প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি, নিত্যদিনের বাজারে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে সাবান, শ্যাম্পু, স্যানিটারি ন্যাপকিনের দাম গড় মূল্যস্ফীতি অতিক্রম করেছে। খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের নিরুপায় দাবি করে ভোক্তাদের চাপের কথা উল্লেখ করছেন।
তারা জানাচ্ছেন, বেশি দামে কেনার ফলে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা পর্যালোচনার জন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাব।
ক্রেতাদের মতে, সব জায়গায় খরচ বেড়ে গেছে। কম দামে কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। দ্রব্যমূল্যের এই উচ্চতা সাধারণ মানুষের জন্য টিকে থাকা কঠিন করে তুলেছে।
এই ক্ষোভ এক-দুই দিনের নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশার ফল। যে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দিয়ে এক কেজি চাল কেনা যায়, সেই একই টাকা এখন একটি সাবান কিনতে ব্যয় করতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি খরচ সংসারের বাজেটকে আরও সংকুচিত করছে।
এক ক্রেতা মন্তব্য করেন, "আয়ের চেয়ে খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে, যার যোগান দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।"
এক বিক্রেতা জানান, "এক কেজি হুইল পাউডার আগে ১৩০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। একটি সাবান আগে ৪০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন ৮৫ টাকা।"
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হচ্ছে। অপরদিকে, উচ্চমূল্যের চাপের কারণে বিক্রি কমে যাচ্ছে।
কয়েকজন বিক্রেতা জানান, দাম বাড়ানোর কারণে ক্রেতারা আগের মতো কিনতে পারছেন না।
এক ক্রেতা বলেন, "বিভিন্নভাবে লোভ দেখাচ্ছে। পণ্যের সঙ্গে নানা ধরনের গিফট দিচ্ছে, কিন্তু পণ্যের দামের সঙ্গে সেই গিফটের দামও নিচ্ছে।"
ই-কমার্স ও গ্রোসারি প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম ১৯০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বোতলজাত শ্যাম্পুর দাম বেড়ে ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। টুথপেস্ট, টিস্যু, হ্যান্ডওয়াশ ও স্যানিটারি ন্যাপকিনের দামও ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। সব মিলিয়ে, ঊর্ধ্বমুখী খাদ্যপণ্যের বাজার দরের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দরকারি পণ্যের দাম গত এক বছরে প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান মন্তব্য করেন, "কোম্পানিগুলো তাদের ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। ১০০ গ্রামের পণ্যের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি প্যাকেটে পণ্যের পরিমাণও কমাচ্ছে। এটি ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা। এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে বসে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, "কর্পোরেট সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র দাপট থামাতে না পারলে নিত্যপণ্যের বাজার সহনশীল হবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন