বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:২০ পি.এম
বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের ছাত্রাবাসের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
এটি বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার (ডিগ্রি) হলের ডি ব্লকে ঘটে।
শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, শতবর্ষী ডিগ্রি হলটি বর্তমানে অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা অনেক দিন ধরে খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও রড বের হয়ে ঝুলছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি চুঁইয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি অযোগ্য ও বিপজ্জনক অবস্থায় থাকলেও শিক্ষার্থীরা এখানে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল সুপারের কক্ষে গিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।
দুর্ঘটনায় আহত হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জানান, বিকেলের দিকে তিনি ইনকোর্স পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তারার খসে তার ওপর পড়ে।
তিনি বলেন, একটুর জন্য মাথার ওপর পড়েনি। দীর্ঘদিন ধরে হল প্রশাসনকে এ ও ডি ব্লকের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে আসছে।
ডিগ্রি হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, এই ছাত্রাবাসটি যেন এক মরণফাঁদ। প্রায়ই এর ছাদ ধসে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
ডিগ্রি হলের সুপার এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ— এটি কর্তৃপক্ষ জানে। শিক্ষার্থীরা আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। আপাতত জরাজীর্ণ কক্ষগুলোর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ কক্ষে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষ ও প্রকৌশল দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পলেস্তারা পড়ে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডিগ্রি হলের পুরোনো ভবনটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে আগেই জানানো হয়েছিল। আমরা ভবনটি নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারে ইনানী সৈকতের কাছে একটি মাঠ থেকে পাঁচতারকা এক হোটেল কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে উখিয়া উপজেলার ইনানী সৈকতের পূর্ব পাশের পাঁচতারকা হোটেল বে-ওয়াচের স্টাফ কোয়ার্টারের পাশের খালি জায়গা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে আজ দুপুরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত আবদুল আজিজ (২৭) উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা রশিদ আহমদের ছেলে। তিনি হোটেল বে-ওয়াচের গরুর খামার পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী সায়কা ইয়াছমিন বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যান আজিজ। পরে বুধবার বেলা ১১টার দিকে তার সঙ্গে আমার মোবাইলে সর্বশেষ কথা হয়। দিবাগত রাত ১টার দিকে খবর পাই, আজিজের লাশ মাঠে পড়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় এক বছর ধরে আজিজ হোটেল বে-ওয়াচে চাকরি করছেন। তিনি হোটেলের স্টাফ কোয়ার্টারে থাকতেন এবং হোটেলের গরুর খামার দেখাশোনা করতেন।
স্ত্রী সায়কা ইয়াছমিন বলেন, আমাদের সংসারে তিনটি মেয়ে রয়েছে। সন্তানদের নিয়ে কী করব ভেবে পাচ্ছি না।
নিহতের পরিবারের দাবি, আজিজকে মারধর কিংবা শ্বাসরোধে হত্যার পর খোলা মাঠে ফেলে রেখে গেছে হত্যাকারী। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উন্মোচন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
হোটেল বে-ওয়াচের উপমহাব্যবস্থাপক এনায়েত উল্লাহ বলেন, নিহত আবদুল আজিজ গরুর খামার দেখাশোনা করতেন। তিনি এখানকার স্থানীয়। তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হোটেলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে হোটেল বে-ওয়াচের স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গায় আবদুল আজিজের মরদেহ পড়ে ছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের পর মূল রহস্য জানা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার হরিণটানা থানার ময়ূর আবাসিক এলাকার একটি লেক থেকে ১৩ বছর বয়সী শোয়েব নামে এক মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, শিশুটি বুধবার বিকেলে তার বাবার কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে বাইরে ঘুরতে বের হয়েছিল। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসী ময়ূর আবাসিক এলাকার লেকে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মরদেহটি উদ্ধার করে।
ওসি আরো জানিয়েছেন, নিহতের মাথায় হালকা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা, না কি কেউ তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে, এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মরদেহটি এখন ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শোয়েব খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেইন গেটের বিপরীত পাশে অবস্থিত ফজলুল উলুম বহুমুখী মাদরাসার হাফেজি শাখার ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগে ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
একই দিন দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠেনোর নির্দেশ দেন। এর আগে বুধবার বিকেলে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া (৫০) উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর আব্দুল লতিফ গত প্রায় দুই বছর ধরে নিজের মেয়েকে বিভিন্নভাবে উক্ত্যত করত। এরপর ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত একাধিকবার ভিকটিমকে ধর্ষণ করেন।
একপর্যায়ে মেয়ে বিষয়টি তার চাচা ও জেঠাদের জানালে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে সেনবাগ উপজেলা জামায়াত নেতা মাওলানা হানিফ ও ডুমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটুর নেতৃত্বে ভিকটিমের ঘরে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে অভিযুক্তকে ৩৩ বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো ও নাকে খত দেওয়া হয়। সালিশের বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি আব্দুর রহিম সরকার আরও বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ভুক্তভোগী কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাথায় গুলির ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেটের স্প্লিন্টারের চিহ্ন রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের মাঠে গুরুতর আহত হয়ে যে জাতীয় পতাকা বেঁধেছিলেন মাথায়, সেই পতাকা রক্তে ভিজে গিয়েছিল। সেই রক্তমাখা পতাকা হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শেখ আজিজুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়েছে। এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আজিজুরের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। আজিজুরের ইচ্ছা ছিল ওই পতাকাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়ার। আজ তিনি মাথায় বাঁধা সেই পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন, সেই পতাকাটি রক্তক্ষরণ ঠেকাতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
সম্প্রতি আজিজুরকে নিয়ে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি’—এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংবাদটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খোঁজ-খবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর সাক্ষাতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজিজুরকে নিয়ে আসা হয়।
এসময় প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে আজিজুরের দুঃখ কষ্টের কথা শোনেন। তার আহত হওয়ার ঘটনা, লেখাপড়া, বর্তমান জীবনযাপন এবং সিএনজি চালিয়ে শিক্ষাজীবনের খরচ চালানোর বিষয়সহ তার চিকিৎসার বিস্তারিত জানেন। তার জীবন সংগ্রামের কাহিনী শুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভীষণভাবে ব্যথিত হন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শেখ আজিজুর রহমান বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে আনন্দিত এবং আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। নিজের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং তার খোঁজখবর নিয়েছেন; এটিকে জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন তিনি।
আজিজুর বলেন, এই পতাকাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।
আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
এতো অনেক ত্যাগ আর অবদানের পরেও যিনি, সেই যোদ্ধা ছাত্রদল করার কারণে দীর্ঘ দুই বছরেও জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। সংসার ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে তাকে সিএনজি স্টিয়ারিং ধরতে হয়েছে। জীবনটা কেটেছে নানা ঘাতপ্রতিঘাতে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ আন্দোলনে মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় মাথার গুলির ক্ষত ঢাকতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে নেন। সেই পতাকাটি রক্তে ভিজে যায়। তবুও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। ১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান। তবুও ছাত্রদল করায় তার জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ