প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মাথায় গুলির ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেটের স্প্লিন্টারের চিহ্ন রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের মাঠে গুরুতর আহত হয়ে যে জাতীয় পতাকা বেঁধেছিলেন মাথায়, সেই পতাকা রক্তে ভিজে গিয়েছিল। সেই রক্তমাখা পতাকা হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শেখ আজিজুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়েছে। এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আজিজুরের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। আজিজুরের ইচ্ছা ছিল ওই পতাকাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়ার। আজ তিনি মাথায় বাঁধা সেই পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন, সেই পতাকাটি রক্তক্ষরণ ঠেকাতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
সম্প্রতি আজিজুরকে নিয়ে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি’—এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংবাদটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খোঁজ-খবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর সাক্ষাতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজিজুরকে নিয়ে আসা হয়।
এসময় প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে আজিজুরের দুঃখ কষ্টের কথা শোনেন। তার আহত হওয়ার ঘটনা, লেখাপড়া, বর্তমান জীবনযাপন এবং সিএনজি চালিয়ে শিক্ষাজীবনের খরচ চালানোর বিষয়সহ তার চিকিৎসার বিস্তারিত জানেন। তার জীবন সংগ্রামের কাহিনী শুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভীষণভাবে ব্যথিত হন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শেখ আজিজুর রহমান বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে আনন্দিত এবং আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। নিজের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং তার খোঁজখবর নিয়েছেন; এটিকে জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন তিনি।
আজিজুর বলেন, এই পতাকাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।
আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
এতো অনেক ত্যাগ আর অবদানের পরেও যিনি, সেই যোদ্ধা ছাত্রদল করার কারণে দীর্ঘ দুই বছরেও জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। সংসার ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে তাকে সিএনজি স্টিয়ারিং ধরতে হয়েছে। জীবনটা কেটেছে নানা ঘাতপ্রতিঘাতে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ আন্দোলনে মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় মাথার গুলির ক্ষত ঢাকতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে নেন। সেই পতাকাটি রক্তে ভিজে যায়। তবুও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। ১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান। তবুও ছাত্রদল করায় তার জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন