বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪৩ এম
সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বয়স কম বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। গেন্ডারিয়া এলাকায় ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এটি একটি অভিজ্ঞতাহীন ও ‘খামখেয়ালি’ পদক্ষেপ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন নিলোফার চৌধুরী মনি। গেন্ডারিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইশরাকের নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্স করা অস্ত্র সঙ্গে রাখা আইনগতভাবে বৈধ হলেও, একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা মোটেও সমীচীন নয়।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা কোনো মন্ত্রীর কাজ নয়। ইশরাক হোসেনের বয়স এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা—দুটোই কম। বাবার (সাদেক হোসেন খোকা) পরিচয়ে পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে আসার কারণে তার অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্পষ্ট।
নিলোফার চৌধুরী মনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ইশরাক হোসেন কোনো কুচক্রী মহল বা ‘বুদ্ধিদাতাদের’ উসকানিতে পড়ে এ ধরনের ‘ফিল্মি স্টাইলের’ পদক্ষেপ নিয়েছেন। মাদকবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, মাদকসেবীদের পেছনে এভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে সময় অপচয় না করে মূল মাদক মাফিয়া বা সাপ্লাই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক এমপি-মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে মূল্যায়ন করে তিনি জানান, বিএনপির এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে মনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা শহরের রাজনীতিতে সাদেক হোসেন খোকার সন্তান হিসেবে ইশরাক একটি অত্যন্ত পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। তার মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল সিটি কর্পোরেশন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহানুভূতিশীল অবস্থানকে ‘মাছের মায়ের পুত্রশোক’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, বিএনপিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া এবং আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে ইশরাককে সুকৌশলে উসকে দিয়ে আজকের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়ে থাকতে পারে।
মাদক সমস্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বলেন, মাদক বর্তমান বাংলাদেশের এক নম্বর প্রধান সমস্যা। তৃণমূল থেকে শুরু করে দেশের সর্বত্র মাদকের জাল গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও আমলার নেপথ্য সহযোগিতার কারণে সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শারজাহতে সিরিজ শেষ করার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে ছিল জয় দিয়ে। কিন্তু আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টাইগারদের সেই আশা পূরণ হয়নি। এই পরাজয়ের ফলে বাংলাদেশকে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে কোনো জয় ছাড়াই বিদায় নিতে হলো। আফগানিস্তান ফাইনালে চলে গেল, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে হবে।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শুরুতেই দলটি খেই হারিয়ে ফেলে। নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের চোটের কারণে দলে সুযোগ পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন একাই লড়াই চালিয়ে যান। তিনি ৯৬ বলে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন। তার সঙ্গে ভালো সঙ্গ দেন সাইফ হাসান, যিনি ৪১ রান করেন। পঞ্চম উইকেটে এই দুজনের ৯৩ রানের জুটি ছাড়া আর কেউই সুবিধা করতে পারেননি। নাজমুল হোসেন শান্তর ১৫ রান ছাড়া বাকি ব্যাটারদের মধ্যে দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি, এমনকি ৪ জন রান না করেই আউট হন। ফলে বাংলাদেশ ৪২তম ওভারে ১৬০ রানে অলআউট হয়ে যায়। আফগানিস্তানের রশিদ খান ৪টি উইকেট নেন।
১৬১ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান ৩৯ রানে ২ উইকেট হারায়। দুইটি উইকেটই নেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তবে এরপর রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শাহিদী মিলে আফগানিস্তানকে সহজেই জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। রহমত শাহ ৬৭ রানে এবং শাহিদী ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ৮৭ বল বাকি থাকতেই ৩ উইকেট হারিয়ে আফগানরা জয় নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন ২টি এবং মুস্তাফিজুর রহমান ১টি উইকেট পান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত আট নম্বরে ব্যাট করার জন্য নামা খেলোয়াড়ের মূল দায়িত্ব থাকে উইকেটটি ধরে রেখে রান বাড়ানো। কিন্তু ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম ব্যাট হাতে এমন একটি কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, যা আজও বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য একটি বিস্ময়কর ঘটনা হয়ে রয়েছে। বল হাতে যার বৈচিত্র্যময় সুইং মোকাবেলা করতে ব্যাটাররা হিমশিম খেতেন, সেই ওয়াসিম সেদিন ব্যাট হাতে হয়ে উঠেছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য বীর।
১৯৯৬ সালের ২১ অক্টোবর, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে শেখুপুরা টেস্টে পাকিস্তানের হয়ে আট নম্বরে ব্যাট করতে নামেন অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। মাঠে নামার পর থেকেই তার ব্যাটিংয়ে ছিল প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক মেজাজ ও চমৎকার টাইমিং। জিম্বাবুয়ান বোলারদের বিরুদ্ধে একের পর এক বল সীমানা পার করতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৬৩ বল খেলে ২৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন এই বাঁহাতি। তার এই ইনিংসে ছিল ২২টি চার ও ১২টি ছক্কার মার। টেস্ট ইতিহাসে আট নম্বর ব্যাটার হিসেবে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এছাড়া এক ইনিংসে ১২টি ছক্কা মেরে তিনি ভেঙে দেন ইংল্যান্ডের ওয়ালি হ্যামন্ডের বহু পুরনো বিশ্বরেকর্ড।
ওয়াসিমের এই ঐতিহাসিক ইনিংসে দুর্দান্ত এক সঙ্গ দেন স্পিনার সাকলাইন মুশতাক। একদিকে ওয়াসিমের চার-ছক্কার তাণ্ডব, অন্যদিকে সাকলাইনের চরম ধৈর্য—দুইয়ে মিলে অষ্টম উইকেটে ৩২৩ রানের একটি বিশাল রেকর্ড জুটি গড়ে ওঠে। সাকলাইন ৩৫৯ বল খেলে ৭৯ রান করে দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন।
পাকিস্তানের এমন বিশাল স্কোরের পরেও ম্যাচের ফল আসেনি, টেস্টটি ড্রতেই শেষ হয়। তবে ম্যাচের জয়-পরাজয় ছাপিয়ে ওয়াসিম আকরামের এই ২৫৭ রানের ইনিংসটি ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে লেখা হয়ে যায়। আমরা তাকে মূলত মনে রাখি বিষাক্ত ইয়র্কার ও সুইং বোলিংয়ের জন্য, কিন্তু শেখুপুরের সেই দিনটি প্রমাণ করে দিয়েছিল—তিনি শুধু বল হাতে বিশ্বসেরা ছিলেন না, ব্যাট হাতেও ইতিহাস গড়ার অসাধারণ ক্ষমতা তার ছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের একটি বিশাল অংশ পিএইচপি নামে পরিচিত একটি জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। সম্প্রতি, এই ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত সিকিউরিটি আপডেট করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যারা আপাতত আপডেট করতে সক্ষম হচ্ছেন না, তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিভিন্ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা।
এই সতর্কতা জারির পর, ফিনল্যান্ড সরকার, নেদারল্যান্ডসের জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়ার কিছু অংশ এবং বিবিসির বেশ কিছু জনপ্রিয় অনুষ্ঠানসহ বিশ্বের অনেক সাইট তাদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লুকিয়ে থাকা এই বিপজ্জনক ত্রুটিগুলো মানুষ নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে খুঁজে বের করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট পিএইচপি-র ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা সহজেই মূল সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে অথবা পুরো সাইট অচল করে দিতে পারে।
হোয়াইট হাউস, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের প্রধান সাইবার সংস্থাগুলো এই ঝুঁকি মোকাবেলায় একত্রিত হয়ে কাজ করছে। হ্যাকাররা ইতোমধ্যে কিছু সাইটে আক্রমণ শুরু করেছে বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই ব্যবহারকারীদের দ্রুত তাদের সিস্টেম আপডেট করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ জানিয়েছেন, সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ চলছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেছি, বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমের মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিভাবে ফেক নিউজ, মনগড়া (কনককটেড) নিউজ ও বিকৃত (ডিস্টোর্টেড) নিউজকে আইনের আওতায় আনা যায়। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সব জায়গাতেই একটি সমস্যা। এখানে একটি ব্যালেন্স তৈরি করতে হবে।"
মন্ত্রী আরও বলেন, "একটি হলো স্বাধীন মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা (ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন), অন্যটি হলো এই ধরনের আজেবাজে নিউজ। আমার বিশ্বাস, খুব শীঘ্রই এটি একটি পরিণত পর্যায়ে পৌঁছাবে।"
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ভোলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নেত্রকোনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যার বিচার প্রসঙ্গে আশ্বাস প্রদান করে মন্ত্রী বলেন, "এ বিষয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সঠিক তদন্ত করবে এবং আইন সবার জন্যই সমান। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আইন সমান। তাই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সারদীয় উৎসবের সার্বিক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি যে জাতীয়তাবাদী সরকার সহমত ও সহ-অবস্থানে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে হিন্দু মুসলমান অত্যন্ত সুন্দরভাবে আন্তরিকভাবে একই ছাদের নিচে থাকতে পারি। আমরা নিজেদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারি।"
এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ