প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়ে গেল। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—এই চার ধরনের তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, নতুন দাম কার্যকর হবে আগামীকাল সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর ফলে ডিজেলের নতুন দাম হবে ১৩৫ টাকা, কেরোসিনের ১৫৫, পেট্রলের ১৬০ এবং অকটেনের ১৬৫ টাকা লিটার।
পূর্বে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে। অর্থাৎ, একদিনেই চার ধরনের জ্বালানির দাম ২০ টাকা করে বেড়ে গেল।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, তবে জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এর ফলে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
এর আগে ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। একই সময়ে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম যথাক্রমে ১৮, ১৯ এবং ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। জুন মাসে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধুমাত্র ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে।
লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বৃদ্ধির ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন দাম কার্যকর হলে পরিবহন, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে নিত্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।
তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে বিপিসির বড় আর্থিক চাপ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, দেশে তুলনামূলক কম দামে তেল বিক্রি করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় লোকসান গুনছে।
এ কারণে সংস্থাটির নিজস্ব তহবিল দ্রুত কমে আসছে। তেল আমদানি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বর্তমানে বিপিসিকে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিপিসির ব্যাংক হিসাবে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে সেপ্টেম্বরের আমদানি ব্যয় মেটানো গেলেও অক্টোবরে তেল আমদানি অব্যাহত রাখতে অর্থসংকট তৈরি হতে পারে।
বছরের শুরু থেকে তেলের দাম
চলতি বছরের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম দুই দফায় কমানো হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে ডিজেলের দাম ১০০, কেরোসিন ১১২, পেট্রল ১১৬ ও অকটেন ১২০ টাকা হয়। মার্চ মাসে দাম অপরিবর্তিত ছিল।
এপ্রিলে বড় ধরনের সমন্বয়ে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বা ১৫ শতাংশ, কেরোসিন ১৮ টাকা বা ১৬ দশমিক ০৭ শতাংশ, পেট্রল ১৯ টাকা বা ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং অকটেন ২০ টাকা বা ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
জুন মাসে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনে আরও ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়। এই বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৮৫, ৩ দশমিক ৭০ ও ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।
বর্তমানে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটার। জানুয়ারির তুলনায় বর্তমানে ডিজেলের দাম ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, কেরোসিন ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ, পেট্রল ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং অকটেন ১৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন