প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বর্তমানে দৃষ্টিনন্দন সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। মাচার পর মাচায় ঝুলছে থোকা থোকা আগাম জাতের পুইশাকের বীজ, যাকে স্থানীয়ভাবে 'পুইফল' নামে পরিচিতি দেওয়া হয়েছে। কম উৎপাদন খরচ, ভালো ফলন এবং বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকদের কাছে এটি নতুন সম্ভাবনার ফসলে পরিণত হয়েছে। দিন দিন এর বাণিজ্যিক চাষ বাড়ছে লাভজনক হওয়ার কারণে।
সাগান্না ইউনিয়নের সাগান্না গ্রামের মাঠে দেখা গেছে ভারতীয় হাইব্রিড আগাম জাতের পুইফল বাণিজ্যিকভাবে চাষিত হচ্ছে, যা স্থানীয়ভাবে পুইশাকের মেচড়ি নামেও পরিচিত। লাভজনক হওয়ায় এ ফসলের আবাদ দিন দিন বাড়ছে। কৃষকরা মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে ফলন পাচ্ছেন, ফলে স্বল্প সময়ে ভালো আয় করতে সক্ষম হচ্ছেন। শুধু সাগান্না নয়, বৈডাঙ্গা, ভাতুড়িয়া, বকশিপুর, কুল্লাগাছা, চারাতলা, গাগেন্না, রাজনগর, দায়পাড়া ও শালিয়াসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মাঠে বর্তমান সময়ে পুইফলের সবুজ রাজ্য দেখা যাচ্ছে।
এবং এসব এলাকার কৃষকরা, যেমন হাসমত আলী, চাঁদ আলী বিশ্বাস, শহিদুল ইসলাম, সাগর মিয়া ও মোছা. জেসমিন খাতুন, জানান যে, গত কয়েক বছরে বাজারে পুইফলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি অনেক কৃষক এখন এ লাভজনক চাষে ঝুঁকছেন। লাভজনক হওয়ায় শুধু পুরুষরা নয়, অনেক নারী উদ্যোক্তাও পুইফল চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে পুইফলের আবাদ হয়েছে। প্রতিবিঘা জমিতে মাচা তৈরি, বীজ সংগ্রহ এবং পরিচর্যা করতে কৃষকদের প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তবে সেই খরচের তুলনায় অনেক বেশি আয় হচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পুইফল প্রায় ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর কারণে উৎপাদন খরচের বিপরীতে লাভও অনেক বেশি। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পুইফল চাষের পরিকল্পনা করছেন অনেকেই।
কৃষকদের আশাবাদ, যদি বাজারমূল্য এভাবে স্থিতিশীল থাকে, তাহলে আগামীতে আরও বেশি কৃষক এ চাষের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর এ নবী বলেন, 'পুইশাকের পাতা ও ডগা নিয়মিত কেটে ফেললে গাছে ফল বেশি ধরে।' তিনি আরও জানান, ভালো ফলন হলে প্রতিবিঘা জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। কৃষি বিভাগ নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে এবং এটি লাভজনক ফসল হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন কৃষক এ চাষে যুক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি পুইফলের ক্ষেতে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণও বেড়ে গেছে। যার ফলে কৃষিকাজের মাধ্যমে নারীরাও বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন