বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৩ পি.এম
খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি, নিত্যদিনের বাজারে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে সাবান, শ্যাম্পু, স্যানিটারি ন্যাপকিনের দাম গড় মূল্যস্ফীতি অতিক্রম করেছে। খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের নিরুপায় দাবি করে ভোক্তাদের চাপের কথা উল্লেখ করছেন।
তারা জানাচ্ছেন, বেশি দামে কেনার ফলে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা পর্যালোচনার জন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাব।
ক্রেতাদের মতে, সব জায়গায় খরচ বেড়ে গেছে। কম দামে কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। দ্রব্যমূল্যের এই উচ্চতা সাধারণ মানুষের জন্য টিকে থাকা কঠিন করে তুলেছে।
এই ক্ষোভ এক-দুই দিনের নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশার ফল। যে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দিয়ে এক কেজি চাল কেনা যায়, সেই একই টাকা এখন একটি সাবান কিনতে ব্যয় করতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি খরচ সংসারের বাজেটকে আরও সংকুচিত করছে।
এক ক্রেতা মন্তব্য করেন, "আয়ের চেয়ে খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে, যার যোগান দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।"
এক বিক্রেতা জানান, "এক কেজি হুইল পাউডার আগে ১৩০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। একটি সাবান আগে ৪০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন ৮৫ টাকা।"
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হচ্ছে। অপরদিকে, উচ্চমূল্যের চাপের কারণে বিক্রি কমে যাচ্ছে।
কয়েকজন বিক্রেতা জানান, দাম বাড়ানোর কারণে ক্রেতারা আগের মতো কিনতে পারছেন না।
এক ক্রেতা বলেন, "বিভিন্নভাবে লোভ দেখাচ্ছে। পণ্যের সঙ্গে নানা ধরনের গিফট দিচ্ছে, কিন্তু পণ্যের দামের সঙ্গে সেই গিফটের দামও নিচ্ছে।"
ই-কমার্স ও গ্রোসারি প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম ১৯০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বোতলজাত শ্যাম্পুর দাম বেড়ে ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। টুথপেস্ট, টিস্যু, হ্যান্ডওয়াশ ও স্যানিটারি ন্যাপকিনের দামও ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। সব মিলিয়ে, ঊর্ধ্বমুখী খাদ্যপণ্যের বাজার দরের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দরকারি পণ্যের দাম গত এক বছরে প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান মন্তব্য করেন, "কোম্পানিগুলো তাদের ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। ১০০ গ্রামের পণ্যের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি প্যাকেটে পণ্যের পরিমাণও কমাচ্ছে। এটি ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা। এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে বসে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, "কর্পোরেট সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র দাপট থামাতে না পারলে নিত্যপণ্যের বাজার সহনশীল হবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীতে ‘রোড শো’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ পালন করা হয়। রোড শোটি বিআরটিএ সাভার সাব অফিস গেট থেকে শুরু হয়ে গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়।
আরো পড়ুন
ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডসের পার্থক্য এবং প্রতিকারের নিয়ম
রোড শোতে বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ ঢাকা জেলা সার্কেলের উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মোবারক হোসেন। এছাড়া, নিরাপদ সড়ক চাই সাভার শাখা, সাভার হাইওয়ে থানার পরিদর্শকসহ আরও অনেকেই বক্তব্য প্রদান করেন। সচেতনতামূলক লিফলেট, স্টিকার বিতরণ এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনও করা হয় রোড শোতে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনিতে বোরকা পরে হামলা চালানোর পর হামলাকারী যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম তাইজুল সরদার (২২), যিনি সদর উপজেলার ‘চর কুলপদ্বী’ এলাকার মৃত রুস্তম আলী সরদারের পুত্র। তিনি হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আহতদের মধ্যে মহসিন চৌকিদার ও জহির চৌদিকার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা কালিনগরের মোতালেব চৌদিকারের সন্তান। অপরদিকে, আরেক আহত ব্যক্তি আল আমিন সরদার, যিনি সদর উপজেলার কুলপদ্বী এলাকার বারেক সরদারের পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে কালকিনির কালিগঞ্জ বাজারের হানিফ হাওলাদারের চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন মহসিন, জহির এবং আলীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন সরদার। এসময় বোরকা পরে ইজিবাইকে আসা হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জহির ও মহসিন নামে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করে। পরে হামলাকারীরা তাইজুল ও আল আমিনকে কুপিয়ে আহত করে।
পরে আহত চারজনকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাইজুল সরদারের মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহত দুই ভাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আলীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হতে পারতেন। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
নিহত তাইজুলের চাচা সোবাহান সরদার বলেন, ‘সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশেই ১০-২০ জন লোকজন আমার ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। মিলন ও তার লোকজনের ফাঁসি চাই।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার অথবা পূর্ব শত্রুতার কারণে এই হামলা সংঘটিত হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহত তাইজুল সরদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান মিলন সরদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করার পর তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) গতকাল বুধবার রাতে তাকে ভর্তি করা হয়।
ভূমিমন্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএমইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখতে যান। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের কাছে ড. মঈন খানের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে, ড. আব্দুল মঈন খান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছেন। তার দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিশেষ করে যারা চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চান, তাদের জন্য ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের সম্মেলনকক্ষে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ইমক্যাব) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিনিধিদলে ইমক্যাবের সভাপতি শাহীন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহসহ নির্বাহী কমিটির ১০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতে ইমক্যাবের প্রতিনিধিরা ভারতীয় ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন।
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ বিষয়ে বলেন, ভিসা প্রাপ্তিতে যে ভোগান্তি হচ্ছে, তা তারা খতিয়ে দেখছেন। বিশেষভাবে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে ইচ্ছুক রোগীদের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইনে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার পর সরাসরি আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্লট পেতে কেন দেরি হচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করছে ভারতীয় হাইকমিশন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যাতায়াত যত বাড়বে, ততই পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক গভীর হবে।
সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার ইমক্যাবের সদস্যদের ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেন। প্রতিনিধিদলে আরো উপস্থিত ছিলেন বাসুদেব ধর, কুদ্দুস আফ্রাদ, মীর আফরোজ জামান, আবু আলী, আমিনুল হক ভূঁইয়া, নির্মল চক্রবর্তী, জাকির হোসেন ও মনির হোসেন। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব গোকুল ভিকে উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ