১০:৩৭ পি.এম
পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের লোকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের ভেতরে আটকা পড়েন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। পরে খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাদেরকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার ব্যবস্থা করে।
এই ঘটনা ঘটে বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের আহসানমারা সেতুর উত্তরপাড়ে সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের জগজীবনপুর গ্রামে।
সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে পুলিশ সাত জনকে আটক করেছে, এমনটি জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জগজীবনপুর গ্রামের মাওলানা গোষ্ঠীর কাসেম আলী লোকজনের সাথে দ্বন্দ্ব রয়েছে একই গ্রামের বাদশা গোষ্ঠীর দুলাল মিয়ার লোকজনের। কাসেম আলী ও দুলাল মিয়ার লোকজনের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমা চলছে। পূর্ব বিরোধের প্রেক্ষিতে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এক পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয় ভবনের ছাদে অবস্থান নেয়।
এই সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সংঘর্ষের ঘটনাটি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদকে জানান। শিক্ষক হারুনুর রশিদ ৯৯৯ ফোন করার পরামর্শ দেন এবং বিষয়টি তিনি নিজে সদর থানার পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে আটকে পড়া শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিরাপদে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে আহত এবং পুলিশের হাতে আটককৃতদের নাম জানা যায়নি।
জগজীবনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী ভট্টাচার্য্য বলেন, গ্রামের দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছে। হঠাৎ করে বিকেলে স্কুলের সামনে মারামারি শুরু হয়। আমরা ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ স্কুলে আসে এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের মারামারিতে অনেকে আহত হয়েছে। স্কুলের ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয়ের সামনেই মারামারি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর শতাধিক শিশু ও শিক্ষককে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন