০৪:৫৮ পি.এম
নাটোরের লালপুর উপজেলায় লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২১ হাজার গরু হয়েছে। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৪০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে টিকার তীব্র সংকট এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব, সঙ্গে দ্রুত সংক্রমণের কারণে প্রতি দিনেই খামারিরা গবাদিপশু হারাচ্ছেন। এর ফলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অসংখ্য ক্ষুদ্র খামারি।
উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওশারা সুলতানপুর গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি ও দিনমজুর মো. ফিরোজ আলী গণমাধ্যমকে জানান, তার কাছে একসময় পাঁচটি গরু ছিল। কিন্তু লাম্পি রোগের কারণে লোকসানে সেগুলো বিক্রি করে তিনি তিনটি নতুন গরু কিনেন। এর মধ্যে একটি গরুর তিন মাস বয়সী বাছুরটি গত ২৭ দিন ধরে লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়ে আছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে গিয়ে কোনো কার্যকর চিকিৎসা না পেয়ে তিনি নিজেই ঝাড়ফুঁক, হোমিওপ্যাথি ও নিজের খরচে টিকা দিয়ে গরুগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ফিরোজ আলী তার দাবি প্রকাশ করেন যে, সময়মতো সরকারি টিকা পাওয়া গেলে এমন ক্ষতি বেড়ে উঠতো না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পদ্মা তীরবর্তী বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে প্রথম সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। স্থানীয় কৃষক বিল্লাল আলীর দুটি গরুর মৃত্যুর পর এক মাসের মধ্যেই মহারাজপুর, নাগশোষা, কাজীপাড়া, ঘোষপাড়া ও নওশারা সুলতানপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে দ্রুত এই রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় পশু চিকিৎসক মোসলেম উদ্দিন জানান, গত এক মাসেই শুধু বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে ৪৫ থেকে ৫০টি গরু মারা গেছে এবং প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাব অনুসারে স্থানীয়দের দাবি প্রকৃত সংখ্যা এবংও বেশি।
নওশারা সুলতানপুর গ্রামের মো. নুর নবী ঘোষ জানালেন, তার খামারে ছয়টি গরু মারা গেছে এবং আরও তিনটি আক্রান্ত রয়েছে। একই গ্রামের টুটুল ইসলাম, ফিরোজ আলী, শাহানাজ পারভীন এবং আড়বাব ইউনিয়নের মোস্তফাসহ অনেক খামারি অভিযোগ করেছেন, যে পশু হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। অনেকেরই বাধ্য হয়ে হোমিওপ্যাথি, নিমপাতা, ধূপ ও অন্যান্য ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, লালপুরে মোট গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২২টি। এর মধ্যে প্রায় ২১ হাজার গরু লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন, যেখানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু আক্রান্ত। বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ হাজার ডোজ টিকার প্রয়োজন, কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৩৫০ ডোজ। এর ফলে বর্তমানে টিকাদান কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ বলেন, জনবল সংকটের কারণে কিছু তথ্যে গরমিল থাকতে পারে। প্রকৃত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জুলাই মাসের জন্য ২৫ হাজার ডোজ টিকার চাহিদা পাঠানো হলেও এখনো কোনও সরবরাহ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শুভ কুমার দাস খামারিদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি দ্রুত পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা না হয় তবে লালপুরে লাম্পি রোগের এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন