কোর্সে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। কোর্স দুটির আর্থিক মূল্য যথাক্রমে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার ও ২ লাখ টাকা। ‘ফ্লুয়েন্ট ফিউচার ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স’-এ ইংরেজি, জাপানি ও সফট স্কিল বিষয়ে ৬০০-এর বেশি শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এ কর্মসূচির আর্থিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। ‘নেক্সট জেনারেশন রিসার্চ মেথডোলজি কোর্স উইথ রিসার্চ প্রজেক্ট’-এ বিজ্ঞান, আইবিএ, ব্যবসা এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান শাখার প্রায় ৪৫০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ কর্মসূচির আর্থিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বড় পরিসরে জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপের কারণে জাকসুর নিজস্ব ব্যয় ছিল প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে ‘মেন্টাল হেলথ ফ্রি কাউন্সেলিং ক্যাম্প’ আয়োজন করা হয়। এতে ৮০০-এর বেশি শিক্ষার্থী সেবা নেন। প্রায় ২০ জন চিকিৎসক এতে অংশ নেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি স্থানে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ বিনামূল্যে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। জাকসুর হিসাবে এ আয়োজনের আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া ‘জাগরণ’ ও জাকসুর ম্যাগাজিন প্রকাশে পৃথকভাবে প্রায় ২ লাখ টাকা করে ব্যয় হয়েছে। জিমনেশিয়াম আধুনিকায়ন প্রকল্পেও ৫ লাখ টাকার স্পনসর সংগ্রহ করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সাত দিনব্যাপী সাইকেল ও স্কুটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ৫৫০ জন নারী শিক্ষার্থী অংশ নেন। স্পনসরের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলেও সংবাদ সম্মেলনে স্পনসর প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবদানের পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ জানানো হয়নি।
ফেরদৌস আল হাসান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সরাসরি উপকারে আসে—এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বরাদ্দের পাশাপাশি স্পনসরশিপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রিয়াল মাদ্রিদ গত রাতে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছে। এই ম্যাচে রেফারিং সিদ্ধান্তগুলো নিজেদের বিরুদ্ধে গেছে বলে দাবি করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিও। তিনি মনে করেন, প্রথমার্ধের দুটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই দুই ফাউলের একটি প্রিন্ট করে নিয়ে এসেছেন।
মরিনিও প্রথম যে ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, তা ঘটে ৩৭ মিনিটে। রিয়ালের জুড বেলিংহ্যাম এবং আতলেতিকোর ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর মধ্যে বল দখলের লড়াইয়ে সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় বেলিংহ্যামকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
মরিনিও তখন রোমেরোকে বিপজ্জনক ফাউলের জন্য লাল কার্ড দেখানোর অনুরোধ করেছিলেন। কারণ রিপ্লেতে দেখা যায়, রোমেরো বেলিংহ্যামের হাঁটুতে স্টাড দিয়ে আঘাত করেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর বেলিংহ্যামের হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করা হয় এবং রোমেরোকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ছিল ফেদে ভালভের্দের ওপর আতলেতিকোর কাং-ইন লির ফাউল নিয়ে। মরিনিও মনে করেন, এই ফাউলে সরাসরি লাল কার্ড হওয়া উচিত ছিল। তিনি ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "এসব সিদ্ধান্ত ইচ্ছাকৃত নয়, বরং ভুল বলেই আমি বিশ্বাস করতে চাই।"
মরিনিও জানান, হারলেও খেলোয়াড়দের নিবেদন নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই। বিশেষ করে প্রথমার্ধে তাদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি বলেন, "দল হিসেবে আমার দলকে আমার ভালো লেগেছে। প্রথমার্ধেও তাদের আমার সত্যিই ভালো লেগেছে। দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলে রাখা এবং আতলেতিকোর বল দখল থামানো স্বাভাবিকভাবেই খুব কঠিন ছিল। তাদের গর্ব আমার ভালো লেগেছে, তাদের দৃঢ়সংকল্প আমার ভালো লেগেছে। আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে হতাশ না হওয়াটা আমার জন্য ভালো একটা অনুভূতি।"
ডিন হাউসেনের বহিষ্কারের প্রসঙ্গেও কথা বলেন মরিনিও। এই ঘটনার সুবাদে আতলেতিকো পেনাল্টি পায়। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, এখনো ভিএআরের রিপ্লে দেখা হয়নি।
এই হারের পর লিগ টেবিলে রিয়াল মাদ্রিদ চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে। অন্যদিকে, শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে আতলেতিকো।
তবে মরিনিও জোর দিয়ে বলেন, মৌসুমের এখনো অনেকটা পথ বাকি আছে। তিনি বলেন, "স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, বিষয়টি কীভাবে শুরু হলো তা নিয়ে নয়, বরং কীভাবে শেষ হলো সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) মাত্র ১২ দিনের মধ্যে তিন শিক্ষার্থীকে হারিয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, ক্যানসার ও নদীতে ডুবে তাদের মৃত্যু ঘটেছে।
সর্বশেষ, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদী থেকে চবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ শাহারিয়ার সানমের (২৪) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে নরসিংদী ও ঢাকা থেকে ৯ জনের একটি পর্যটক দল কাপ্তাইয়ে পৌঁছায়। এরপর তারা স্থানীয় গাইডের সঙ্গে সীতা পাহাড়ে ট্র্যাকিংয়ে চলে যায়। পাহাড় ভ্রমণের পর দুপুরের দিকে সীতা ঘাটের পাথরঘাটা এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে হাত-মুখ ধোয়ার সময় স্রোতের টানে সানম পানিতে তলিয়ে যান।
পরে কাপ্তাই থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে পাথরঘাটা এলাকা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
সানম নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ওই উপজেলার নাছির উদ্দীনের ছেলে।
এর এক দিন আগে, শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে চাঁদপুরে নিজ বাড়িতে মারা যান চবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র দাস (২৪)।
জানা গেছে, অনিক দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরে চাঁদপুরের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রাতের দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
এর আগে, গত ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুর রব হলের সামনে ব্যানার টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম মারা যান।
পরপর তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
নিহত শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল্-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমীন এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সফিকুল ইসলাম।
চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমীন মন্তব্য করেন, "পরপর তরুণ প্রাণগুলো একসঙ্গে হারানো একটা অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। তারা যেন পরকালে ভালো থাকে।"
চবি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, "মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন মেধাবী শিক্ষার্থী হারিয়েছি। আমরা খুবই শোকাহত, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার একটি তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডিজিটাল সচেতনতা ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত এই ক্যাম্পেইনে সাধারণ নাগরিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বার্তায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত সাধারণ মানুষ, তরুণ প্রজন্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক কার্যক্রম কিংবা মশা নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ব্যবহার করে ডেঙ্গু সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের পর্যায়েও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছানো সম্ভব। তাই সঠিক সময়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই প্ল্যাটফর্মকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষ করে তরুণদের পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সারদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায় নিয়ে ভিডিও, রিলস, স্টোরি, ইনফোগ্রাফিক ও অন্যান্য সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর এই প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে পৌঁছে দিতে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। সৃজনশীল ভিডিও, ছবি, ইনফোগ্রাফিক ও পোস্টের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে নাগরিকদের নিজেদের বাড়ি, আঙিনা ও কর্মস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সচেতনতামূলক তথ্য অনলাইনে শেয়ার করে অন্যদের সতর্ক করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ