মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৮ পি.এম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামনে দুটি ভিন্ন পথের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন।
একদিকে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে পুনর্গঠনের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন, অন্যদিকে চুক্তি না হলে সম্ভাব্য ভয়াবহ সংঘাতের মুখে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেন।
ট্রাম্প বলেন, "আমি কী তাদের এমন এক নরকের দিকে ঠেলে দেব, যেখানে টিকে থাকার কোনো সুযোগ থাকবে না। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মহান হওয়ারও কোনো আশা থাকবে না।"
তবে, তিনি এমন কঠোর সতর্কতার মধ্যেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, "নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই চুক্তি হতে পারে। তেহরানের জন্য চুক্তিতে রাজি না হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।"
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় কূটনৈতিক উদ্যোগ আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাবরেটরি ও অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে দিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ল্যাবরেটরি নিরাপত্তা, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ, জরুরি অবস্থায় করণীয় এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ধারণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে ইসলামী ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার প্রথম পর্বে ‘Laboratory and Fire Safety: Prevention, Preparedness and Emergency Response’ শীর্ষক আলোচনায় ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মামুন আল রশিদ বক্তব্য রাখেন। এই পর্বে ল্যাবরেটরিতে নিরাপদ কাজের পদ্ধতি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় পর্বে ‘Fire Safety, Emergency Response and Practical Demonstration’ শীর্ষক একটি ব্যবহারিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসাইন এই পর্বটি পরিচালনা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন নেভানোর বিভিন্ন পদ্ধতি এবং জরুরি অবস্থায় নিরাপদে করণীয় বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
ইসলামী ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি জুনায়দুল মুস্তাফার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান আলী এবং অধ্যাপক ড. মো. মামুন আল রশিদ। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসানুল হক।
কর্মশালায় কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসাইন মন্তব্য করেন, ফায়ার সার্ভিস শুধুমাত্র একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান নয়; বরং যেকোনো দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পদ রক্ষার মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটার পর উদ্ধারকাজের চেয়ে দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ল্যাবরেটরি বা কেমিক্যাল ফায়ার ফাইটিং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিশেষায়িত কাজ। সাধারণ আগুন নেভানোর তুলনায় এ ধরনের আগুন মোকাবিলায় ভিন্ন কৌশল, প্রশিক্ষণ এবং সতর্কতার প্রয়োজন হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান পরিবার ও সমাজের অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাদের উদ্যোগী হতে হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার সময় সাধারণ মানুষ আন্তরিকভাবে উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় যানজট এবং অপরিকল্পিত সড়কব্যবস্থার কারণে দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পৌঁছাতেও বিলম্ব ঘটে। তাই প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে আরও কয়েকজনকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা দুর্যোগের সময় কার্যকরভাবে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করতে পারে।
তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মশালা থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি জনসেবামূলক এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ ও সামগ্রিক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা দুর্যোগের সময় সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা করলে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মীর মোশাররফ হোসেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে তার নতুন দায়িত্বের বিষয়টি জানানো হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আইকিউএসি পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অধ্যাপক ড. মোঃ মীর মোশাররফ হোসেনকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে আইকিউএসি পরিচালকের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. মোঃ মীর মোশাররফ হোসেন অতিরিক্ত এ দায়িত্ব পালনের জন্য বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. মোঃ মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিশ্চিতকরণ নীতি প্রণয়ন এবং প্রতিটি বিভাগ ও অনুষদে গুণগত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের মানদণ্ড অনুসরণ করে স্ব-মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত, নথির ভাণ্ডার সংরক্ষণ এবং আউটকাম-বেজড এডুকেশন কারিকুলাম বাস্তবায়নে কাজ করব। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের আইসিটি ও এআই ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষকদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং, নিয়মিত কোর্স ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন, অ্যালামনাই সার্ভে, মানসম্মত গবেষণা প্রকাশনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক র্যাংকিং উন্নয়নে উদ্যোগ নেব। এসব কার্যক্রমে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়নে কাজ করে যাব।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নয়াদিল্লি দুই দেশের বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সকল দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের সাধারণ অবস্থান হচ্ছে—ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখা। ভারতের লক্ষ্য হলো এ সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য থাকলে তা জানানো হবে।
এছাড়া, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মুখপাত্র আরও বলেন, ভারত দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মধ্যেই সকল দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বিদ্যমান। ভারতের বহুপক্ষীয় বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’তে বাংলাদেশের সি-১৩০জে পরিবহন বিমান অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের মূল অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে—নয়াদিল্লি একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় আলোচিত ইয়াশাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনজীবী লড়বেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। এই সিদ্ধান্ত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোলায়মান, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আলোচনা সভায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।’
আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আসামির পক্ষে কেউ না দাঁড়াই, তাহলে রাষ্ট্র নিজেই আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবে। কারণ একতরফা বিচার হলে সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ