বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:০১ এম
পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের উদ্দেশে বলেছেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” (সূরা আলে ইমরান: ১০২)। জুমার খুতবার শুরু কিংবা শেষভাগে এই আয়াত তিলাওয়াতের পর তিনি প্রায়ই বলতেন, “তোমরা মানুষ হও। মানুষ হতে হলে পবিত্র কুরআনকে আঁকড়ে ধরো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কোনো বিকল্প নেই।” বরিশালের হাজারো মুসল্লির কাছে পরিচিত সেই কণ্ঠস্বর আজ চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল। চলে গেলেন অবিভক্ত বাংলার আলেম সমাজের অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, বরিশাল স্টিমারঘাট জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব ও আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা আলহাজ মির্জা শরফউদ্দিন বেগ। ৯৮ বছর বয়সে বুধবার (১ জুলাই) সকালে ৬টা ৪৫ মিনিটে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর ইন্তেকালের খবরে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শোকের ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘ ৬৫ বছর খুতবা, ইমামতি ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া এই প্রবীণ আলেমকে শেষ বিদায় জানাতে বুধবার বাদ জোহর বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে হাজারো মুসল্লির ঢল নামে। জানাজার সময় আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। হালকা ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টির পর সূর্যের ক্ষণিক উঁকি যেন আবেগঘন পরিবেশকে আরও গভীর করে তোলে।
মরহুমের ছোট ছেলে মাওলানা শিহাব উদ্দিন বেগ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। পরে তাঁকে বরিশাল মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় বরিশালের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নিচ্ছেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এ্যাড. মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান খসরু, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দীন সিকদার, মাওঃ খলিলুর রহমান নেছারাবাদি, দৈনিক আজকের পরিবর্তনের প্রকাশক ও সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, বিএনপি নেতা সৈয়দ আকবর, আনোয়ারুল হক তারিন, সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুরুল আমিনসহ আরো অনেকে। বরিশাল জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান বলেন, “মাওলানা মির্জা শরফউদ্দিন বেগ ছিলেন বরিশাল নগরীর প্রায় সাড়ে তিনশ মসজিদের ইমামদের ইমাম। শুধু বরিশাল নয়, বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইমাম তাঁর ছাত্র ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে দেশের আলেম সমাজ একজন অভিভাবককে হারাল।” জামে এবায়দুল্লাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান বেগ বলেন, “তিনি আমার চাচা হলেও আগে ছিলেন আমার শিক্ষক। আমার জানামতে, তিনি কখনো এক ওয়াক্ত নামাজও কাজা করেননি। শেষ বয়সেও তিনি মানুষকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে গেছেন।” মাওলানা মির্জা শরফউদ্দিন বেগ ১৯২৮ সালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের বলাইকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দেশভাগের আগে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ প্রচারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছিল বরিশালের মাহমুদিয়া মাদ্রাসা থেকে। এরপর তিনি শাহারানপুর মাদ্রাসা, ভারতের উত্তরপ্রদেশে পড়াশুনা করেন। এখানে তাঁর শিক্ষক ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মোহাদ্দেস জাকারিয়া (রহঃ)। তিনি হোসাইন আহমদ মাদানী (রহঃ) এর খলিফা ছিলেন। এছাড়াও সরকারি বেসরকারিভাবে বহুবার বহু রাষ্ট্রে সফর করেন তিনি। ১৯৬০ সাল থেকে তিনি স্টিমারঘাট জামে মসজিদে ইমামতি শুরু করেন। নিজের দীর্ঘজীবনে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন দেশভাগ, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের নানা রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবর্তন। ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, মুসলিম সমাজের নৈতিক ও ধর্মীয় অবক্ষয় তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করত। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি মানুষকে পবিত্র কুরআন ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে গেছেন। মৃত্যুর মাত্র তিনমাস আগেও জুমার বয়ানে তিনি মুসল্লিদের কুরআনের শিক্ষা, সুন্নাহর অনুসরণ এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি অবিচল থাকার তাগিদ দিয়েছিলেন। প্রায় ৬৫ বছর বরিশাল স্টিমারঘাট জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা শরফউদ্দিন বেগ। তাঁর দীর্ঘ ইমামতি জীবনে অসংখ্য আলেম, হাফেজ, ইমাম ও দ্বীনি শিক্ষার্থী তাঁর সান্নিধ্যে গড়ে উঠেছেন। ইসলামী জ্ঞানচর্চা, সাদাসিধে জীবনযাপন, বিনয় এবং নৈতিক দৃঢ়তার জন্য তিনি ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে ছিলেন শ্রদ্ধা, আস্থা ও অনুকরণের প্রতীক। মরহুমের বাবা মাওলানা মির্জা নাজির আহম্মদ বেগও ছিলেন একজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মরহুম শামসুদ্দিন বেগ এবং ছোট ছেলে মরহুম মাওলানা মির্জা শরফউদ্দিন বেগ। মৃত্যুকালে তিনি মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। বড় ছেলে মাওলানা মহিউদ্দিন বাচ্চুঢাকার একটি মসজিদের ইমাম এবং ছোট ছেলে মাওলানা মির্জা শিহাব উদ্দিন মাসুম বর্তমানে বরিশাল স্টিমারঘাট জামে মসজিদে ইমামতি করছেন। তাঁর মৃত্যুতে বরিশালের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পৃথক শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। পবিত্র কুরআনের শিক্ষা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু করে টানা ছয় দশকেরও বেশি সময় মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান জানিয়েছেন মাওলানা মির্জা শরফউদ্দিন বেগ। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত জুমার সেই চিরচেনা আহ্বান -“তোমরা মানুষ হও। কুরআনকে আঁকড়ে ধরো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কোনো বিকল্প নেই।” আজ আর স্টিমারঘাট জামে মসজিদের মিম্বার থেকে শোনা যাবে না। কিন্তু তাঁর শিক্ষা, আদর্শ, অসংখ্য ছাত্র এবং দীর্ঘ ৬৫ বছরের ইমামতির উত্তরাধিকার তাঁকে বরিশালের ধর্মীয় ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জর্ডানের টাস্কার অ্যাপারেল-এ ১৩১ জন দক্ষ নারী গার্মেন্টস কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) সরকারিভাবে।
আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আগামী ৩ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত সরাসরি সাক্ষাৎকার এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।
বোয়েসেল জানাচ্ছে, মহিলা কারখানায় শ্রমিক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং আবেদনকারীদের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীদের প্লেইন মেশিন ও ওভারলক মেশিন পরিচালনায় বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা মাসিক ২২ হাজার ৫০০ টাকা মূল বেতন পাবেন। প্রত্যেক কর্মীকে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করতে হবে। অতিরিক্ত কাজের ক্ষেত্রে ওভারটাইমের সুবিধা প্রস্তাবিত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে চাকরির মেয়াদ তিন বছর থাকবে, যা নবায়নযোগ্য। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীদের আবাসন, খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে।
বাংলাদেশ থেকে জর্ডানে যাওয়ার বিমানভাড়া এবং তিন বছর চাকরি শেষে দেশে ফেরার বিমানভাড়াও কোম্পানি বহন করবে।
জর্ডানে আগে টাস্কার অ্যাপারেল-এ কর্মরত ছিলেন এমন ব্যক্তিদের পুনরায় আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশে অথবা জর্ডানে কোনো মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবে না। একাধিক পাসপোর্ট থাকলে সাক্ষাৎকারের সময় তা সঙ্গে আনতে হবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে ফিরে আসা দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বোয়েসেল জানিয়েছে, নির্বাচিত কর্মীদের নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রায় সব খরচ কোম্পানি বহন করবে। প্রার্থীদের শুধুমাত্র মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ১ হাজার টাকা এবং পিডিও প্রশিক্ষণ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট বাবদ ২২০ টাকা ব্যয় করতে হবে। ভিসা পাওয়ার পর জর্ডান যাত্রার আগে কোম্পানি অর্থ পরিশোধ করবে।
আগামী ৩ জুলাই (শুক্রবার) সকাল ৮টায় ঢাকার মিরপুরের দারুস সালাম রোডে অবস্থিত মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরাসরি সাক্ষাৎকার ও ব্যবহারিক পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
প্রার্থীদের চার কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, মূল পাসপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় ফটোকপিসহ উপস্থিত থাকতে হবে। উল্লেখ্য, কোনো জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) নিয়ে আসার প্রয়োজন নেই।
বোয়েসেল আরও জানিয়েছে, অনলাইনে আবেদন করা সাক্ষাৎকার বা চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়; চূড়ান্ত নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের ট্রেড টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে। অনলাইনে আবেদন ফি ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি সর্বসাধারণকে সতর্ক করে জানিয়েছে, বোয়েসেলের কোনো এজেন্ট বা সাব-এজেন্ট নেই এবং নগদ অর্থ প্রদান না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। কর্মী নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া বোয়েসেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করবে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সমান্থা স্বাস্থ্যসচেতন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এরপর থেকেই তিনি নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া এবং শারীরচর্চা করেন। তার নির্মেদ চেহারা অনেকের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তাই তিনি নিজের স্ফীতোদরের ছবি শেয়ার করে ‘সিক্স প্যাক’ নিয়ে রসিকতা করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফাইন্যান্স এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ বাংলাদেশের বেস্ট ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, বেস্ট ইকুইটি ক্যাপিটাল মার্কেটস (ইসিএম) হাউস এবং বেস্ট ডেট ক্যাপিটাল মার্কেটস (ডিসিএম) হাউস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র একটি সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) প্রতিষ্ঠান।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের মূল তিনটি ক্যাটাগরিতে এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইকুইটি ও ডেট ক্যাপিটাল মার্কেটস, স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্স, সিন্ডিকেশন, অ্যাডভাইজরি, আন্ডাররাইটিং এবং ট্রাস্টি সেবায় প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, তারল্য সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং পাবলিক ইকুইটি ইস্যুর সীমিত সুযোগের কারণে গত অর্থবছর বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জিং। এ পরিস্থিতিতেও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস দেশের একমাত্র পাবলিক ইকুইটি ইস্যুর নেতৃত্ব দেয়। পাশাপাশি স্ট্রাকচার্ড ডেট সলিউশন সম্প্রসারণ, রেগুলেটরি ক্যাপিটাল গঠনে সহায়তা এবং শীর্ষস্থানীয় করপোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্রিন, শরিয়াহসম্মত, সিন্ডিকেটেড ও অ্যাডভাইজরি সেবা প্রদান করে।
হংকংয়ে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ছোট বাজার হলেও এটি এশিয়ার অন্যতম স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির গল্প। এই প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে আরও গভীর ইকুইটি মার্কেট, শক্তিশালী ডেট ক্যাপিটাল মার্কেট, টেকসই অর্থায়ন এবং বেশি প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন প্রয়োজন। ফাইন্যান্স এশিয়ার এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি আমরা আমাদের সম্মানিত গ্রাহক, বিনিয়োগকারী, শেয়ারহোল্ডার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রতি উৎসর্গ করছি।’
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘ফাইন্যান্স এশিয়ার কাছ থেকে এই তিনটি স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এই অর্জন আমাদের সমন্বিত ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম, গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং গুণগত মান, উদ্ভাবন ও উৎকর্ষপূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বর্তমানে দৃষ্টিনন্দন সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। মাচার পর মাচায় ঝুলছে থোকা থোকা আগাম জাতের পুইশাকের বীজ, যাকে স্থানীয়ভাবে 'পুইফল' নামে পরিচিতি দেওয়া হয়েছে। কম উৎপাদন খরচ, ভালো ফলন এবং বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকদের কাছে এটি নতুন সম্ভাবনার ফসলে পরিণত হয়েছে। দিন দিন এর বাণিজ্যিক চাষ বাড়ছে লাভজনক হওয়ার কারণে।
সাগান্না ইউনিয়নের সাগান্না গ্রামের মাঠে দেখা গেছে ভারতীয় হাইব্রিড আগাম জাতের পুইফল বাণিজ্যিকভাবে চাষিত হচ্ছে, যা স্থানীয়ভাবে পুইশাকের মেচড়ি নামেও পরিচিত। লাভজনক হওয়ায় এ ফসলের আবাদ দিন দিন বাড়ছে। কৃষকরা মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে ফলন পাচ্ছেন, ফলে স্বল্প সময়ে ভালো আয় করতে সক্ষম হচ্ছেন। শুধু সাগান্না নয়, বৈডাঙ্গা, ভাতুড়িয়া, বকশিপুর, কুল্লাগাছা, চারাতলা, গাগেন্না, রাজনগর, দায়পাড়া ও শালিয়াসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মাঠে বর্তমান সময়ে পুইফলের সবুজ রাজ্য দেখা যাচ্ছে।
এবং এসব এলাকার কৃষকরা, যেমন হাসমত আলী, চাঁদ আলী বিশ্বাস, শহিদুল ইসলাম, সাগর মিয়া ও মোছা. জেসমিন খাতুন, জানান যে, গত কয়েক বছরে বাজারে পুইফলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি অনেক কৃষক এখন এ লাভজনক চাষে ঝুঁকছেন। লাভজনক হওয়ায় শুধু পুরুষরা নয়, অনেক নারী উদ্যোক্তাও পুইফল চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে পুইফলের আবাদ হয়েছে। প্রতিবিঘা জমিতে মাচা তৈরি, বীজ সংগ্রহ এবং পরিচর্যা করতে কৃষকদের প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তবে সেই খরচের তুলনায় অনেক বেশি আয় হচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পুইফল প্রায় ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর কারণে উৎপাদন খরচের বিপরীতে লাভও অনেক বেশি। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পুইফল চাষের পরিকল্পনা করছেন অনেকেই।
কৃষকদের আশাবাদ, যদি বাজারমূল্য এভাবে স্থিতিশীল থাকে, তাহলে আগামীতে আরও বেশি কৃষক এ চাষের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর এ নবী বলেন, 'পুইশাকের পাতা ও ডগা নিয়মিত কেটে ফেললে গাছে ফল বেশি ধরে।' তিনি আরও জানান, ভালো ফলন হলে প্রতিবিঘা জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। কৃষি বিভাগ নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে এবং এটি লাভজনক ফসল হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন কৃষক এ চাষে যুক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি পুইফলের ক্ষেতে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণও বেড়ে গেছে। যার ফলে কৃষিকাজের মাধ্যমে নারীরাও বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ