০৬:৫৫ পি.এম
দেশের বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার জন্য সরকারকে আইনি নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল প্যাকেটজাত মাংস আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণের দাবি করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এই নোটিশটি পাঠান। নোটিশের প্রাপক হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সরকারি সংস্থার ছয় কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এই অতিরিক্ত দামের কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য গরুর মাংস ক্রয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে শিশুদের পুষ্টি ও প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
আইনি নোটিশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যেসব দেশে তুলনামূলকভাবে কম খরচে পণ্য উৎপাদন সম্ভব, সেসব দেশ থেকে আমদানি করলে ভোক্তারা কম দামে পণ্যটি পেতে পারেন। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানির উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে কম খরচে গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দিলে দেশের বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চারণভূমির অভাব, পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য এবং গবাদিপশু পালনের ব্যয়ের কারণে মাংস উৎপাদন ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বের কিছু দেশে বিস্তৃত চারণভূমি ও বৃহৎ পরিসরে পশু পালনের সুবিধা থাকায় সেখান থেকে তুলনামূলক কম খরচে মাংস উৎপাদন সম্ভব।
এছাড়া সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে খাদ্য, পুষ্টি ও জীবনধারণের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ, পুষ্টির মান উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
নোটিশে সরকারকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত বা শীতলীকৃত মাংস আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণ এবং প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন