মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৬ পি.এম
কচুয়া উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির উদ্যোগে অবসরপ্রাপ্ত ও মরণোত্তর শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে মোট ৮৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৬৬ জন অবসরপ্রাপ্ত এবং ১৮ জন মরণোত্তর শিক্ষকের অন্তর্ভুক্তি রয়েছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন হযরত শাহ নেয়ামত শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইলিয়াস মিয়া। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন আশরাফপুর আহসানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দিন সোহাগ এবং বুরগী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবি।
প্রধান অতিথি নাজমুন নাহার বেবি তার বক্তব্যে বলেন, "আমরা আজ যারা চাকরি করি, চাকরি শেষে আমাদের সকলেরই একই গন্তব্যে যেতে হবে—অবসর। আমি দেখছি, এই সমিতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি যে ভালোবাসা ও সম্মান দেখিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।"
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক, চাঁদপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোশারফ হোসেন, মাসনিগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিন উল্যাহ, সাচার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ নওশের আলম মিয়া, রহিমানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, আশরাফপুর গনিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলী আশরাফ সরদার, বারৈয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, তেতৈয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী এবং আইনগিরি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মেয়ে জাহানারা আক্তার।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত ও প্রয়াত শিক্ষক-কর্মচারীদের শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। উপস্থিত শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, সমিতির এই উদ্যোগ আন্তরিকতা ও সম্মানের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে (বেরোবি) বাসের লাইভ লোকেশন ট্র্যাকিং সুবিধা চালু হয়েছে। ফলে, শিক্ষার্থীরা এখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বাসের বর্তমান অবস্থান ও রুট সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
এই সুবিধা ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে মোবাইলে ALO App ডাউনলোড করতে হবে। এরপর Student User অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের লগইনের জন্য ইমেইল: [email protected] এবং পাসওয়ার্ড: VTS@2026 ব্যবহার করতে হবে। এই অ্যাকাউন্টে প্রবেশের জন্য কোনো ওটিপি ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হবে না।
অ্যাপে সফলভাবে লগইন করার পর Vehicle Tracking অপশনে গেলেই চলাচলরত বাসগুলোর লাইভ লোকেশন ও নির্ধারিত রুট দেখা যাবে।
এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান মন্তব্য করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস ট্র্যাকিং সুবিধা চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব, সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই মোবাইলের মাধ্যমে বাসের বর্তমান অবস্থান জানতে পারবে, ফলে অপেক্ষার সময় ও অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থায় প্রযুক্তির এমন কার্যকর ব্যবহার আধুনিক ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী জাওয়াদ সাজিদ বলেন, বেরোবিতে বাস ট্র্যাকিং সুবিধা চালু হওয়া শিক্ষার্থীবান্ধব ও সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাসের অবস্থান ও সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় জানতে পারবে, ফলে অপেক্ষার সময় কমবে এবং যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। বিশেষ করে দূরবর্তী স্থান থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিনির্ভর এমন আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিবহন পুলের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানা বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি দাবি ছিল অনেক দিনের। তিনি উল্লেখ করেন, "আমি পরিবহন দপ্তরের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা আমাকে অনেকবার বলেছে যে স্যার যদি গাড়ির লাইভ ট্রাকিং এর ব্যবস্থা করা যেত। তাহলে আমাদের জন্য উপকার হত। গাড়িটি কোন জায়গায় অবস্থান করছে আমরা জানতে পারতাম।" তখন থেকেই তিনি দাবিটি নোট আকারে প্রশাসনের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছিলেন। সেটাই বিভিন্ন যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে কিছুদিন আগে কাজের অর্ডার হয়ে ডিভাইসগুলো গ্রামীন ফোন থেকে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক শিক্ষার্থী কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য আলাদা আইডি রয়েছে। সে আইডি দিয়ে তারা তাদের লোকেশন দেখতে পারবে। পরিবহন দপ্তর পুরোটা কন্ট্রোলের মধ্যে রাখবে। অনেকদিন পরে হলেও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের চাওয়াটা যে পূরণ হলো, এটা আমাদের দপ্তরের পক্ষ থেকে ভালো লাগার বিষয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক জানিয়েছেন, তারেক রহমান মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে এ অধিবেশনে যোগদান করেন।
সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনের আসনগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো থাকায় বি আদ্যাক্ষরের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল প্রথম সারিতে আসন গ্রহণ করে।
অধিবেশনস্থলে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। মিলনায়তনে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি ড. খলিলুর রহমানকে অভিবাদন জানান। এরপর তিনি আসন গ্রহণ করেন।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ২ জুন অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৯৯টি ভোট পেয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।
প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে প্রবেশ করে নিজ আসনে বসার পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
এবারের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুগুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, যা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম ভাষণ হবে। আশা করা হচ্ছে, ভাষণটি তিনি বাংলায় দেবেন।
জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, তিনি সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামনে দুটি ভিন্ন পথের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন।
একদিকে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে পুনর্গঠনের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন, অন্যদিকে চুক্তি না হলে সম্ভাব্য ভয়াবহ সংঘাতের মুখে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেন।
ট্রাম্প বলেন, "আমি কী তাদের এমন এক নরকের দিকে ঠেলে দেব, যেখানে টিকে থাকার কোনো সুযোগ থাকবে না। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মহান হওয়ারও কোনো আশা থাকবে না।"
তবে, তিনি এমন কঠোর সতর্কতার মধ্যেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, "নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই চুক্তি হতে পারে। তেহরানের জন্য চুক্তিতে রাজি না হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।"
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় কূটনৈতিক উদ্যোগ আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাবরেটরি ও অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে দিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ল্যাবরেটরি নিরাপত্তা, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ, জরুরি অবস্থায় করণীয় এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ধারণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে ইসলামী ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার প্রথম পর্বে ‘Laboratory and Fire Safety: Prevention, Preparedness and Emergency Response’ শীর্ষক আলোচনায় ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মামুন আল রশিদ বক্তব্য রাখেন। এই পর্বে ল্যাবরেটরিতে নিরাপদ কাজের পদ্ধতি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় পর্বে ‘Fire Safety, Emergency Response and Practical Demonstration’ শীর্ষক একটি ব্যবহারিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসাইন এই পর্বটি পরিচালনা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন নেভানোর বিভিন্ন পদ্ধতি এবং জরুরি অবস্থায় নিরাপদে করণীয় বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
ইসলামী ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি জুনায়দুল মুস্তাফার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান আলী এবং অধ্যাপক ড. মো. মামুন আল রশিদ। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসানুল হক।
কর্মশালায় কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসাইন মন্তব্য করেন, ফায়ার সার্ভিস শুধুমাত্র একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান নয়; বরং যেকোনো দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পদ রক্ষার মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটার পর উদ্ধারকাজের চেয়ে দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ল্যাবরেটরি বা কেমিক্যাল ফায়ার ফাইটিং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিশেষায়িত কাজ। সাধারণ আগুন নেভানোর তুলনায় এ ধরনের আগুন মোকাবিলায় ভিন্ন কৌশল, প্রশিক্ষণ এবং সতর্কতার প্রয়োজন হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান পরিবার ও সমাজের অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাদের উদ্যোগী হতে হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার সময় সাধারণ মানুষ আন্তরিকভাবে উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় যানজট এবং অপরিকল্পিত সড়কব্যবস্থার কারণে দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পৌঁছাতেও বিলম্ব ঘটে। তাই প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে আরও কয়েকজনকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা দুর্যোগের সময় কার্যকরভাবে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করতে পারে।
তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মশালা থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি জনসেবামূলক এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ ও সামগ্রিক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা দুর্যোগের সময় সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা করলে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ