ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খুলনাঞ্চলে কাঁচা পাটের ৯০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার প্রত্যাশা


খুলনাঞ্চলে কাঁচা পাটের ৯০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার প্রত্যাশা

চলতি বছরে খুলনাঞ্চলের ৪টি জেলায় পাট চাষে বড় সাফল্য এসেছে। গত বছর চাষের জন্য নির্ধারিত জমির চেয়ে এবার শতভাগেরও বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের মতে, ৯০ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন সম্ভাব্য উৎপাদনে ৯০০ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বাণিজ্য হবে। এই অঞ্চলে ইতোমধ্যেই পাট কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকেরা এবার বড় আয়ের আশায় মুখিয়ে আছেন। পাট চাষিরা মনে করছেন, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে তাদের মুখে হাসি ফুটবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ৪ জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ২৮৭ হেক্টর। সেখানে ৩৮ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১ হাজার ২৫৭ হেক্টর, বাগেরহাট জেলায় ১ হাজার ৯২০ হেক্টর, সাতক্ষীরা জেলায় ১১ হাজার ৬১০ হেক্টর এবং নড়াইল জেলায় ২৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে খুলনা জেলায় ১ হাজার ২৩০ হেক্টর (হার ৯৭.৯%), বাগেরহাট জেলায় ১ হাজার ৯৩৯ হেক্টর (হার ১০১.০%), সাতক্ষীরা জেলায় ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর (হার ১০০.৬%) ও নড়াইল জেলায় ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর (হার ১০০.১%) পাট চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার বেশি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

একইভাবে পাট উৎপাদনের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা খুলনায় ২ হাজার ৮০৭ মেট্রিক টন, বাগেরহাটে ৪ হাজার ৪০১ মেট্রিক টন, সাতক্ষীরায় ২৫ হাজার ৬৫২ মেট্রিক টন এবং নড়াইলে ৫৭ হাজার ৬৭৫ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। কৃষি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ৪ জেলার সম্মিলিত সম্ভাব্য উৎপাদন ৯০ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন পাট। এর বিপরীতে সম্ভাব্য আয় নির্ধারণ করা হয়েছে (গত বছরের স্থানীয় মোকামের দর অনুযায়ী, প্রতি মণ ৪ হাজার টাকা) খুলনায় ২৮ কোটি ৬ লাখ ৬২ হাজার ২শ’ টাকা, বাগেরহাটে ৪৪ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার ৪শ’ টাকা, সাতক্ষীরায় ২৫৬ কোটি ৫১ লাখ ৬২ হাজার ৬শ’ টাকা এবং নড়াইলে ৫৭৬ কোটি ৭৫ লাখ ৪৩ হাজার ৬শ’ টাকা। এভাবে ৪ জেলার সম্ভাব্য আয় প্রথমে ৯০০ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ৮শ’ টাকায় পৌঁছাচ্ছে।

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়নের কৃষক শাহাবুদ্দিন জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে পাট কাটা শুরু করতে চান। এই বছর বেশি ভারী বৃষ্টি হওয়ায় সেচের পানির প্রয়োজন হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। উপজেলায় কৃষি অফিস থেকেও সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ ও সহায়তা পেয়েছেন।

উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা ব্লকের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এম. এম আব্দুল্লাহ বাসস’কে জানান, চলতি অর্থবছরে পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হেক্টর, ইতোমধ্যে এটি শতভাগ অর্জিত হয়েছে। এখন পাট কাটার কাজও শুরু হয়েছে।

দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম বাসস’কে বলেছেন, অত্র উপজেলায় চলতি অর্থবছরে পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪০ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা ছিল, যা শতভাগ অর্জিত হয়েছে এবং কৃষকরা এখন পাট কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাটের আঁশ সংরক্ষণের সঠিক প্রক্রিয়ায় কৃষকদের সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জোকারচর গ্রামের কৃষক তৈয়েবুর কাজী জানিয়েছেন, তিনি ৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। প্রতি বছরই তিনি পাটের চাষাবাদ করেন এবং ইতোমধ্যে পাট কর্তন শুরু করেছেন। এ বছর বেশি বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে পানি জমে গাছ ভেঙে পড়েছে। এজন্য পাট কর্তনে খরচ বেশি লাগছে।

কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলী রেজা মিঠু জানান, বড়নাল ইলিয়াছাবাদ ইউনিয়নের দায়িত্বরত ব্লকে চলতি অর্থবছরে পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ২৭ হেক্টর। তিনি জানান, এই বছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে।

কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বাসস’কে জানান, কালিয়া উপজেলায় চলতি অর্থবছরে পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪,৪০৮ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শতভাগ অর্জন সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে পাট কর্তন শুরু হয়েছে। এ বছর উপজেলার ৬৫০ জন কৃষককে পাটের প্রণোদনা হিসাবে (বীজ, ডিএবি ও এমওপি সার) প্রদান করা হয়েছে। কৃষকদের পাট জাঁক দেওয়ার সময় কাদা-মাটি লাগিয়ে পাটের উজ্জ্বলতা না হারানোর বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইল জেলার উপ-পরিচালক মো. আরিফুর রহমান জানান, চলতি অর্থবছরে নড়াইল জেলার পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২৩,৫০০ হেক্টর ছিল, এর বিপরীতে ২৩,৫১৭ হেক্টর অর্জিত হয়েছে। এ বছর পাটের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। পাট চাষে উৎসাহী করার জন্য ৩২০০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসাবে বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষকদের প্রদানকৃত বীজ (তোষা, সবুজ সোনা) চমৎকার ফলন হয়েছে। এ জাতটি আগামী বছর পাট উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আবু সাঈদ শুভ্র জানান, উপজেলায় চলতি অর্থবছরে পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫,০২০ হেক্টর, যা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। ইতোমধ্যে কর্তন শুরু হয়েছে। এ বছর অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে পাট চাষে বিকল্প পানির প্রয়োজন না হওয়ায় কৃষকের খরচ কমেছে। উপজেলায় ৫শ’ জন কৃষককে পাটের প্রণোদনা হিসাবে (বীজ, ডিএবি ও এমওপি সার) প্রদান করা হয়েছে এবং কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা পাট জাক দেওয়ার সময় কাদা-মাটি লাগিয়ে পাটের উজ্জ্বলতা হারাতে না পারে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চল খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বাসস’কে বলেছেন, পাট চাষে আগ্রহী করার জন্য কৃষকদের প্রণোদনা হিসাবে উন্নত জাতের পাটের বীজ ও সার প্রদান করা হচ্ছে। এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় বিকল্প সেচের প্রয়োজন হয়নি। ফলে কৃষকের খরচ কমেছে। চলতি অর্থবছরে পাট আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে।

তিনি আরো যোগ করেন, ইতোমধ্যেই কৃষকরা পাট কাটতে শুরু করেছেন। এই অঞ্চলের পাটের সম্ভাব্য উৎপাদন ও আয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কৃষকদেরকেও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৫ পি.এম


সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০২৬ : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি বলেছেন, পাহাড়ি, বাঙালি কিংবা অন্য যে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ, সকলেই অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই কোনো বৈষম্য নেই, সকলের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষকে সরকার একা ছেড়ে দেবে না। আজ বান্দরবান পৌরসভার আমতলী পাড়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিতে বান্দরবানে এসেছেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বন্যার প্রথম দিন থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থা নিরলসভাবে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বন্যায় আক্রান্ত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জন্য রান্না করা খাবার ও কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানকারীদের জন্য শুকনো খাবার সরবরাহের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিমও কাজ করছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন , আগামী কয়েক দিনের মধ্যে খাদ্য সহায়তা ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারেন এবং তাদের আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব হয়। তিনি বলেন, বন্যায় যেসব পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, সরকারের উদ্যোগে প্রতিটি ঘরবাড়ি পর্যায়ক্রমে মেরামত করা হবে, যাতে মানুষ দ্রুত নিজ বাড়িতে ফিরে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারেন। এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর, এখন বিভিন্ন এলাকায় কাদা, আবর্জনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে রোগব্যাধির ঝুঁকি কমে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দ্রুত বসবাস উপযোগী হয়ে ওঠে। ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেনÑ বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী আসনের তিন পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ও সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় ৩০ জনেরও বেশি বেসামরিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ পি.এম


ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় ৩০ জনেরও বেশি বেসামরিক নিহত

ইরানে কয়েকদিন আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলে দক্ষিণ ইরান অঞ্চলে ৩০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এ সম্পর্কে বুধবার (১৫ জুলাই) ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি এমন তথ্য জানান।

তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি আমাদের সমবেদনা ও সহানুভূতি জানানো হচ্ছে, একইসঙ্গে আমরা নিহতদের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাই।’

এছাড়া তিনি এই অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন যে, ‘সরকার সর্বশক্তি দিয়ে জনগণের পাশে থাকবে।’

মোহাজেরানি উপসংহারে বলেন, ‘দক্ষিণ ইরান এই দেশের স্পন্দনশীল হৃদয়। দক্ষিণ ইরান হল ইরানের আত্মা।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ৬০ দিনের মধ্যে সংঘাত থামানোর আলোচনা হয়েছে, তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সংঘাত শুরু হয়।

ওই সময় ইরানে মার্কিন হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিপুল গাঁজা উদ্ধার, আশুলিয়ায় চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ পি.এম


বিপুল গাঁজা উদ্ধার, আশুলিয়ায় চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা হলেন- শ্রী সম্রাট দাস (২৭), মো. হাবিবুর রহমান (২৮), মো. বিপ্লব (২৪) ও মো. নাদিম হাসান (২১)।

সূত্র জানায়, পুলিশের সুপার শামীমা পারভিনের নির্দেশনায়, আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি অভিযানিক দল জিরাবো এলাকার বিভিন্ন স্থানগুলোতে অভিযান চালিয়ে ৫ কেজির বেশি গাঁজাসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, মাদকমুক্ত এবং সন্ত্রাস দমন কার্যক্রমসহ অপরাধ নির্মূলে আশুলিয়া থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগ, বাংলাদেশের সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিচার শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৩৯ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগ, বাংলাদেশের সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিচার শুরু

দক্ষিণ আমেরিকা ও মেক্সিকো হয়ে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর অভিযোগে টেক্সাসের লারেডোতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী সাইফুল্লাহ আল-মামুন। তার বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের হয়ে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আল-মামুনকে ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয় এবং তিনি লারেডোতে প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির হন। তার বিরুদ্ধে দাখিল করা দ্বিতীয় সংশোধিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আশ্রয় প্রদান করতেন এবং দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতেন।

মামলার নথিতে জানানো হয়েছে, এই মানবপাচার চক্রে মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮) নামে দুটি বাংলাদেশি আরও জড়িত ছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে, মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় অভিবাসীদের রাখা এবং তাদের মন্টেরে শহরে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। অপরদিকে, মোক্তার হোসেন মন্টেরেতে তাদের আশ্রয় দিয়ে রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য নির্দেশনা দিতেন। তদন্তে বলা হয়েছে, নদী পার হওয়া সময় অনেক অভিবাসী গুরুতর ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছেন।

এছাড়া, তদন্তে আরও জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের জন্য অনেক বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করেছেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, আল-মামুনকে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন আগে দোষ স্বীকার করেন এবং প্রত্যেককে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অবৈধ অভিবাসী আনা, অবৈধভাবে অভিবাসী প্রবেশে ষড়যন্ত্র এবং অভিবাসীদের অবৈধ প্রবেশে উৎসাহ ও সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অভিবাসী আনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বাধিক ১৫ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধিও রয়েছে।

মামলার তদন্ত পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই), যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ, কলম্বিয়ার জাতীয় পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস এবং ব্রাজিলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ উক্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা একসাথে কাজ করেছে। ব্রাজিল থেকে অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণে বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই মামলাটি তাদের যৌথ টাস্কফোর্স ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (জেটিএফএ)’ এর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এই টাস্কফোর্স আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের জন্য কাজ করছে।

তবে, বিচার বিভাগ এটাও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, অভিযোগপত্র কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ করে না। আদালতে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুন আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%