০৯:০৫ পি.এম
প্রথম দুটি ম্যাচ হেরে ইতোমধ্যে জিম্বাবুয়ের কাছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হার নিশ্চিত হয়েছে সফরকারী বাংলাদেশের। এবার টাইগাররা হোয়াইটওয়াশের শঙ্কায় পড়েছে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। প্রথম দুই ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে এবার তারা হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে খেলতে নামবে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বে।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হতে চলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল।
জিম্বাবুয়ে সফরে এসে বাংলাদেশ একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরে শুরু করে সফরটি। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজে টাইগাররা স্পষ্টভাবে ফেভারিট ছিল। কারণ তারা ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজেদের সর্বশেষ চার সিরিজের সবগুলোই জিতে এসেছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানের কাছে হারের পর পরপর চারটি সিরিজ তারা জয়ী হয়েছে। টাইগাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জয় পায়। তবে এই সবগুলো সিরিজই তারা নিজেদের ঘরের মাটিতে জিতেছিল মিরাজ ও হৃদয়ের নেতৃত্বে।
তবে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশ পরাজিত হয়। মাত্র ১৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতায় তারা ১১৬ রানে অলআউট হয়ে ২৫ রানে ম্যাচ হারিয়ে সিরিজ শুরু করে সফরকারীরা।
দ্বিতীয় ম্যাচে তারা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করে। জিম্বাবুয়ের ২৪৭ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ২০৭ রান তুলে জয়ের কাছে ছিল। কিন্তু ২৭ রানে শেষ ৫ উইকেট পতনের ফলে ৪৮.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশ ম্যাচ ও সিরিজ হারায়। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজে পরাজিত হলো টাইগাররা। ২০২২ সালে সর্বশেষ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
সিরিজ হারের জন্য অধিনায়ক মিরাজ ইনিংসের শেষ দিকে টেকসই জুটি গড়তে না পারাকে দায়ী করেছেন। দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেন, ‘উইকেট ভালো ছিল এবং ২৪৮ রানও বেশ ভালো স্কোর। আমাদের ইনিংসে খুব ভালোভাবে বল ব্যাটে আসছিল। যদি আমাদের (শেষের দিকে) ভালো কোনো জুটি গড়তে পারতাম, তবে ফল আরও ভালো হতো। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের আরও ভালো খেলা সম্ভব ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা কোনো জুটি গড়তে পারিনি।’
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ওয়ানডে ইতিহাসে বাংলাদেশ দুইবার জিম্বাবুয়ের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। ২০০১ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের মাটিতে এবং সেই বছর নভেম্বরে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজে টাইগাররা হোয়াইটওয়াশ হয়েছে।
এদিকে, হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান জিম্বাবুয়ের সফরে শেষ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারবেন না। তার বদলীতে ওয়ানডে সিরিজে পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে সুযোগ পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের জয়খাতাই ভারী। ৮৩ ম্যাচ খেলে তারা ৫১টিতে জয় এবং ৩২টিতে পরাজিত হয়েছে টাইগাররা।
বাংলাদেশ দল : মেহেদি হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত (সহ-অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
জিম্বাবুয়ে দল : রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, বেন কারান, ক্রেইগ আরভিন, ব্রাড ইভান্স, ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্লাইভ মাডান্ডে, ওয়েসলি মাধভেরে, টাডিওয়ানাশে মারুমানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, আর্নেস্ট মাসুকু, ব্লেসিং মুজারাবানি, নিউম্যান ন্যামহুরি, সিকান্দার রাজা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন