প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাবরেটরি ও অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে দিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ল্যাবরেটরি নিরাপত্তা, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ, জরুরি অবস্থায় করণীয় এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ধারণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে ইসলামী ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার প্রথম পর্বে ‘Laboratory and Fire Safety: Prevention, Preparedness and Emergency Response’ শীর্ষক আলোচনায় ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মামুন আল রশিদ বক্তব্য রাখেন। এই পর্বে ল্যাবরেটরিতে নিরাপদ কাজের পদ্ধতি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় পর্বে ‘Fire Safety, Emergency Response and Practical Demonstration’ শীর্ষক একটি ব্যবহারিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসাইন এই পর্বটি পরিচালনা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন নেভানোর বিভিন্ন পদ্ধতি এবং জরুরি অবস্থায় নিরাপদে করণীয় বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
ইসলামী ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি জুনায়দুল মুস্তাফার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান আলী এবং অধ্যাপক ড. মো. মামুন আল রশিদ। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসানুল হক।
কর্মশালায় কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসাইন মন্তব্য করেন, ফায়ার সার্ভিস শুধুমাত্র একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান নয়; বরং যেকোনো দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পদ রক্ষার মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটার পর উদ্ধারকাজের চেয়ে দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ল্যাবরেটরি বা কেমিক্যাল ফায়ার ফাইটিং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিশেষায়িত কাজ। সাধারণ আগুন নেভানোর তুলনায় এ ধরনের আগুন মোকাবিলায় ভিন্ন কৌশল, প্রশিক্ষণ এবং সতর্কতার প্রয়োজন হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান পরিবার ও সমাজের অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাদের উদ্যোগী হতে হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার সময় সাধারণ মানুষ আন্তরিকভাবে উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় যানজট এবং অপরিকল্পিত সড়কব্যবস্থার কারণে দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পৌঁছাতেও বিলম্ব ঘটে। তাই প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে আরও কয়েকজনকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা দুর্যোগের সময় কার্যকরভাবে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করতে পারে।
তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মশালা থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি জনসেবামূলক এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ ও সামগ্রিক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা দুর্যোগের সময় সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা করলে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন